০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

স্টারলিংকের নিজস্ব মোবাইল সেবা চালুর পরিকল্পনা মাস্কের

এর মাধ্যমে মার্কিন বাজারে বড় বড় টেলিকম কোম্পানির শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে স্টারলিংককে দাঁড় করাতে চাইছেন মাস্ক।

স্টারলিংকের নিজস্ব মোবাইল সেবা চালুর পরিকল্পনা মাস্কের

বর্তমানে স্টারলিংক তাদের হাজার হাজার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গ্রাহককে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 06:24 PM

Updated : 05 Nov 2026, 06:24 PM

স্পেসএক্সের স্টারলিংক সেবার জন্য নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক চালুর লক্ষ্যে মার্কিন এক টেলিকম কোম্পানি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন কোম্পানিটির প্রধান ইলন মাস্ক।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ‘ইকোস্টার’-এর ‘বুস্ট মোবাইল’ কেনার পরিকল্পনা বা তাদের সেলুলার নেটওয়ার্ক লিজ নেওয়ার কথা ভাবছেন মার্কিন এই ধনকুবের।

এর মাধ্যমে স্পেসএক্স মার্কিন বাজারে ‘এটিঅ্যান্ডটি’, ‘টি-মোবাইল’ ও ‘ভ্যারাইজন’-এর মতো বড় টেলিকম কোম্পানির শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে স্টারলিংককে দাঁড় করাতে চায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

‘মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর’ হিসেবে পরিচালিত বুস্ট মোবাইলের যুক্তরাষ্ট্রে ৭০ লাখেরও বেশি গ্রাহক রয়েছে।

বর্তমানে স্টারলিংক তাদের হাজার হাজার লো-আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গ্রাহককে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে।

‘বুস্ট মোবাইল’ অধিগ্রহণ করা হলে স্যাটেলাইট ও টেরেস্টিরিয়াল বা ভূ-পৃষ্ঠস্থ অবকাঠামোর সমন্বয়ে এক হাইব্রিড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

প্রতিষ্ঠিত এক মোবাইল ব্র্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে স্পেসএক্স সরাসরি লাখ লাখ গ্রাহক, ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল ও বর্তমান খুচরা নেটওয়ার্কের সুবিধা পেয়ে যাবে।

স্পেসএক্স এরইমধ্যে ‘ভি২’ নামের ৬৫টি স্টারলিংক মোবাইল স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে, যা ‘ডাইরেক্ট টু সেল’ সেবা দিতে পারে।

এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন স্মার্টফোন কোনো ধরনের প্রচলিত মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই সরাসরি স্যাটেলাইটের সাথে যুক্ত হতে পারবে।

সাধারণত যেসব এলাকায় প্রচলিত নেটওয়ার্কের কোনো কভারেজ থাকে না বা সিগনাল পাওয়া যায় না সেসব ‘ডেড জোন’-এ মোবাইল কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করার জন্যই এই প্রযুক্তি নকশা করা হয়েছে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সাহায্যে খুব সহজেই টেক্সট পাঠানো, কল করা ও ডেটা ব্যবহার করতে পারেন।

স্টারলিংকের ওয়েবসাইট অনুসারে, “যেখানে আকাশ দেখা যায়, সেখানেই ‘ডাইরেক্ট টু সেল’ প্রযুক্তি এলটিই ফোনগুলোর সঙ্গে কাজ করে। এর জন্য হার্ডওয়্যার বা ফার্মওয়্যারে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। কোনো বিশেষ অ্যাপেরও দরকার হয় না। এটা টেক্সট, ভয়েস ও ডেটা ব্যবহারের নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করে।”

বর্তমানে সেবাটি একাধিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে মার্কিন কার্যক্রমটি ‘টি-মোবাইল’-এর সঙ্গে কাজ করছে।

‘বুস্ট মোবাইল’ অধিগ্রহণ করা গেলে মার্কিন ওয়্যারলেস বাজারে স্পেসএক্সের সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়া সম্ভব হবে। তবে এই চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু আইনি বা অন্যান্য বাধা থাকতে পারে।

‘বুস্ট মোবাইল’ তাদের নেটওয়ার্ক সক্ষমতা ‘এটিঅ্যান্ডটি’র কাছ থেকে লিজ নিয়ে থাকে এবং স্পেসএক্স যদি ব্যবসাটি অধিগ্রহণ করে তবে বর্তমান সেই চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত নাও হতে পারে।

এ বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্পেসএক্স ও ইকোস্টার।