ডিপফেইক: ভুয়া ভিডিও কনফারেন্স ডেকে আড়াই কোটি ডলার হাপিস

পুলিশ বলেছে, তারা ঘটনাটি বিশেষ নজরে দেখছে কারণ হংকংয়ে এই প্রথম ভিডিও কনফারেন্সে ডিপফেইক প্রতারণা হয়েছে যা এত বড় অংকের।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Feb 2024, 03:35 PM
Updated : 5 Feb 2024, 03:35 PM

ডিপফেইক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হংকংয়ের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত আড়াই কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা।

এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারকরা কোম্পানির লন্ডনভিত্তিক প্রধান অর্থ কর্মকর্তার রূপে একটি ভিডিও কলে এলে ওই কর্মী প্রতারণার শিকার হন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট। 

কোম্পানির ওই ক্লার্ক একটি ভিডিও কলে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে অন্যান্য কর্মীদের বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে ভেবেছিলেন তিনি। তবে, হংকং পুলিশের তথ্য অনুসারে, তাদের সকলেই ছিল ডিপফেইক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি নকল কর্মী।

"যেহেতু ভিডিও কনফারেন্সে থাকা কর্মীরা দেখতে আসল মানুষের মতোই ছিল, তাদের নির্দেশ অনুসারে ওই ক্লার্ক পাঁচটি স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫টি লেনদেন করেছিলেন, যার মোট পরিমান ছিল ২০ কোটি হংকং ডলার (আড়াইকোটি মার্কিন ডলার)।,” – শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হংকং পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সুপার ব্যারন চ্যান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। 

পুলিশ আরও বলেছে, তারা ঘটনাটি বিশেষ নজরে দেখছে কারণ হংকংয়ে এই প্রথম ভিডিও কনফারেন্সে ডিপফেইক প্রতারণা হয়েছে যা এত বড় অংকের।

এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হওয়া আগের প্রতারণাগুলোতেও ভিডিও কলের ব্যবহার ছিল বলে লিখেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট, তবে সেগুলো গ্রুপ কল ছিল না।

আগের কোনো অনলাইন মিটিংয়ের ভিত্তিতে সেখানে উপস্থিত কোনো কর্মীই ডিপফেইকটি তৈরি করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।

"এবার অনেক লোকের ভিডিও কনফারেন্সে প্রতারণা হলো। দেখা যাচ্ছে, আপনি যাকেই দেখেছেন সবাই ভুয়া," স্থানীয় সংবাদকে বলেন চ্যান।

"আমি বিশ্বাস করি প্রতারক আগে থেকে ভিডিও ডাউনলোড করেছিল। আর তারপর ভিডিও কনফারেন্সে ব্যবহার করার জন্য এআই ব্যবহার করে নকল কণ্ঠস্বর যোগ করেছিল।”

ভিডিও কলে নির্দেশিত প্রায় আড়াই কোটি ডলার লেনদেনের এক সপ্তাহ পরে, কোম্পানির সদর দফতরে কথা বলে ওই কর্মী বুঝতে পারেন যে তিনি বা তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

হংকং পুলিশ আরও বলেছে, প্রতারকরা একই কৌশল ব্যবহার করে কোম্পানির দুইতিনজন কর্মীর কাছে পৌঁছেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে ও এখনও এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

“আমরা প্রতারণার এই নতুন কৌশল সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করতে চাই। আগে আমরা অনুমান করতাম এই প্রতারণাগুলো কেবল দুজন ব্যক্তির ভিডিওকলে হতে পারে। তবে, এ কেসটিতে দেখা যাচ্ছে প্রতারকরা অনলাইন মিটিংয়েও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। তাই অনেক অংশগ্রহণকারীওয়ালা মিটিংয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।,” বলেন চ্যান।

এই ধরনের ডিপফেইক স্ক্যামের শিকার হওয়া এড়াতে, পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে নিয়মিত যোগাযোগের চ্যানেলের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে। এ ছাড়া, অংশগ্রহণকারীরা আসল কিনা তা নিশ্চিত করতে ভিডিও কনফারেন্সের সময় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট।