১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পরমাণু বর্জ্যকে বিদ্যুতে পরিণত করলেন বিজ্ঞানীরা

ব্যাটারিটিতে কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থ নেই অর্থাৎ এটিকে ধরা ছোঁয়ার বিষয়টি নিরাপদ। তবে এটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে না।

পরমাণু বর্জ্যকে বিদ্যুতে পরিণত করলেন বিজ্ঞানীরা
ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Feb 2025, 03:34 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:34 PM

পারমাণবিক বর্জ্যকে বিদ্যুতে রূপান্তর করতে পারে এমন এক পারমাণবিক ব্যাটারি তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক এটি।

পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাটারি নিয়ে পরীক্ষা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দল, যেটি ডিভাইসে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাইক্রোচিপকে শক্তি দিতে পর্যাপ্ত পারমাণবিক বিকিরণ সংগ্রহ করতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

চার্জিং বা রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন ছাড়াই কয়েক দশক ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার জন্য পারমাণবিক ব্যাটারি একটি লোভনীয় প্রযুক্তি।

এ যুগান্তকারী ব্যাটারিটি তৈরি করেছেন ‘ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি’র গবেষকরা। তারা বলছেন, ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি থেকে পরিবেষ্টিত গামা বিকিরণ গ্রহণ করে ও সিন্টিলেটর স্ফটিকের মাধ্যমে তা আলোতে রূপান্তরিত করে এই ব্যাটারি। আর এই আলো বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয় সৌর কোষের মাধ্যমে।

“আমরা এমন কিছু সংগ্রহ করছি যা প্রাকৃতিকভাবে বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত এবং এটিকে আমরা গুপ্তধনে পরিণত করার চেষ্টা করছি,” বলেছেন এ গবেষণার প্রধান গবেষক ও ‘ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি’র ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের অধ্যাপক রেমন্ড কাও।

ব্যাটারিটিতে কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থ নেই অর্থাৎ এটিকে ধরা ছোঁয়ার বিষয়টি নিরাপদ। তবে এটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে না। গবেষকরা বলছেন, মহাকাশ ও গভীর সমুদ্র গবেষণার জন্য পারমাণবিক ব্যবস্থায় এসব ব্যাটারি ব্যবহারের কথা ভাবছেন তারা।

‘চতুর্দশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’র অধীনে এই প্রযুক্তিটি তৈরি করা হচ্ছে চীনে। গত বছর বেইজিংভিত্তিক কোম্পানি ‘বেটাভোল্ট’ বলেছিল, ফোন, ড্রোন ও মেডিকেল ডিভাইসের মতো বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগে ব্যাপকহারে এসব পারমাণবিক ব্যাটারি তৈরির আশা করছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও’তে নির্মিত এই প্রোটোটাইপটি প্রায় একটি চিনির ঘনকের আকারের এবং এটি ১.৫ মাইক্রোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, বড় পরিসরে তৈরি এর বিভিন্ন সংস্করণ আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।

‘ওহাইও স্টেট’-এর মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষণা সহযোগী ইব্রাহিম ওকসুজ বলেছেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ফলাফল এটি।

“প্রক্রিয়াটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও পরবর্তী ধাপে আরও বেশি ওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারবে এই ব্যাটারি।”

“এ পারমাণবিক ব্যাটারির ধারণাটি খুবই ফলপ্রসূ। উন্নতির জন্য এখনও অনেক সুযোগ রয়েছে এর। তবে আমার ধারণা, ভবিষ্যতে এ পদ্ধতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সেন্সর শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই নিজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান তৈরি করবে।”

‘সিন্টিলেটর বেইসড নিউক্লিয়ার ফটোভোলটাইক ব্যাটারি অফ পাওয়ার জেনারেশন অ্যাট মাইক্রোওয়াটস লেভেল’ শিরোনামে গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘অপটিক্যাল ম্যাটেরিয়ালস: এক্স’-এ।