১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশি রাউটার আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নিষেধাজ্ঞা

এফসিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি যে কোনো সাধারণ রাউটারকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিদেশি রাউটার আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নিষেধাজ্ঞা
ঢালাও এ নিয়মের ফলে অনেক কোম্পানি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং বিভ্রান্তি তৈরি হবে। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Mar 2026, 04:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:14 PM

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এবার বিদেশি রাউটারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসি।

মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এফসিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি যে কোনো সাধারণ রাউটারকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, নতুন নিয়মে বিদেশে তৈরি নেটওয়ার্ক রাউটারের নতুন বিভিন্ন মডেল ‘কাভার্ড লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত হবে। এ তালিকায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি বলে বিবেচিত বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম রাখা হয়।

তবে আগে কেনা রাউটারগুলো এখনও ব্যবহার করা যাবে এবং খুচরা বিক্রেতারাও এফসিসি’র আগের নীতি অনুসারে অনুমোদিত বিভিন্ন মডেল বিক্রি করতে পারবেন।

সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে এই তালিকায় থাকা রাউটারগুলো অন্তত ২০২৭ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত আপডেট পেতে থাকবে, যা পরবর্তীতে আরও বাড়তে পারে।

পদক্ষেপটি ২০২৫ সালের হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের এক লক্ষ্য থেকে নেওয়া, যেখানে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বা অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মূল উপাদান, সেটি কাঁচামাল হোক বা যন্ত্রাংশ তৈরির পণ্যই হোক না কেন এর জন্য দেশটিকে কখনোই বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়া চলবে না।”

বিজ্ঞপ্তিতে এফসিসি বলেছে, কোম্পানিগুলো চাইলে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছে তাদের নতুন পণ্যের জন্য ‘শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের’ আবেদন করতে পারবে।

তবে এ অনুমোদন পেতে হলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পনা জমা দিতে হবে, যেখানে তাদের উৎপাদনের কিছু অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

বর্তমানে পরিচিত খুব কম রাউটার কোম্পানিই যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য তৈরি করে। ঢালাও এ নিয়মের ফলে অনেক কোম্পানি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং বিভ্রান্তির তৈরি হবে। কারণ তাদের সবারই উৎপাদন কারখানা বিদেশে অবস্থিত। 

এর ফলে টিপি-লিংকের মতো চীনা টেক জায়ান্টদের পাশাপাশি মার্কিন বিভিন্ন কোম্পানিও ক্ষতির মুখে পড়বে।

নেটগিয়ার, ইরো ও গুগল নেস্ট-এর মতো কোম্পানির সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তাদের পণ্য তৈরি হয় এশিয়ায়। এ উৎপাদনের বড় অংশই তাইওয়ানের মতো অঞ্চলে হয়, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

রাউটার খাত এই নতুন বিধিনিষেধের সঙ্গে মানিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত বাজারে কোনো নতুন মডেলের রাউটার দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।