Published : 27 Sep 2024, 11:12 PM
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীতে হিজবুল্লাহর কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর লক্ষ্য করে তুমুল বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। দফায় দফায় শোনা যাচ্ছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ।
হিজবুল্লাহর আল মানার টিভি’র খবরে বলা হয়েছে, হামলায় চারটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একের পর এক বিমান হামলায় হতাহতের বহু ঘটনা ঘটেছে।
এই হামলা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের এক বড় ধরনের সংঘাত। টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের এলাকার অনেক ভেতরে রয়েছে হিজবুল্লাহর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার।
আল-মানার টিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাস্থলে অন্তত একটি গর্ত রয়েছে। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলেছে, হামলা চলছে এমন একটি এলাকায় যেখানে সাধারণত শীর্ষ হিজবুল্লাহ কর্মকর্তারা থাকেন।
হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে প্রায় ১ বছরের সংঘাতে বৈরুতে এটিই সবচেয়ে ভারি হামলা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ ভাষণে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করার পর বৈরুতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই তুমুল বিমান হামলা শুরু হয়েছে।
লেবাননের স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবমতে, গত সোমবার থেকে ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৮ শ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কোনও লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
লেবাননে তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব গত বুধবারই দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদেশ। কিন্তু যুদ্ধবিরতির সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ বলেছেন, “কোনও যুদ্ধবিরতি হবে না।”
গত প্রায় এক বছর ধরে গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে হামাসকে সমর্থন জানিয়ে প্রায় এক বছর ধরে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রকেটে, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত লেবাননি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলেও পাল্টা গোলা ছুড়ে ও বিমান হামলা চালিয়ে জবাব দিয়ে এসেছে।
দুইপক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও বেশি বেড়ে গেছে এ সপ্তাহে। নতুন এই সংঘাতে দুইপক্ষের লড়াই পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে আর তাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা বাড়ছে।