২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউনিট্রি কী? কেন চীনের পুঁজিবাজার মাতাচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট খাত?

সাবলীলভাবে চলাফেরা ও কাজ করতে পারে এমন এআইচালিত যন্ত্রের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের আধিপত্য বিস্তার প্রচেষ্টার প্রতীক হয়ে উঠেছে এই কোম্পানি।

ইউনিট্রি কী? কেন চীনের পুঁজিবাজার মাতাচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট খাত?
ইউনিট্রি প্রথম বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় তাদের তুলনামূলক কম খরচের চার পাওয়ালা রোবট, অর্থাৎ ‘রোবট ডগ’ তৈরির মাধ্যমে। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 10:19 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে চীনের প্রথম পুঁজিবাজারভুক্ত হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা কোম্পানি হতে যাচ্ছে ইউনিট্রি।

প্রারম্ভিক শেয়ার বিক্রির প্রতি শেয়ারের দাম ১৫০.৮ ইউয়ান নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি। সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সাংহাই বাজারে তাদের লক্ষ্য শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমপরিমান বিনিয়োগ তোলা।

এর মাধ্যমে ইউনিট্রি চীনের মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

কিন্তু এই কোম্পানিটি সম্পর্কে ঠিক কতটা জানি আমরা?

ইউনিট্রি কী?

২০১৬ সালে প্রকৌশলী ওয়াং সিংসিং-এর হাতে প্রতিষ্ঠিত হ্যাংঝৌভিত্তিক কোম্পানি ইউনিট্রি প্রথম বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় তাদের তুলনামূলক কম খরচের চার পাওয়ালা রোবট, অর্থাৎ ‘রোবট ডগ’ তৈরির মাধ্যমে।

পরবর্তীতে কোম্পানিটির তৈরি ‘জি১’, ‘এইচ১’ ও ‘আর১’ মডেলের হিউম্যানয়েড রোবটগুলো দৌড়ানো, নাচ ও মার্শাল আর্ট দেখানোর মাধ্যমে ইন্টারনেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলেছে।

টেসলা, বস্টন ডায়নামিক্স ও দ্রুত বাড়তে থাকা একঝাঁক স্টার্টআপের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় রয়েছে চীনের কোম্পানিটি, যাদের মূল লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে বাসা-বাড়ি ও শিল্পকারখানার কাজে লাগবে।

২০২৫ সালে ইউনিট্রি’র আয় চার গুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। বেশিরভাগ হিউম্যানয়েড স্টার্টআপ যেখানে লোকসানে রয়েছে, সেখানে ইউনিট্রি লাভজনক কোম্পানি।

তাদের সমন্বিত নিট মুনাফা ছিল প্রায় ৮ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। কোম্পানিটির আয়ের নথির তথ্য অনুসারে, বিদেশি বাজার থেকে বিভিন্ন সময়ে কোম্পানির মোট বিক্রির ৪০ শতাংশেরও বেশি এসেছে।

ইউনিট্রি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মোটর, সেন্সর, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জামের শক্তিশালী নিজস্ব সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনের ওপর ভর করে ইউনিট্রি প্রমাণ করেছে, চীন অন্যান্য দেশের প্রতিযোগীদের চেয়ে কম খরচে আধুনিক রোবট তৈরি করতে পারে।

কোম্পানিটির মূল লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে বাসা-বাড়ি ও শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহৃত হতে পারবে। ছবি: রয়টার্স

কোম্পানিটির মূল লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে বাসা-বাড়ি ও শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহৃত হতে পারবে

পাশাপাশি কোম্পানিটি ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ বা বাস্তব জগতে চলাফেরা ও কাজ করতে পারে এমন এআইচালিত যন্ত্রের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

তবে তাদের এ বাণিজ্যিক সাফল্য এখনও প্রমাণ করে না যে হিউম্যানয়েড রোবট এখনই কোনো মানুষের বিকল্প বা কর্মী হতে প্রস্তুত।

বর্তমানে এসব রোবটের মূল চাহিদা আসছে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো থেকে, যা শিক্ষা, গবেষণা ও প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মানুষের সরাসরি সহায়তা ছাড়া দীর্ঘ সময় জটিল ও ভিন্ন ধাঁচের কাজ করা, সক্ষমতা বা নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে এসব হিউম্যানয়েড রোবট এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

কেন পুঁজিবাজারে ঝুকছে চীনা রোবট নির্মাতারা?

কারখানা বা বাসাবাড়িতে হিউম্যানয়েড রোবটের বাণিজ্যিক চাহিদা নিশ্চিত হওয়ার আগেই প্রকৌশলী, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত ডেটা, এআই মডেল ও নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বছরের পর বছর মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়।

ফলে সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি উন্নয়ন ধরে রাখতে কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজার অর্থ সংগ্রহের অন্যতম বড় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

যেমন, ‘কুয়াভো’ মডেলের হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা কোম্পানি ‘লেজু রোবোটিক্স’ মে মাসে শেনঝেনের ‘চি নেক্সট’ বাজারে নিবন্ধনের আবেদন করেছে।

অন্যদিকে, শীর্ষস্থানীয় সাংহাইভিত্তিক আরেক হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা ‘এজিবট’ জুলাইয়ে হংকং বাজারে আইপিও’র প্রস্তুতি শুরু করেছে।