‘লল, হেই গাইজ’ - টিকটকে প্রথম পোস্ট বাইডেনের

অ্যাকাউন্টটি থেকে পোস্ট করা প্রথম ভিডিও’র ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘লল (লাফ আউট লাউড) হে গাইজ’, যেখানে প্রতিযোগিতাটিতে নিজের পছন্দের দল নিয়ে একটি কুইজে অংশ নিতে দেখা যায় বাইডেনকে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Feb 2024, 12:12 PM
Updated : 13 Feb 2024, 12:12 PM

নিরাপত্তা ঝুঁকিকে কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সরকারি ডিভাইসে টিকটক ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও সম্প্রতি চীনা মালিকানাধীন অ্যাপটিতে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই।

রোববার রাগবি প্রতিযোগিতা সুপার বোল চলাকালীন ‘@bidenhq’ নামের এই অ্যাকাউন্টটি উন্মোচন করেছে বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণা দল।

অ্যাকাউন্টটি থেকে পোস্ট করা প্রথম ভিডিও’র ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘লল (লাফ আউট লাউড) হেই গাইজ’, যেখানে প্রতিযোগিতাটিতে নিজের পছন্দের দল নিয়ে একটি কুইজে অংশ নিতে দেখা যায় বাইডেনকে।

তবে, ২০২২ সালে বেশিরভাগ সরকারি ডিভাইসে টিকটক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিলে স্বাক্ষর দিয়েছিলেন খোদ বাইডেনই।

বিলে স্বাক্ষর করার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যেখানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই গোটা যুক্তরাষ্ট্রে চীনা মালিকানাধীন অ্যাপটি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বেইজিং মার্কিন ব্যবহারকারীদের ডেটায় প্রবেশের সুযোগ পাবে, এমন ঝুঁকির কথা।

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যাপটি এখনও জনপ্রিয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই, আসন্ন নভেম্বরে হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে চাঙ্গা করার লক্ষ্য নিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

তবে মার্কিন গণমাধ্যমের পাওয়া তথ্য অনুসারে, অ্যাকাউন্টটি প্রেসিডেন্ট নিজে নন বরং তার প্রচারণা দলটি চালাবে।

অ্যাকাউন্ট উন্মোচনের ভিডিও’তে বাইডেনকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কোন দল সমর্থন করছেন, ‘ক্যানসাস সিটি চিফস’ না ‘স্যান ফ্রানসিস্কো ৪৯আর্স’। এর জবাবে বাইডেন বলেন, ‘ফিলাডেলফিয়া ঈগলস’। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তার স্ত্রী ‘ফিলি’র মেয়ে’। আর এমনটি না বললে ‘তাকে রাতে একাই ঘুমাতে হবে’।

এ ছাড়া, মার্কিন পপ গায়িকা টেইলর সুইফট ও সুপার বোল নিয়ে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন করা হয় বাইডেনকে। এতে কেউ কেউ দাবি করেন, ‘ক্যানসাস সিটি চিফস’ তারকা ট্র্যাভিস কেলি’র সঙ্গে সুইফটের সম্পর্ক আসলে নভেম্বরের নির্বাচনে বাইডেনকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনার অংশ।

“এ বিষয়ে কথা বললে আমি বিপদে পড়ব,” রসিকতা করে বলেন বাইডেন।

এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা নিয়ে কাজ করা ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ মাইকেল স্টার হপকিনস বলেছেন, ডেটা নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক ডেমোক্র্যাট নেতাই টিকটকে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সন্দীহান।

তবে, তিনি এও বলেন যে, টিকটক যে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোর মতো প্ল্যাটফর্ম, সে বাস্তবতা মেনে নিতে হবে প্রার্থীদের।

“যেখানে ভোটাররা আছেন, আপনাকেও সেখানে থাকতে হবে। আর তারা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে থাকলে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এর সুবিধা পেয়ে যাবে, যা আমাদের কাছে একেবারেই কাম্য নয়,” বলেন তিনি।

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয় পেতে তরুণদের পক্ষেই বাজি ধরেছে বাইডেনের প্রচারণা দল। এমনকি গত নির্বাচনেও বাইডেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাদের।

বস্টনভিত্তিক টাফ্টস ইউনিভার্সিটি’র ‘সেন্টার ফর ইনফর্মেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্ট’র তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রায় অর্ধেক ভোটারই ছিলেন তরুণ। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ভোটার ভোট দিয়েছিলেন বাইডেনের পক্ষে।