বৈশ্বিক স্মার্টফোন সরবরাহে অ্যাপলের কাছে রাজত্ব হারাল স্যামসাং

গত বছরের শীর্ষ পাঁচে জায়গা পাওয়া বাকি স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলো যথাক্রমে শাওমি, অপো ও চীনা ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘ট্রান্সশন’।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Jan 2024, 07:29 AM
Updated : 17 Jan 2024, 07:29 AM

২০২৩ সালটি আইফোনের জন্য বিশাল সাফল্যের বছর হয়ে থাকবে। গোটা বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহে স্যামসাংয়ের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে আইফোন নির্মাতা অ্যাপল।

ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (আইডিসি) এর ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড কোয়ার্টারলি মোবাইল ফোন ট্র্যাকার’ এর প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালে অ্যাপল সারা বিশ্বে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন পাঠিয়েছে, যা পুরো বাজারের ২০ দশমিক এক শতাংশ জায়গা দখল করে আছে। 

সে তুলনায়, একই সময়ে পুরো বিশ্বে ২২ কোটি ৬৬ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন পাঠিয়েছে স্যামসাং, যা স্মার্টফোন শিপমেন্টে বাজারের ১৯ দশমিক চার শতাংশ।

আইডিসি’র সঙ্গে মিল রেখে একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষক কোম্পানি ‘ক্যানালিস’ও।

২০১০ সাল থেকেই এই অবস্থান ধরে রেখেছিল স্যামসাং। তার আগে শীর্ষে ছিল ফিনিশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি ‘নোকিয়া’। এমনকি অ্যাপল তখন শীর্ষ পাঁচেও স্থান পায়নি।

গত বছরের শীর্ষ পাঁচে জায়গা পাওয়া বাকি স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলো যথাক্রমে শাওমি, অপো ও চীনা ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘ট্রান্সশন’। আর তাদের বৈশ্বিক স্মার্টফোন শিপমেন্ট যথাক্রমে ১৪ কোটি ৫৯ লাখ, ১০ কোটি ৩১ লাখ ও নয় কোটি ৪৯ লাখ।

স্মার্টফোন শিল্পে জোরালো প্রতিযোগিতা ও ক্রমাগত বিধিনিষেধাএর কারণে এই পরিবর্তনটি উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

“স্যামসাংয়ের রেকর্ড ভাঙার পেছনে অ্যাপল নিশ্চিতভাবেই বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে সামগ্রিক অ্যান্ড্রয়েড ফোন খাতেও বৈচিত্র্য বাড়ছে। হুয়াওয়ে ফিরে এসেছে এবং চীনা স্মার্টফোন বাজারে দ্রুতই জায়গা করে নিচ্ছে।

এ ছাড়া কম দামে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ডিভাইস বাজারে আনছে ওয়ানপ্লাস, অনার, গুগল ও অন্যান্য ব্র্যান্ডও। পাশাপাশি, এগুলোতে ফোল্ডেবল সুবিধার পাশাপাশি এআই সক্ষমতা যোগ করার বিষয়টিও বাড়তি আকর্ষণ।” – এক বিবৃতিতে বলেন আইডিসির ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড মবিলিটি অ্যান্ড কনজিউমার ডিভাইস ট্র্যাকার্স’ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেথ।

“সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোনের বাজার বেশ কৌতূহলোদ্দীপক সময়ের দিকে যাচ্ছে।” 

২০২৩ সালে সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোন শিপমেন্টের বাজার কমেছে তিন দশমিক দুই শতাংশ। তবে চতুর্থ প্রান্তিকে বেড়েছে আট দশমিক চার শতাংশ।

তবে, চীনা স্মার্টফোন বাজারে কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে অ্যাপলকে। ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশটিতে আইফোন বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

চীনের বাজারে বিক্রি বাড়াতে আইফোন ১৫ সিরিজের স্মার্টফোনে ডিসকাউন্টের ঘোষণাও দিয়েছে অ্যাপল, যা কোম্পানির ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। তবে, প্রতিকূল এ বাজারে টিকে থাকার লড়াইয়ে মার্কিন টেক জায়ান্ট কোম্পানিটি ইতিবাচক ফল পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।