Published : 13 Jan 2026, 07:05 PM
চীনের বিরল খনিজের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে ওয়াশিংটনে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছে জি৭ ও অন্যান্য প্রধান দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা।
সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আয়োজিত এ বৈঠকে বিরল খনিজের জন্য ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ এবং নতুন বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।
বৈঠকে জি৭ সদস্য দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা) ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা সাংবাদিকদের বলেন, "চীনের ওপর থেকে নির্ভরতা দ্রুত কমানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।" তিনি চীনের বাইরে বিরল খনিজ সরবরাহ বাড়াতে জি৭ ও সমমনা দেশগুলোর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নীতির রূপরেখা তুলে ধরেছেন বলে জানান।
জাপানি মন্ত্রী সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা, কর ছাড় এবং প্রয়োজনে বিরল খনিজগুলোর ‘ন্যূনতম মূল্য’ নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাছাড়া শ্রমমান ও মানবাধিকারকে সম্মান দেখানোর মতো মানদণ্ডের ভিত্তিতে বাজার সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।
এই বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিলিয়ে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের দাপট আছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, তামা, লিথিয়াম, কোবাল্ট, গ্রাফাইট এবং বিরল মৃত্তিকার ৪৭ শতাংশ থেকে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধিত হয় চীনে। এই খনিজগুলো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ব্যাটারি তৈরির জন্য অপরিহার্য।
সম্প্রতি জাপানে সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন কিছু খনিজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিবর্তে ঝুঁকি কমিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করার আহ্বান জানান।
জার্মান অর্থমন্ত্রী লার্স জানান, ২০২৬ সালে ফ্রান্সের জি৭ প্রেসিডেন্সির অধীনে এই খনিজ সরবরাহের বিষয়টিই মূল আলোচনায় থাকবে।
তবে তিনি চীনের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘জোট’ গড়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইউরোপকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য দ্রুত কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, "অভিযোগ বা আত্মতৃপ্তি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, আমাদের সক্রিয় হতে হবে।"
দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থমন্ত্রী কু ইউন-চেওল খনিজ সম্পদ পুনর্চক্রায়ন বা ‘রিসাইক্লিং’-এর মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া এক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছে।