Published : 16 May 2023, 05:30 PM
সৌরজগতের বাইরে গ্রহাণু বেল্টের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় নিজের দ্বিতীয় যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
‘রিড’ নামে পরিচিত এক ধূমকেতুর আশপাশে পানির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে এ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র।
এই দুরবিন ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড’ ক্যামেরা ব্যবহার করে ‘মেইন বেল্ট কমেট’ নামে পরিচিত গ্রহাণু বেল্টে থাকা ধূমকেতুর আশপাশে প্রথমবারের মতো জলীয় বাষ্প খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
সূর্যের তুলনামূলক কাছাকাছি থাকা ধূমকেতুগুলো পানির বরফ সংরক্ষণ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পূর্ব অনুমান থাকলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো দৃঢ় প্রমাণ ছিল না।
সাধারণত ‘কুইপার বেল্ট’ বা ‘উর্ট ক্লাউড’-এর মতো জায়গাগুলোয় এমন ঘটে থাকে। কারণ, এইসব ধূমকেতু সূর্য থেকে যথেষ্ট দূরে হওয়ায় এগুলোতে বরফ জমে থাকতে পারে।
এইসব অনুসন্ধান অবশ্য নতুন এক ধাঁধার জন্ম দিয়েছে। সাধারণত ধূমকেতুর বাষ্পীভূত উপাদানে ১০ শতাংশ কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকলেও জেমস ওয়েবের যন্ত্রে রিড ধূমকেতুর মধ্যে এমন কিছুই শনাক্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।
এর পেছনে কাজ করা গবেষণা দলটির অনুমান বলছে, কার্বন ডাইঅক্সাইড হয় শত শত কোটি বছর ধরে ছড়ায় বা এটি সৌরজগতের এমন মসৃণ অংশে গঠিত হয়, যেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইডের অস্তিত্ব ছিল না।
মেইন বেল্ট কমেট শ্রেণির শুরু যে ধূমকেতুর মাধ্যমে, সেটি হলো রিড। আর ওয়েব টেলিস্কোপ এইসব ধূমকেতু নিয়ে বিষদ গবেষণা করার মতো প্রথম যথেষ্ট শক্তিশালী যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত।
রিড ধূমকেতুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘাটতির বিষয়টি আকস্মিকভাবে ঘটেছে বা বেল্টের অন্যান্য ধূমকেতুর সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে কি না, তা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এনগ্যাজেট।
গবেষণা দলের সদস্য স্টেফানি মিলাম পরামর্শ দিয়েছেন, এই ধরনের ধূমকেতু সম্পর্কে আরও জানতে একটি ‘নমুনা অভিযান’ সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। আর এটি নিশ্চিতভাবে অন্যান্য মিশনের চেয়েও বাস্তবসম্মত হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এনগ্যাজেট।
কুইপার বেল্ট শুরু হয় নেপচুনের কক্ষপথের প্রায় কিনারা থেকে। আর উর্ট ক্লাউড পৃথিবীর চেয়ে প্রায় দুই আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।