১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কথিত মাদক নৌযানে মার্কিন হামলাকে ‘স্বৈরাচারি কাজ’ বললেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

গুস্তাভো পেট্রো বলেছেন, মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহ হওয়া স্পিডবোট আটকানোর মাধ্যমে ‘মৃত্যু শূন্যতে’ নামিয়ে আনা উচিত।

কথিত মাদক নৌযানে মার্কিন হামলাকে ‘স্বৈরাচারি কাজ’ বললেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম বার্ষিক অধিবেশনে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Sep 2025, 03:15 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:21 PM

ক্যারিবিয়ান সাগরে কথিত মাদক পাচারকারী নৌযানে মার্কিন বিমান হামলাকে ‘স্বৈরাচারি কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো। 

তিনি নিউ ইয়র্কে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, তদন্তে যদি দেখা যায় ওই হামলাগুলোতে কলম্বিয়ানরা নিহত হয়েছেন তবে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের আহ্বান জানাবেন।  

যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানাইল ও অন্যান্য অবৈধ মাদকের প্রবাহ বন্ধ করার প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ওই হামলাগুলো চালানো হয়। চলিত মাসে শুরু হওয়ার পর থেকে এ ধরনের অন্তত তিনটি হামলায় ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে। 

এসব হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা ও আইনপ্রণেতারা।  

“আপনি যদি খুব সহজেই একটি নৌযানকে থামাতে ও এর ক্রুদের গ্রেপ্তার করতে পারেন তাহলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছেন কেন? এটাকে খুনই বলা হবে,” বলেন পেট্রো 

বুধবার বিবিসিকে পেট্রো বলেন, মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহ হওয়া স্পিডবোট আটকানোর মাধ্যমে ‘মৃত্যু শূন্যতে’ নামিয়ে আনা উচিত।  

তিনি বলেন, “সমুদ্রপথে কোকেন জব্দ করার ক্ষেত্রে আমেরিকান সংস্থাগুলো ও অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে আমাদের। এর আগে কখনো কারও মৃত্যু হয়নি। কাউকে হত্যা করার কোনো দরকার নেই।”  

পানামা খালের প্রবেশ পথের কাছে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। ছবি: রয়টার্স 

পানামা খালের প্রবেশ পথের কাছে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

তিনি জানান, বলের আনুপাতিকতার নীতি লঙ্ঘিত হবে ‘যদি পিস্তলের চেয়ে বেশি কিছু ব্যবহার করা হয়’।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ওই আঘাতগুলো হানার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কলম্বিয়ার প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলার দিকেই মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হামলার লক্ষ্যস্থলগুলো আর এতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের বিষয়ে খুব কম তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম হামলার ক্ষেত্রে লক্ষ্যস্থল নৌযানের আরোহীরা ট্রেন দ্য আরাগুয়া অপরাধী দলের সদস্য ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। 

ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা এসব হামলার বৈধতা কী, তা হোয়াইট হাউজের কাছে জানতে চেয়েছে। আর জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এক বিচারবহির্ভূত হত্যা বলে বর্ণনা করেছেন। 

পেট্রোর এসব মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্নে হোয়াইট হাউজ বলেছে, “আমাদের দেশকে মাদকে সয়লাব হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে আমেরিকার শক্তির প্রত্যেকটা উপাদান ব্যবহার করার এবং যারা দায়ী তাদের বিচারের হাতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন (প্রেসিডেন্ট) ট্রাম্প ।”  

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাওয়া পেট্রো অভিযোগ করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তার লোকজনকে অপমান করছে। 

তার দেশের মতো দক্ষিণ আমেরিকার জাতিগুলো ‘রাজার কাছে মাথা নোয়াবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।