Published : 01 Sep 2026, 01:07 PM
‘গ্রহ’ পরিবারের সদস্যপদ ২০ বছর আগে হারিয়েছিল প্লুটো। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়নের এক ভোটাভুটিতে সৌরজগতের নবম গ্রহের মর্যাদা হারিয়ে বামন গ্রহ হিসেবে পরিচিতি পায় প্লুটো।
প্লুটোকে বাদ দেওয়ার পর সৌরজগতের গ্রহের সংখ্যা নয়টি থেকে কমে দাঁড়ায় আটটিতে।
দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক থামেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের বড় অংশ ও মানুষের মধ্যে প্লুটোকে গ্রহের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমধ্যম গার্ডিয়ান।
‘ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা’র ‘স্টিফেন ডব্লিউ হকিং সেন্টার ফর মাইক্রোগ্র্যাভিটি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন’-এর পরিচালক ফিলিপ মেটজগার বলেছেন, “তারা গ্রহের যে সংজ্ঞা তৈরি করেছে তা একেবারেই ব্যবহারের উপযোগী নয়। ফলে বিজ্ঞানচর্চায় গ্রহের সংজ্ঞাই সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়েছে।”
মেটজগার সেইসব বিজ্ঞানী ও মানুষের একজন যারা প্লুটোর এ গ্রহের মর্যাদা হারানোকে বড় ধরনের ভুল হিসেবে দেখেন।
কারো কাছে গ্রহের মর্যাদা হারানোর এ ঘটনাই প্লুটোর প্রতি ভালোবাসার মূল কারণ। ১৯৩০ সালে ফ্লোরিডার ফ্ল্যাগস্টাফের ‘লোয়েল অবজারভেটরি’র গবেষণায় প্লুটো আবিষ্কৃত হয়।
‘লোয়েল অবজারভেটরি’র ইতিহাসবিদ কেভিন শিন্ডলার বলেছেন, “প্লুটো অবহেলিত বা পিছিয়ে পড়া সেই ছোট্ট শিশুর মতো, যার পক্ষ নিয়ে অনেকেই কথা বলতে চায়।”
অন্য অনেকের কাছে ‘আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন’ বা আইএইউ-এর সিদ্ধান্ত ও যে প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল সেটাই বিতর্কের প্রধান বিষয়।
লেখক, অভিনেতা ও অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানী লরেল কর্নফেল্ড বলেছেন, “প্লুটোর পক্ষে আমার প্রচারণায় নামাটা শুরু হয়েছিল সেই ভোটের দিন থেকেই। আমার মনে হয়েছিল, একটু দাঁড়ান এখানে ভুল হচ্ছে।”
জুম মিটিংয়ে তাকে একটি টি-শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায় যাতে লেখা ছিল, ‘প্লুটো রেজিস্ট্যান্স, ২০ ইয়ার্স: ২০০৬-২০২৬’।
প্লুটোর মর্যাদা ফিরিয়ে আনার এ আন্দোলন, বিতর্ক ও মাঝেমধ্যে প্রতিবাদ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রেই সীমিত। মেটজগার বলেছেন, “এ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে বড় বিষয়। কারণ গ্রহটি আমাদেরই আবিষ্কৃত।”
তবে গ্রহের অবনমন কি যুক্তরাষ্ট্রের অহংবোধে আঘাত হেনেছিল? মেটজগার বলেছেন, “আমার মনে হয়, কিছুটা এমনটাই ঘটেছিল। তবে তা মানুষের মধ্যে, বিজ্ঞানীদের মধ্যে নয়।”
সম্প্রতি এ প্রচারণা এক ধরনের রাজনৈতিক রূপও পেয়েছে। গেল এপ্রিলে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক সংসদীয় কমিটিকে বলেছেন, তিনি বিষয়টি পুনরায় ভেবে দেখার পক্ষে।
“আমি ‘মেইক প্লুটো এ প্ল্যানেট এগেইন’ বা প্লুটোকে আবারও গ্রহ করার দলের শক্ত সমর্থক।”
২০০৬ সালে আইএইউ-এর সেই ভোটাভুটির পেছনের মূল কারণ ছিল সুদূর এক মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান, যার নাম ‘এরিস’। নেপচুনের ওপারে অবস্থিত কাইপার বেল্টে অবস্থান করছিল এরিস, যেখানে প্লুটোরও অবস্থান।
এরিস আকারে প্রায় প্লুটোর মতোই ছিল তবে আয়তনে খানিকটা ছোট হলেও ভরে বেশি। ওই সময় যুক্তি ছিল, প্লুটো যদি গ্রহ হয় তবে এরিসকেও গ্রহ বলতে হবে। আর এরিস যদি গ্রহ না হতে পারে তবে প্লুটো কীভাবে গ্রহের তালিকায় থাকে?
