৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

শিশুরা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঢুকবে: অফকম

২০২৭ সাল থেকে এই নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের।

শিশুরা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঢুকবে: অফকম

অফকম বলেছে, কিছু অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সিরা এ নিয়ম এড়িয়ে যাবে, যা এক প্রকার ‘অনিবার্য’। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Oct 2026, 05:52 PM

Updated : 30 Oct 2026, 05:52 PM

বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যোগ করা হলে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবটি হয়ত শক্তিশালী। তবে, কিছু সংখ্যক শিশু এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি কীভাবে আসক্তিকর অ্যাপের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক বা ক্ষতিকর উপাদানগুলোর ব্যবহার নির্ভরযোগ্যভাবে সীমিত করতে পারে সে সম্পর্কে বৃহস্পতিবার প্রকাশ পাওয়া এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলেছে অফকম।

ব্রিটিশ সংবাদাম্যধম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, সংস্থাটি ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৬ বছর কি না তা যাচাইয়ের জন্য চারটি পদ্ধতিকে ‘কার্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেমন ছবিসহ পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং চেক, ডিজিটাল আইডি ও মুখের অবয়ব থেকে বয়স নির্ধারণী প্রযুক্তি।

তবে এগুলো ব্যবহার করলেও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি এড়ানোর ঝুঁকি শতভাগ দূর করা সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেছে অফকম।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মেয়াদের শেষদিকে সামাজিক মাধ্যমে বয়সসীমা নির্ধারণের যে প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।

আগামী ২০২৭ সাল থেকে এই নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে এ বছরের শেষদিকেই মন্ত্রীরা এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন করবেন।

গত বছর একই ধরনের একটি নীতি বাস্তবায়ন করেছে অস্ট্রেলিয়া।

অফকম বলেছে, কিছু অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সিরা এ নিয়ম এড়িয়ে যাবে, যা এক প্রকার ‘অনিবার্য’। তবে প্ল্যাটফর্মগুলো যদি কম বয়সি অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করার প্রক্রিয়া সহজ ও অনলাইনে ব্যবহারের ধরন দেখে বয়স নির্ধারণের প্রযুক্তি চালু করে তবে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মুখের অবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে বয়সের বেশ কয়েক বছরের পার্থক্য বা ভুল দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কিছু ব্যবহারকারীকে দ্বিতীয় দফায় নতুন করে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

১৬ ও ১৭ বছর বয়সি প্রায় দেড় লাখ তরুণের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট কোনোটিই নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণ করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

সামাজিক মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিষয়টি সামনে এনেছে অফকম।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডেম মেলানি ডজ বলেছেন, “এই নিষেধাজ্ঞা শিশুদের অনলাইনে ভবিষ্যতের রূপরেখা ঠিক করে দেবে। ফলে এটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

“সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো সঠিকভাবে কার্যকর বয়স যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে এ পদক্ষেপ সফল হতে পারে। আমরা সেসব উপায়ই চিহ্নিত করেছি।

“মদ পানের ক্ষেত্রে যেমন আইন থাকার পরও অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যালকোহল সেবনের প্রবণতা পুরোপুরি ঠেকানো যায় না, তেমনই শিশুরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক।

“তবে প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এ ঝুঁকি কমিয়ে আনার বিভিন্ন উপায়ও খোলা রয়েছে।”

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, সরকারের এসব পরিকল্পনা যখন পার্লামেন্টে উঠবে তখন সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর জন্য একটি খসড়া গাইডলাইন তৈরি হবে, যা পরে জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।