Published : 12 Jan 2026, 02:36 PM
বয়স্ক প্রজন্মের তুলনায় জেনারেশন জেড বা জেনজি বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের পাসওয়ার্ড ব্যবহারের অভ্যাস বেশ খারাপ বলেই উঠে এসেছে এক গবেষণায়।
পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ‘নর্ডপাস’-এর গবেষণা অনুসারে, ১৯৯৭ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তি বা জেনজিদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড হল ‘১২৩৪৫’। এরপরেই রয়েছে ক্রমানুসারে সাজানো অন্যান্য সংখ্যার সংমিশ্রণ। এ তালিকায় ‘পাসওয়ার্ড’ শব্দটি রয়েছে পঞ্চম স্থানে। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে ‘স্কিবিডি’ শব্দটি জেনজিদের সপ্তম জনপ্রিয় পছন্দ।
বেবি বুমার বা যাদের জন্ম ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে তাদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ‘১২৩৪৫৬’, যা তুলনামূলকভাবে কিছুটা ‘কম অনিরাপদ’। তবে মিলেনিয়াল ও জেনারেশন এক্স-এর কাছেও এ পাসওয়ার্ডই এক নম্বর পছন্দ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
বিভিন্ন আলোচনায় জেনজি’র বিষয়টি উঠে আসে তাদের ভাষার ব্যবহার নিয়ে। ইংরেজি ভাষাতেই তারা নানা নতুন শব্দ বানিয়ে নিয়েছে। যেমন, সাস মানে সন্দেহজনক, গুচি মানে ভালো মানের, ক্রিঞ্জ মানে বিব্রতকর, নো ক্যাপ মানে তিন সত্যি।
গবেষণায় লেখকরা বলেছেন, “আমরা সাধারণত ধরেই নেই যে, ইন্টারনেটে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম হচ্ছে ‘ডিজিটাল নেটিভ’, যেহেতু অনলাইন দুনিয়ার মধ্যেই বেড়ে উঠেছে তারা। ফলে সাইবার নিরাপত্তা ও এর বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের সহজাত ধারণা রয়েছে। তবে আমাদের গবেষণা এমন ধারণা ভেঙে দিয়েছে।
“সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে জানাতে বছরের পর বছর ধরে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হলেও আমাদের সংগৃহীত তথ্য বলছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তার অভ্যাসে খুব সামান্যই উন্নত হয়েছে।”
বছরের শুরুর দিকে পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট টুল ‘বিটওয়ার্ডেন’-এর করা এক গবেষণার ফলাফলের সঙ্গেও মিলে যায় এ গবেষণা। ওই গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপ চালিয়েছিলেন গবেষকরা।
গবেষণায় উঠে এসেছে, সবচেয়ে কম বয়সীদের মধ্যে ‘পাসওয়ার্ড নিয়ে উদাসীনতা’ সবচেয়ে বেশি। জেনজি উত্তরদাতাদের মধ্যে ৭২ শতাংশই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করেন। এর বিপরীতে, বেবি বুমারদের মধ্যে কেবল ৪২ শতাংশ একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহারের কথা বলেছেন।
পাসওয়ার্ড ব্যবহারের দুর্বল অভ্যাস থাকার পরও গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন পাসকি, বায়োমেট্রিক্স বা আঙুলের ছাপ বা ফেইস আইডি ও টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে জেনজি।
গেল বছরের জুনে গুগলের এক ‘স্ক্যাম রিপোর্ট’ বা প্রতারণা বিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিজেদের লগ-ইন করার প্রাথমিক পদ্ধতি হিসেবে পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি আগ্রহী জেনারেশন এক্স ও বেবি বুমাররা।
গুগলের প্রাইভেসি, সেইফটি ও সিকিউরিটি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভান কস্তোভিনোস বলেছেন, “ডিজিটাল পরিবেশে বড় হওয়া জেনজি ব্যবহারকারীরা পাসওয়ার্ডের মতো সেকেলে নিরাপত্তার বিভিন্ন নিয়ম এড়িয়ে যাচ্ছে এবং এর পরিবর্তে আরও উন্নত ভেরিফিকেশন বা অথেনটিকেশন টুল বেছে নিচ্ছে।
“প্রথম দেখায় নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করাকে দুর্বল নিরাপত্তা সচেতনতা বা পোর হাইজিন বলে মনে হতে পারে তবে আরও আধুনিক সাইন-ইন পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়ার এই মানসিকতা, যা একইসঙ্গে নিরাপদ ও ব্যবহার করাও সহজ তা জেনজিদের জন্য ইতিবাচক একটি দিক।
“পাসওয়ার্ডের মতো পুরানো বিভিন্ন পদ্ধতি মনে রাখা যেমন কষ্টসাধ্য তেমনই এগুলো ফিশিং সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার ও তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে চুরির ঝুঁকিও বেশি।”
ব্যবহারকারীর সুবিধা ও নিরাপত্তা উভয় দিক বিবেচনা করে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে যে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি কাজ করে যাচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম গুগল।