কাইপার বেল্টে এরিস বা প্লুটোই কেবল একা ছিল না। ওই সময় হাউমিয়া, মেকমেক ও সেডনা’সহ আরও কিছু ছোট মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান মেলে।
তবে কি এগুলোও গ্রহ? নিশ্চিতভাবেই সেখানে এমন আরও অনেক বস্তু খুঁজে পাওয়ার বাকি ছিল। গ্রহের সংখ্যা শত শত হয়ে গেলে স্কুলাবস্থায় শিশুরা কীভাবে সেই তালিকা মুখস্থ করবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
সমস্যার সমাধানে ‘আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন’ বা আইএইউ গ্রহের তিন-দফার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। যেমন, বস্তুটাক অবশ্যই সূর্যের চারপাশে পরিক্রমণ করতে হবে; নিজস্ব অভিকর্ষ বলের প্রভাবে গোলাকার রূপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভর থাকতে হবে এবং এর নিজস্ব কক্ষপথের ‘আশপাশের এলাকা খালি’ করে ফেলতে হবে, অর্থাৎ এর কক্ষপথের এলাকায় অভিকর্ষীয়ভাবে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে হবে।
নেপচুনের ওপারে সন্ধান মেলা কোনো মহাজাগতিক বস্তুই শেষ শর্তটি পূরণ করতে পারেনি। ফলে তালিকা থেকে বাদ পড়ে প্লুটো, বিশেষ করে শেষ শর্তটিই প্লুটোর সমর্থকদের চরম ক্ষুব্ধ করে তোলে।
কারণ, কোনো মহাজাগতিক বস্তুর এর আশপাশ খালি করার সক্ষমতা নির্ভর করে সেই এলাকাটির বৈশিষ্ট্যের ওপর।
লরেল কর্নফেল্ড বলেছেন, “আইএইউ-এর সংজ্ঞার সবচেয়ে বড় ত্রুটি একই বস্তুকে দুটি ভিন্ন কক্ষপথে রাখলে দুই রকম ফল আসবে। এক কক্ষপথে এটাকে ‘গ্রহ’ বলা হবে। আবার অন্য কক্ষপথে রাখলে তা ‘গ্রহ’ হিসেবে বিবেচিত হবে না।”
গ্রহবিজ্ঞানী অ্যালান স্টার্ন বলেছেন, পৃথিবীকেও যদি টেনে নিয়ে প্লুটোর জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়। তবে পৃথিবীও সেই এলাকা খালি করতে পারবে না এবং আইএইউ-এর সংজ্ঞা অনুসারে আর ‘গ্রহ’ থাকবে না।
ফিলিপ মেটজগার বলেছেন, “গোলাকার রূপ নেওয়ার মতো যথেষ্ট বড় নয় এমন ছোট ছোট গ্রহাণুও কোনো তারার খুব কাছাকাছি থাকলে কক্ষপথ খালি করে ফেলতে পারে। এর থেকে প্রমাণ মেলে ‘কক্ষপথ খালি করা’ বিষয়টি গ্রহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে খুব একটা অর্থবহ কোনো মাপকাঠি নয়।”
সমালোচকরা বলছেন, আইএইউ-এর সংজ্ঞাটি বিশেষ এক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। কর্নফেল্ডের ভাষায়, “প্লুটোকে বাদ দেওয়ার জন্যই এ অজুহাত উদ্ভাবন হয়েছিল।”
প্লুটোর এ অবনমন বিজ্ঞানীদের দুটি বিপরীতমুখী দলে বিভক্ত করেছে। একটি প্রচলিত ‘জিওফিজিক্যাল’ বা ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী শিবির, যারা মনে করেন কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ভৌত বৈশিষ্ট্যই এর গ্রহের মর্যাদা নির্ধারণে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
অন্যটি ‘ডাইনামাইসিস্ট’ বা গতিবিজ্ঞানীদের দল, যাদের কাছে বস্তুর অবস্থান, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও এর গতির দিকই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিভাজনকে গ্রহবিজ্ঞানী বনাম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দ্বন্দ্ব হিসেবেও দেখা যায়। মেটজগারসহ অনেক গ্রহবিজ্ঞানীই আইএইউ-এর এই সংজ্ঞা মেনে নেন না।
২০১৫ সালে ‘নিউ হরাইজন্স’ মহাকাশযান প্লুটোর পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী দল সেটিকে নিজেদের বড় জয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, একটি গ্রহের যেসব ভূ-পদার্থবিজ্ঞানগত উপাদান থাকা দরকার প্লুটোর এর সবই রয়েছে।
এতে পর্বত রয়েছে, সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিলছে ও তরল নাইট্রোজেনের ওপর ভাসমান বরফের পাহাড় দেখা গেছে। এখানে জীবনের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব বলেও মনে করা হচ্ছে। এমন বস্তু গ্রহ না হয়ে যায় কীভাবে?
প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে যারা আন্দোলন করছেন তাদের ধারণা, গ্রহ হিসেবে ফিরে এলে বড় কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। তারা এমন এক সংজ্ঞাকে স্বাগত জানান, যা শত শত নতুন বস্তুকে ‘গ্রহ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, তা স্কুলের শিশুদের জন্য তাদের দেয়ালের চার্ট মুখস্থ করা যত কঠিনই হোক না কেন।
‘ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন ইন সেন্ট লুইস’-এর আর্থ, এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস’-এর সহযোগী অধ্যাপক পল বাইর্ন বলেছেন, “সংখ্যা যত বাড়ে ততই ভালো। অফিসিয়ালি পোকেমনের ১ হাজার ২৫টি প্রজাতি রয়েছে। আমি তো এ যাবৎ কোনো শিশুকে বলতে শুনিনি যে সংখ্যাটা অনেক বেশি।”
অন্যদিকে যারা প্লুটোকে গ্রহ বানানোর বিপক্ষে তারা বলছেন, সমস্যাটা কেবল গ্রহের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে নয়, বরং ভৌত বৈশিষ্ট্যভিত্তিক সংজ্ঞায়ন করলে আমাদের চাঁদসহ অন্যান্য উপগ্রহকেও গ্রহের মর্যাদা দিতে হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাইক ব্রাউন বলেছেন, “গ্রহের সংখ্যা বেশি হওয়া নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমার বক্তব্য একটাই, আমরা অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ‘চাঁদ’ কোনো গ্রহ নয়, আর সেই একই যুক্তিতে প্লুটোও গ্রহের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।”
ব্রাউনকে প্রায়শই ‘দ্য ম্যান হু কিল্ড প্লুটো’ বা যে মানুষটি প্লুটোকে হত্যা করেছিল বলে ডাকা হয়। কারণ ২০০৫ সালে এরিস আবিষ্কার করা দলের নেতৃত্বে তিনিই ছিলেন, যা পরবর্তীতে প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা হারানোর প্রক্রিয়া শুরু করে।
এ খেতাবটি তিনি বেশ উপভোগই করেন। তিনি ‘হাও আই কিল্ড প্লুটো অ্যান্ড হোয়াই ইট হ্যাড ইট কামিং’ নামে একটি বইও লিখেছেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাইক ব্রাউন বলেছেন, চাঁদ আকারে প্লুটোর চেয়েও বড়, গোলাকার ও এর জটিল এক ভূ-পদার্থবিজ্ঞানগত ইতিহাস রয়েছে। কক্ষপথ সম্পর্কিত কোনো বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে তা নিশ্চিতভাবেই গ্রহ হওয়ার সব মানদণ্ড পূরণ করবে। বিষয়টি আসলে প্লুটো যদি গ্রহ হতে পারে তবে চাঁদও তাই।
এ বিষয়ে ‘ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন’-এর পল বাইর্ন বলেছেন, “চাঁদকে গ্রহ হিসেবে আখ্যা দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কারণ আমি একইসঙ্গে একজন ভাই ও একজন স্বামী হতে পারি, অর্থাৎ একটি পরিচয় অন্যটির পথে বাধা তৈরি করে না। ফলে চাঁদ একইসঙ্গে উপগ্রহ ও গ্রহ দুটোই হতে পারবে না কেন তা আমি বুঝি না।”
বাইরের পর্যবেক্ষণকারীদের কাছে এ বিতর্কটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নকেন্দ্রিক বলে মনে হতে পারে। প্লুটোর সমর্থকদের দাবি, আইএইউ-এর ভোটাভুটি প্রক্রিয়াগত নিয়ম মেনে হয়নি ফলে তা অবৈধ।
ফিলিপ মেটজগার বলেছেন, “এমন যুক্তি দেওয়া সম্ভব যে তারা কখনোই গ্রহের সংজ্ঞায়নের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট দেয়নি। কারণ তারা প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণই করেনি।”
তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করেন না ব্রাউন। তিনি বলেছেন, “ভোটাভুটি প্রক্রিয়া নিয়ে তারাই অভিযোগ তুলছেন, যারা ফলাফল পছন্দ করেননি।”
এতে প্রশ্ন থেকেই যায়, এ বিতর্কের গুরুত্বটা ঠিক কোথায়?
