১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কীভাবে স্পেসএক্সের বড় চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠল ল্যান্ডস্পেস?

উৎক্ষেপণের পর সফলভাবে পৃথিবীতে পুনরায় ব্যবহারের জন্য ফিরে এলে চীনের প্রথম কোম্পানি এবং স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের পর বিশ্বের তৃতীয় কোম্পানি হবে ল্যান্ডস্পেস।

কীভাবে স্পেসএক্সের বড় চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠল ল্যান্ডস্পেস?
২০১৫ সালে তৈরি হয়েছে বেইজিংয়ে অবস্থিত ল্যান্ডস্পেস কোম্পানিটি। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Dec 2025, 02:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:15 PM

বর্তমানে চীনের সবচেয়ে উন্নত রকেট কোম্পানি হয়ে উঠেছে ল্যান্ডস্পেস। ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা কোম্পানি স্পেসএক্সের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে এ চীনা কোম্পানিটিকে।

ল্যান্ডস্পেস এমন মার্কিন রকেটের ওপর নিজেদের ভবিষ্যৎ বাজি ধরেছে, যেখানে কোম্পানিটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ কমানো ও ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

ল্যান্ডস্পেস কী?

২০১৫ সালে তৈরি হয়েছে বেইজিংয়ে অবস্থিত ল্যান্ডস্পেস কোম্পানিটি। ২০১৪ সালে চীন সরকার যখন বিভিন্ন কোম্পানির মহাকাশ শিল্পে কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয় তখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমদিকের অন্যতম স্টার্টআপ হিসেবে এই খাতে প্রবেশ করে ল্যান্ডস্পেস।

বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি ইউয়ান সংগ্রহ করেছে কোম্পানিটি। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে চীনের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ‘হংশান’, যা ওই সময় ‘সিকোইয়া ক্যাপিটাল চায়না’ নামে পরিচিত ছিল এবং রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কান্ট্রি গার্ডেনের বিনিয়োগ শাখা ও চীনের রাষ্ট্রসমর্থিত ‘চায়না এসএমই ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’।

চীনা কর্পোরেট রেকর্ড অনুসারে, ২০২০ সালে কোম্পানিটি ১২০ কোটি ইউয়ান সংগ্রহ করেছিল এবং গত ডিসেম্বরে এক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তহবিল থেকে আরও ৯০০ মিলিয়ন ইউয়ান পেয়েছে। কোম্পানিটিকে সমর্থন করেছে হুঝোউ ও জিয়াক্সিংয়ের স্থানীয় সরকারও।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে মিথেন ও তরল অক্সিজেনের মাধ্যমে চালিত ‘ঝুকে-২’ নামের রকেট উৎক্ষেপণকারী বিশ্বের প্রথম কোম্পানি হিসেবে পরিচিতি পায় ল্যান্ডস্পেস। এই ক্ষেত্রে স্পেসএক্স ও জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন কোম্পানিদের চেয়ে এগিয়ে ছিল কোম্পানিটি।

ল্যান্ডস্পেসের পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ঝুকে-৩ কী?

বর্তমানে ‘ঝুকে-৩’ নামের বড় একটি রকেটের ওপর মনোযোগ দিয়েছে ল্যান্ডস্পেস। রকেটটি স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি ও পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টন ওজন বহনের জন্য তৈরি হয়েছে, যা ঝুকে-২ এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

উৎক্ষেপণের পর সফলভাবে পৃথিবীতে পুনরায় ব্যবহারের জন্য ফিরে এলে চীনের প্রথম কোম্পানি এবং স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের পর বিশ্বের তৃতীয় কোম্পানি হবে ল্যান্ডস্পেস, যারা এত বড় রকেট বুস্টারকে পুনরায় ব্যবহারের জন্য নামিয়ে আনতে পেরেছে। এটি মহাকাশ শিল্পে কোম্পানিটির জন্য বড় এক অর্জন হবে।

রকেটকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও সাশ্রয়ী করার জন্য চীনের বিভিন্ন মহাকাশ কোম্পানির যে প্রচেষ্টা সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ল্যান্ডস্পেসকে সামনের সারিতে এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে দেশটির বড় বড় রাষ্ট্রীয় মহাকাশ কোম্পানি আরও ধীরে অগ্রসর হচ্ছে।

বর্তমানে যেখানে বিভিন্ন কোম্পানিকে আরও বেশি বৈশ্বিক উৎক্ষেপণ চুক্তি জিততে ও যোগাযোগ ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইটের বহর স্থাপনে সাহায্য করতে চাইছে বেইজিং, ঠিক সেই সময় পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ঝুকে-৩ তৈরির প্রচেষ্টায় ল্যান্ডস্পেস।

ল্যান্ডস্পেসের ঝুকে-৩ সম্পর্কে মাস্ক কী বলেছেন?

বিশ্বজুড়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ও বিনিয়োগ দেখা দিয়েছে। কারণ এ প্রযুক্তি মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের খরচকে বহুলাংশে কমিয়ে দিতে পারে।

এ প্রযুক্তির ইঞ্জিনিয়ারিং অত্যন্ত জটিল। এখনও পর্যন্ত একমাত্র স্পেসএক্সই তাদের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে কাজটি সফলভাবে করতে পেরেছে।

তবে, মাস্কের নজর এড়ায়নি ল্যান্ডস্পেস। গত অক্টোবরে ঝুকে-৩-এর নকশা নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ মাস্ক বলেছিলেন, এ চীনা রকেটটি শেষ পর্যন্ত ফ্যালকন ৯-কে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে নিজেদের স্টারলিংক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক তৈরি চালিয়ে যাওয়ার জন্য ফ্যালকন ৯-এর ওপর নির্ভরশীল স্পেসএক্স। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় অনেক বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে কোম্পানিটির।