ডাকসু সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে ব্যবহার করা ছবির সঙ্গে তাদের বেশিরভাগেরই বাস্তব চেহারার মিল নেই।
Published : 17 Sep 2026, 11:45 PM
ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদ চলার মধ্যে এবার খ্যাতিনাম কবি-সাহিত্যিকদের কয়েকজনের ছবি নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে ডাকসু।
এ নিয়ে সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার ছবিগুলো সরিয়ে নতুন আরেকটি ফ্রেম সংযুক্ত করা হয়েছে।
তার আগে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামে ছয় সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে যে ছবি ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগের সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাস্তব চেহারার মিল নেই।
তারা হলেন পল্লিকবি জসীমউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল ও ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হক।
ডাকসুর সংগ্রহশালায় এক ছবিতে দেখা গেছে, জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাদের নয়।
আবুল ফজলের নামের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিটিও তার নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটির সঙ্গে তার চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে।
ছবিগুলো সংশ্লিষ্ট সাহিত্যিকদের কি না তা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, “মোটেই না। জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক, আসাদ চৌধুরীর নামের ওপরে যেসব ছবি আছে, সেগুলো মোটেও এসব ব্যক্তির নয়। আবুল ফজলেরও ছবিটিও তার হওয়ার কথা নয়; শ্মশ্রুমণ্ডিত ভিন্ন আবুল ফজলই আমাদের কাছে পরিচিত।
একমাত্র মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটি খানিক তার চেহারার সাথে যায়। তবে প্রতিটি ছবিই এআই দিয়ে তৈরি করা মনে হয়।”
ছয় সাহিত্যিকের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অধ্যাপক।
তিনি বলেন, ‘খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের একাংশ’ শিরোনামে যে তালিকা করা হয়েছে, তা মারাত্মকভাবে খণ্ডিত। এই তালিকা এত বড় যে, বাস্তবেই সবাইকে এক দেয়ালে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে নির্দিষ্ট কয়েকজনের ছবি টাঙানো সমীচীন হয়নি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর তরফে বলা হচ্ছে, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে ডিজাইনের সময় ছবির মান বাড়াতে গিয়ে কয়েকটি ছবির চেহারা বদলে যায়।
বিষয়টি নজরে আসার পর ছবিগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
তিনি বলেন, “যখন ডিজাইনারকে দেওয়া হয়, সে কোয়ালিটিই বাড়াতে গিয়ে দুই-তিনটা ছবি একরকম হয়ে যায়। এআই দিলে যেটা হয়।”
এআই ব্যবহার করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জুমা বলেন, “এআই দিয়ে বানানো না। সবার ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে ছবিগুলা কোয়ালিটিই এনহ্যান্স করতে গিয়ে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “অনেক ছবি ছিল একসাথে, খেয়াল করি নাই। পরে আমি সেদিন দেখার পরেই তাকে এটা কনসার্ন দিয়েছি। সে নতুন ছবি পাঠিয়েছে। আজকেই প্রিন্ট করে পাঠিয়ে ছবি লাগানো হয়েছে।”
সংস্কার শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা রোববার উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি ঠাঁই না পেলেও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়।
এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।
পরে সোমবার দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর ছবি তিনটি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। এর পরপরই সংগ্রহশালার সেই স্থানটিতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি সাঁটিয়ে প্রতিবাদ জানায় ছাত্র ফেডারেশন।
ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের আলোচিত ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তে সোমবারই উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।