লরেল কর্নফেল্ড বলেছেন, “এমনটা প্রায় এক ধরনের অভ্যুত্থানের মতো ছিল। এর ফলে শিশুরা এখন কম শিখছে। তারা শিখছে সৌরজগতে গ্রহ কেবল আটটি, আর সেখানেই তাদের শেখা শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
মেটজগারের ভাষ্য, প্লুটোকে বাদ দিয়ে দেওয়া গ্রহের সংজ্ঞাটি সৌরজগৎ সম্পর্কিত এক সেকেলে ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
“বিজ্ঞান যেখানে সৌরজগৎকে এক পরিবর্তনশীল ও বিশৃঙ্খল হিসেবে দেখে, সেখানে তারা সুশৃঙ্খল এক সৌরজগতের পুরানো মানসিকতায় ফিরে গেছে।
“দ্বিতীয়ত, আমার মনে হয় তারা সাধারণ মানুষের ভাবনা অনুধাবন করতে পারেনি। আজকের যুগের মানুষ ১৮০০ সালের মানুষের মতো নয়। বর্তমান মানুষ পরিবর্তনশীল ও জটিল মহাবিশ্বকে খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারে। তবে আমরা তা শেখানোর সুযোগটি হাতছাড়া করেছি।”
প্লুটোর প্রকৃত পরিচয় সবসময়ই রহস্যঘেরা। ১৯১৫ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী পার্সিভাল লোয়েল ইউরেনাস ও নেপচুনের কক্ষপথের কিছু বৈচিত্র্যের ওপর ভিত্তি করে একটি হিসাব প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মহাকাশে ‘প্ল্যানেট এক্স’ নামে নবম এক গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে, যার ভর পৃথিবী ও নেপচুনের মধ্যবর্তী কিছু একটা হবে। ১৯৩০ সালে সেই অনুসন্ধানের ইতি ঘটে। লোয়েলের নামাঙ্কিত মানমন্দির থেকেই আবিষ্কৃত হয় নতুন মহাজাগতিক বস্তু ‘প্লুটো’।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, প্লুটো যাই হোক না কেন তা ‘প্ল্যানেট এক্স’ নয়। নেপচুনের কক্ষপথের বিচ্যুতি ঘটানোর মতো পর্যাপ্ত বড় প্লুটো ছিল না। প্লুটো কেন এত ছোট দেখায় তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন তত্ত্ব দিয়েছিলেন। তবে আসল সত্য আসলেই আকারে খুব ছোট, যা চাঁদের চেয়েও ছোট।
অবশেষে ১৯৯২ সালে জানা যায়, নেপচুনের ভর অতিরিক্ত হিসাব করার ফলেই লোয়েলের গণনায় ভুল হয়েছিল। বাস্তবে ‘প্ল্যানেট এক্স’ বলতে কিছুর অস্তিত্বই ছিল না।
২০০৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ভোটের কারণে হয়ত প্লুটো মানুষের চোখে অবহেলিত ও সহানুভূতিশীল এক চেনা প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। অনেকের মনে হতে পারে, প্লুটো নিজের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি মর্যাদা উপভোগ করে আসছিল।
১৯৩০ সালেই যদি মানুষ আসল সত্য জেনে যেত তবে প্লুটোর পক্ষে গ্রহ হওয়ার ভোট দেওয়া হত কি? আর প্লুটোর সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে কি আবারও নতুন কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়বে?
এমন প্রশ্নে মেটজগার বলেছেন, “মানুষ যার যার অবস্থানে অনড় হয়ে আছে। ২০০৬ সালের তুলনায় আজ যদি আবার ভোট হয় তবে এর ফলাফল আরও কম গ্রহণযোগ্য হবে। ফলে আমরা নতুন কোনো ভোটাভুটি চাই না। আমরা চাই মানুষ বুঝুক যে ভোটাভুটির মাধ্যমে বিজ্ঞানের সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই একটি ভুল কাজ ছিল এবং আমরা আর সেই ভুল করব না। আমরা আবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ধারায় ফিরে যাব।”