সঠিক কক্ষপথে স্যাটেলাইট পাঠাতে পারেনি ভারতের রকেট

“শুরুতে পুরো নভোযানই ভালোভাবে কাজ করছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্যাটেলাইট দুটিকে ভুল কক্ষপথে ফেলে আসে এটি।” -- এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন ‘ইসরো’ চেয়ারম্যান এস. সোমানাথ।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 August 2022, 12:42 PM
Updated : 8 August 2022, 12:42 PM

নিজেদের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণের পর সেন্সরে জটিলতা থাকার কারণে সঠিক কক্ষপথে ‘স্যাটেলাইট পেলোড’ পাঠাতে ব্যর্থতার কথা বলেছে ভারত।

রোববার ৭ অগাস্ট, ভারতের দক্ষিণ-পুর্ব উপকুলে অবস্থিত ‘সাতিশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার’ থেকে দুটি স্যাটেলাইট নিয়ে উৎক্ষেপিত এই রকেটটি ছিল ‘স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (এসএসএলভি)’, যার উচ্চতা ১১২ ফুট।

রকেটের তিনটি ‘কঠিন-জ্বালানীযুক্ত’ ধাপ ভালোভাবে পেরোলেও এর চতুর্থ এবং চূড়ান্ত ধাপ, একটি তরল-জ্বালানিযুক্ত ‘ভেলোসিটি ট্রিমিং মডিউল (ভিটিএম)’ বাধার মুখে পড়ে।

উৎক্ষেপণের পাঁচ ঘন্টা পর রকেটের ডেটা হারানোর খবরটি জানিয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো)’-এর কর্মকর্তারা। এর পরপরই ‘ইসরো’ ঘোষণা দেয় যে অভিযানটি ব্যর্থ হয়েছে।

“শুরুতে পুরো নভোযানই ভালোভাবে কাজ করছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্যাটেলাইট দুটিকে ভুল কক্ষপথে ফেলে আসে এটি।” --উৎক্ষেপণের পর এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন ‘ইসরো’ চেয়ারম্যান এস. সোমানাথ।

“স্যাটেলাইটগুলো বৃত্তাকার কক্ষপথের পরিবর্তে একটি উপ-বৃত্তাকার কক্ষপথে স্থাপিত হয়েছে।”

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট স্পেসডটকমের প্রতিবেদন বলছে, এই সব স্যাটেলাইট ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫৬ কিলোমিটার দূরের বৃত্তাকার এক কক্ষপথে বসানোর কথা থাকলেও রকেটটি স্যাটেলাইটগুলো এমন এক কক্ষপথে বসিয়েছে, যেটি ভূপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫৬ কিলোমিটার ও সর্বনিম্ন ৭৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

স্যাটেলাইট বসানো কক্ষপথটি স্থির ছিল না। এ ছাড়া, স্যাটেলাইটগুলোকে অব্যবহারযোগ্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে এরইমধ্যে সেগুলো নামিয়ে আনার কথা বলেছেন সোমানাথ।

টুইটারে ইসরো কর্মকর্তারা বলেছেন, সময়মতো শনাক্ত না করা একটি ‘সেন্সর ব্যর্থতার’ কারণে ভুল কক্ষপথের সমস্যাটি ঘটেছে। এই ব্যর্থতা নিয়ে তদন্তের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

“আমরা এখন যা করতে যাচ্ছি, তা হলো এই নির্দিষ্ট সমস্যাটি চিহ্নিত করা– কেন এটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং অগ্রহণযোগ্য একটি কক্ষপথে চলে গেল।” --বলেছেন সোমানাথ।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এসএসএলভি’ রকেটের দ্বিতীয় পরীক্ষামূলক অভিযানের জন্য সমস্যাগুলো সমাধানে তদন্ত করবে ইসরো।

“কিন্তু ওই সমস্যার জন্য, আমরা আর কোনো অসঙ্গতি দেখতে পাইনি।” --যোগ করেন তিনি।

“এই রকেটে সংযোজিত প্রতিটি নতুন উপাদানই খুব ভালোভাবে কাজ করেছে।”

রোববারের অভিযানটির মূল পেলোড ছিল ১৩৫ কেজি ওজনের পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ‘ইওস-০২’।

“এই ‘মাইক্রোস্যাট সিরিজের’ স্যাটেলাইটে আছে উন্নতমানের ‘রিমোট সেন্সিং অপারেটিং’ ব্যবস্থা, যা ইনফ্রারেড ব্যান্ডে উচ্চমানের স্পাশিয়াল রেজোলিউশন সহ কাজ করে।” --অভিযানটির বর্ণনায় লিখেছেন ইসরো কর্মকর্তারা।

রোববার পাঠানো দ্বিতীয় স্যাটেলাইট ছিল ‘আজাদিস্যাট’ নামে পরিচিত আট কেজি ওজনের একটি কিউবস্যাট। ছোট এই নভোযানে ছিল ৭৫টি আলাদা পেলোড, যা তৈরি করেছেন ভারতজুড়ে থাকা নারী শিক্ষার্থীরা, বিভিন্ন ধরনের "ফেমটো-পরীক্ষা" করার উদ্দেশ্যে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক