Published : 18 Oct 2023, 01:35 PM
চীনে উন্নতমানের চিপ রপ্তানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়াও।
এএমডি ও ইনটেলের বেলাতেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। এর পরপরই বাজারে বিভিন্ন মার্কিন চিপ কোম্পানির শেয়ারমূল্যও কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
গত অক্টোবর চিপ রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তার মধ্যে থাকা বিভিন্ন ফাঁকফোকর বন্ধ করার লক্ষ্যে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা এল।
বিবিসি বলছে, এই নিষেধাজ্ঞা এমনভাবে নকশা করা, যেটির মাধ্যমে উন্নতমানের চিপ আমদানিতে চীনের সামরিক বাহিনীর রাস্তা বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এনভিডিয়া বলেছে, এতে কোম্পানির দুটি উন্নতমানের এআই চিপ ‘এ৮০০’ ও ‘এইচ৮০০’র বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। চীনা বাজারের জন্য বিশেষভাবে এইসব চিপ বানিয়েছিল কোম্পানিটি। এ ছাড়া, কোম্পানির একটি গেইমিং চিপে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও জানিয়েছে এনভিডিয়া।
অন্যান্য চিপ নির্মাতার ওপর এ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়লেও বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে এনভিডিয়া। কারণ, কোম্পানিটির সামগ্রিক আয়ের ২৫ শতাংশই আসে চীন থেকে। নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই এনভিডিয়ার শেয়ারমূল্য কমেছে চার দশমিক সাত শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ৯৯ শতাংশ আয়ে প্রতিনিধিত্ব করা সংগঠন ‘সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’ বিবৃতিতে বলেছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার কিছু কিছু নির্দেশনা ‘একটু বেশিই কঠোর’, যেটিতে ‘জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি না থাকার পরও মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ইকোসিস্টেমের ক্ষতি করবে’। আর বিদেশের গ্রাহকরাও অন্য কোথাও চিপ খোঁজা শুরু করবেন।
চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, তারা এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ‘কঠোরভাবে প্রতিবাদ’ জানায়। এমনকি ইরান ও রাশিয়ার বেলাতেও ৩০ দিনের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
গ্যালিয়াম ও জার্মেনিয়ামের মতো সেমিকন্ডাক্টর খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদানে দুই মাস আগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছিল চীন।
গ্যালিয়াম ও জার্মেনিয়াম সরবরাহে বিশ্বের শীর্ষ খেলোয়াড় চীন। বিশ্লেষক সংস্থা ‘ক্রিটিকাল র ম্যাটেরিয়ালস অ্যালায়েন্স (সিআরএমএ)’র তথ্য অনুসারে, বিশ্বের ৮০ শতাংশ গ্যালিয়াম ও ৬০ শতাংশ জার্মেনিয়াম উৎপাদন করে দেশটি।
এইসব উপাদান ‘মাইনর মেটাল’ নামে পরিচিত। এর মানে, এগুলোকে সাধারণ পরিবেশে পাওয়া যায় না, বরং প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাপান ও নেদারল্যান্ডসও চীনে চিপ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এমনকি সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ‘এএসএমএল’-এর সদর দপ্তরও নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত।
বিবিসি বলছে, বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির তথাকথিত ‘রিসোর্স ন্যাশনালিজম’ নিয়ে চলমান এই লড়াই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, যেখানে দুই দেশের সরকারই একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়।