Published : 26 May 2025, 03:49 PM
নাইজেরিয়ার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের নিষিদ্ধঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইন্ডিজেনাস পিপল অব বিয়াফ্রার (আইপিওবি) ‘ঘরে বসে থাকা’ আন্দোলনকে ঘিরে ওই অঞ্চলে গত চার বছরে সাত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে একটি ইন্টেলিজেন্স কনসালটেন্সি।
আইপিওবি নাইজেরিয়ার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতার জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছে। ওই অঞ্চলটিতে প্রধানত ইগবো জাতিগোষ্ঠীর লোকজন বসবাস করে। নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ আইপিওবিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করেছে।
রয়টার্স ইন্টেলিজেন্স কনসালটেন্সি এসবিএম এর প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ওই এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি সোমবার ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আইপিওবি, কিন্তু যারা তাদের এই আদেশ অমান্য করেছে তাদের হত্যার পাশাপাশি নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা আর এসব ঘটনার ফলাফলেই ওই সাত শতাধিক মানুষদের মৃত্যু হয়েছে।
এসবিএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আন্দোলন সফল করার অংশ হিসেবে আইপিওবি অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও বাছাই করে হত্যার মতো কৌশল প্রয়োগ করছে, এতে ভয়ের একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
“২০২১ সালে ঘরে বসে থাকা আদেশের প্রতি সম্মতির উচ্চ হার ছিল (৮২ দশমিক ৬১ শতাংশ), কিন্তু জরিপে বের হয়ে আসে এখন প্রকৃত সমর্থন অনেক কম (২৯ শতাংশ), অনেকে ভয়ের কারণে নির্দেশ মেনে চলছেন।”
আইপিওবি-র এক মুখপাত্র ওইসব মৃত্যুর জন্য গোষ্ঠীটির দায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি বলেছেন, “আইপিওবিকে অশুভ শক্তি হিসেবে চিত্রিত করা ও ফাঁদের ফেলার জন্য সরকারের নিয়োগ করা অপরাধী ও অপহরণকারীরা ওইসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।”
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের জানানো অনুরোধে নাইজেরীয় সরকার সাড়া দেয়নি।
আইপিওবি ২০২১ সালের অগাস্টে নাইজেরিয়ার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় পাঁচটি রাজ্যে ‘ঘরে বসে থাকা’ প্রতিবাদের ডাক দেয়। এই আন্দোলনে একটি নির্দিষ্ট কর্মদিবসে লোকজন বাড়িতে থাকে, দোকান-বাজার, স্কুল-অফিস বন্ধ রাখে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় সরকারের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
আইপিওবি তাদের কারাবন্দি নেতা নামদি কানুর মুক্তির দাবিতে এই চাপকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। রাজধানী আবুজায় বন্দি কানু সন্ত্রাসের অভিযোগ বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।
আইপিওবি জানিয়েছে, তারা তাদের নেতা কানুর ‘সরাসরি নির্দেশে’ সাপ্তাহিক প্রতিবাদ স্থগিত করে তাকে যেদিন যেদিন আদালতে হাজির করা হবে শুধু সেই দিনগুলোতে ‘ঘরে বসে থাকা’ প্রতিবাদ পালন করবে।
আইপিওবি নিরস্ত্র অসহযোগ আন্দোলন চালালেও তাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী আছে। আবার মূল দলের মধ্যেও কিছু উপদল আছে। এরা সাপ্তাহিক প্রতিবাদের দিনটি সফল করতে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে। তারা সরকারি স্থাপনা ও সরকারপন্থি বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের ওপর হামলাও চালায়।
তবে এসব সহিংসতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে আসছে আইপিওবি। কিন্তু পুলিশ বেশ কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে দলটি জড়িত আছে বলে অভিযোগ করেছে। এগুলোর মধ্যে ২০২১ সালে হওয়া কারাগারে হামলা এবং চলতি মাসের প্রথমদিকে ৩০ জনেরও বেশি ভ্রমণকারীকে হত্যা তার মধ্যে অন্যতম।
তবে আইপিওবি এসব ঘটনায় তাদের কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
এসবিএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওইসব মৃত্যুর পাশাপাশি আইপিওবির প্রতি সোমবার ও কানুর আদালতে হাজিরার দিন ঘরে থাকার নির্দেশের কারণে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় পাঁচ রাজ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ থাকছে আর এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি ৪৭৯ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
১৯৬০ এর দশকে অস্থিরতা কবলিত বিয়াফ্রা গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই যুদ্ধে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।