Published : 13 Jan 2024, 01:14 PM
খুব শীঘ্রই মহাকাশের অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে পারে নাসার জন্য রোবটিক কোম্পানি অ্যাস্ট্রবায়োটিকের তৈরি মুন ল্যান্ডার পেরেগ্রিন। তবে, এর আগ পর্যন্ত মহাকাশ থেকে বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক ডেটা সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ‘দুর্ভাগা’ মহাকাশযানটি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আপডেটে নাসা বলেছে, ল্যান্ডারের মধ্যে থাকা যন্ত্রগুলো সফলভাবেই ডেটা সংগ্রহ করছে। এর আগের দিন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একই ধরনের আপডেট প্রকাশ করেছে অ্যাস্ট্রোবায়োটিকও।
নাসা বলছে, তাদের বর্তমান পরিকল্পনা হল, ডেটা সংগ্রহের লক্ষ্যে পেরেগ্রিন মিশনকে যতটা সম্ভব দীর্ঘায়িত করা।
“মহাকাশযানে নাসার বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির পরিমাপক ব্যবস্থা ও অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে তা ভবিষ্যতে নাসার চাঁদ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক পরিষেবা (সিএলপিএস)-এর জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক ডেটা দেবে।” --এক বিবৃতিতে বলেছেন নাসার অনুসন্ধানী ‘সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেট’ বিভাগের উপ-সহযোগী ব্যবস্থাপক জোয়েল কার্নস, যা যোগ করা হয়েছে নাসার ঘোষণার সঙ্গেও।
পেরেগ্রিন-১ নামের এ যৌথ মিশনে নাসার সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করেছে পিটসবার্গভিত্তিক বাণিজ্যিক রকেট কোম্পানি অ্যাস্ট্রবায়োটিক।
‘ইউনাইটেড লঞ্চ অ্যালায়েন্স’-এর ভালকান রকেটে করে মুন ল্যান্ডারটি উৎক্ষেপণ করা হয় ৮ জানুয়ারি সকালে। এ মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল, ৫০ বছরে প্রথমবার চাঁদের মাটিতে কোনো মার্কিন মহাকাশযানকে অবতরণ করানো।
তবে, উৎক্ষেপণের পরপরই পেরেগ্রিনের প্রোপালশন সিস্টেমে একটি ছিদ্র ধরা পড়ে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার কোম্পানিটি জানায়, মহাকাশযানের জ্বালানী খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর এর সফট ল্যান্ডিংয়ের জন্য বড়জোর একদিন বা দুইদিন সময় আছে হাতে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পেরেগ্রিনের কার্যক্রম স্থিতিশীলই ছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় বিকেল চারটা এক মিনিটে অ্যাস্ট্রোবায়োটিক একটি আপডেট পোস্ট করে জানায়, মহাকাশযানে আনুমানিক দুই দিনের জ্বালানী অবশিষ্ট আছে, যা আগের প্রতিবেদনগুলোয় প্রকাশিত অনুমানের চেয়ে বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই ছিদ্র থেকে জ্বালানী নির্গত হওয়ার গতি কমে যাওয়াকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে প্রযুক্তি সাইট ভার্জ।
এ ছাড়া, ‘আইরিস লুনার’ নামের একটি রোভারযানও বহন করা হচ্ছে পেরেগ্রিন মিশনটিতে, যা বানিয়েছেন কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। আর এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল, চাঁদের পৃষ্ঠে গিয়ে ছবি তোলা।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ আইরিসের চাকা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় আবৃত একটি ফুয়েল ট্যাংকের ছবি পোস্ট করেছে অ্যাস্ট্রবায়োটিক। এমনকি পৃথিবীর জন্য একটি বার্তাও পাঠিয়েছে আইরিস। এতে লেখা ছিল, “হ্যালো পৃথিবী!”