বিস্ফোরণটি ঘটেছে অগভীর সমুদ্রের নীচে আটকে থাকা এক গ্যাস আটকে রাখা শিলা থেকে। প্রেসার কুকারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে যেভাবে বিস্ফোরণ ঘটে বিষয়টি ঠিক তেমন।
Published : 08 Oct 2024, 07:05 PM
পাঁচটি পারমাণবিক বোমার মতো বড় বিস্ফোরণের ফলে ঘটেছিল টোঙ্গা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত– সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন গবেষকরা।
২০২২ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে ডুবে থাকা ‘হুঙ্গা-টোঙ্গা’ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ইতিহাসের অন্যতম বড় ছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।
দুই বছর পর এখন ওই প্রলয়ঙ্করী ঘটনার কারণ প্রকাশ করেছেন ‘অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা এএনইউ’-এর গবেষকরা।
তাদের এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ। এতে উঠে এসেছে, এর সূত্রপাত ঘটে পাঁচটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বোমার সমান এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে।
বিস্ফোরণের কারণ খুঁজে বের করতে এ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ভূমিকম্পের তথ্য গবেষণা করেছে ‘এএনইউ’-এর ভূকম্পনবিদদের এক ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল।
গবেষকরা বলছেন, সম্ভবত বিস্ফোরণটি ঘটেছে অগভীর সমুদ্রের নীচে আটকে থাকা এক গ্যাস জমানো শিলা থেকে। প্রেসার কুকারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে যেভাবে বিস্ফোরণ ঘটে বিষয়টি ঠিক তেমন।
“দীর্ঘদিনের অনুমান ছিল, গরম ম্যাগমা সমুদ্রের ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার কারণে এ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে, বলেছেন ‘অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র পিএইচডি শিক্ষার্থী ও এ গবেষণার সহ-লেখক জিনিন হু।
“তবে আমাদের সাম্প্রতিক গবেষণার মডেল বলছে, বিস্ফোরণটি ঘটেছে অগভীর সমুদ্রের নীচে আটকে থাকা ‘গ্যাস-কমপ্রেসড’ শিলা থেকে, যা থেকে নির্গত হয়েছে বিশাল পরিমাণ শক্তি।”
এ প্রাকৃতিক বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি সমুদ্রের আশপাশে থাকা বিভিন্ন দ্বীপে সৃষ্টি করেছে ৪৫ মিটার বা প্রায় দেড়শ ফুট পর্যন্ত উঁচু সুনামির।
এ গবেষণার সহ-লেখক ড. থানহ-সন ফাম বলেছেন, এ সুনামিতে পানির পরিমাণ ছিল বিস্ময়কর, যা প্রায় ১০ লাখ অলিম্পিক সুইমিং পুল পানি দিয়ে পূর্ণ করার জন্য যথেষ্ট।
‘সিসমিক ওয়েভফর্ম মডেল’ বা ভূমিকম্পের তরঙ্গরূপ মডেল ব্যবহার করে এ ঘটনার সময় পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে এক শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী শক্তিও পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা।
“প্রথমে আমরা এ নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলাম,” বলেছেন এ গবেষণার আরেক সহ-লেখক ও অধ্যাপক হার্ভোরে কালচিচ।
“তবে পরে আমরা বুঝতে পারি, বিশাল আকারে এই পানির স্তর উপরে উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পানির নিচের ভূত্বককেও ওপরে তুলেছে।”
“স্যাটেলাইট ও সিসমিক সেন্সর থেকে প্রাপ্ত এ ঘটনার অনেক তথ্য ছিল আমাদের কাছে, যা আমাদের ঘটনাটিকে আরও বিস্তারিতভাবে গবেষণা করতে সহায়তা করেছে,” বলেছেন হু।
এর আগে শেষবারের মতো ১৯৯১ সালে ফিলিপিন্সের পিনাটুবো পর্বতে ঘটে একই ধরনের অগ্ন্যুৎপাত। তবে তখনকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এখনকার মতো এতটা উন্নত ছিল না।
গবেষকদের দাবি, গ্যাস নির্গমন ও আগ্নেয়গিরির ফলে তৈরি ছোট আকারের ভূমিকম্পের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে জানা যেতে পারে ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাতের নানা পূর্বাভাস। একইসঙ্গে এ ধরনের বড় আকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য আরও ভালভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সহায়তাও মিলবে এতে।