Published : 15 Aug 2025, 01:03 PM
ভারতের কাশ্মীরের চাশোতি গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে সৃষ্ট হড়কা বানে মৃত্যু বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে।
কিশতওয়ার জেলার দুর্গম এ গ্রামটিতে বছরের এ সময় হিন্দু তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা বেশি থাকে। এ গ্রাম থেকেই শুরু হয় মচাইল মাতা যাত্রা। হিমালয়ের কোলে কিশতওয়ারের মাতা চন্ডীর মন্ডপে যেতে চাইলে চাশোতি পর্যন্তই সর্বশেষ মোটরগাড়িতে যাওয়া যায়।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বন্যার পানিতে একাধিক গাড়িকে ভেসে যেতে, কাদায় চাপা পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা, রাস্তায় লোকজনের কান্নাকাটির চিত্র দেখা গেছে।
উদ্ধারকর্মীরা এর মধ্যেই কয়েক ডজন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করেছে; এখনও শতাধিক নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বৃহস্পতিবারের মেঘভাঙা বৃষ্টিকে ‘ভয়াবহ মাত্রার’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চাশোতির অনেক জায়গায় পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে।
একটি সড়ক ভেসে গেছে, আবহাওয়াও হেলিকপ্টার নামার জন্য উপযুক্ত নয়, বলেছেন তিনি।
হড়কা বানে একটি বড় কমিউনিটি কিচেনও ভেসে গেছে বলে এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। গ্রামটিতে যাওয়া তীর্থযাত্রীরা সাধারণত ওই কিচেনেই লাঞ্চ করতেন।
এ ঘটনাকে ‘বেদনাদায়ক’ অ্যাখ্যা দিয়ে শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ‘সম্ভাব্য সব ধরনের’ সহায়তা দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারতের উত্তরাঞ্চলের একাধিক এলাকায় তুমুল বৃষ্টিপাত এবং তার কারণে সৃষ্ট হড়কা বান দেখা গেছে।
এ মাসের শুরুর দিকে একইরকম মেঘভাঙা বৃষ্টিতে সৃষ্ট হড়কা বানে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের ধরলী গ্রামের অর্ধেক ডুবে গিয়েছিল। মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে ৬৬ জন নিখোঁজ বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে আনন্দবাজার।