১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্ত সম্ভব পিরিয়ডের রক্ত থেকেই: গবেষণা

গবেষকরা বলেছেন, “জরায়ুমুখের ক্যান্সার পরীক্ষার বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে স্যানিটারি প্যাড থেকে নেওয়া পিরিয়ডের রক্ত ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে।”

জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্ত সম্ভব পিরিয়ডের রক্ত থেকেই: গবেষণা
সাধারণ স্যানিটারি প্যাডের ওপর বিশেষ এক স্ট্রিপ ব্যবহার করে জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2026, 12:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্তের প্রচলিত পদ্ধতি অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বা ভয়ের কারণ। তবে পিরিয়ডের রক্ত থেকেই নির্ভুলভাবে এ ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

গবেষণার ফলাফল বলছে, সাধারণ স্যানিটারি প্যাডের ওপর বিশেষ এক স্ট্রিপ ব্যবহার করে ‘হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস’ বা এইচপিভি শনাক্ত করা সম্ভব। এ ভাইরাস জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ। এ স্ট্রিপ নারীরা চাইলে ঘরে বসেই ব্যবহার করতে পারবেন।

ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, বর্তমানে জরায়ুমুখ পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ব্রাশের সাহায্যে যোনিপথ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে এ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক নারীই স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হন না।

জরায়ুমুখের কোষের অস্বাভাবিকতা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘সিআইএন টু’ ও ‘সিআইএন থ্রি’ বলে তা শনাক্তের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের রক্ত ও চিকিৎসকের নেওয়া নমুনার কার্যকারিতা তুলনা করেছেন চীনা গবেষকরা। এসব কোষে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘বিএমজে’-এ।

গবেষণাটি চীনের হুবেই প্রদেশের ৩ হাজার ৬৮ জন নারীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নিয়মিত পিরিয়ড হওয়া নারীরা এ গবেষণায় অংশ নেন।

পরীক্ষার জন্য নারীদের প্রত্যেকে তিনটি নমুনা দিয়েছিলেন। যার একটি স্যানিটারি প্যাড ও বিশেষ স্ট্রিপের মাধ্যমে নেওয়া পিরিয়ডের রক্তের নমুনা। দ্বিতীয়টি সরাসরি চিকিৎসকের সংগ্রহ করা জরায়ুমুখের নমুনা এবং তৃতীয়টি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী মাধ্যমে সংগৃহীত অতিরিক্ত নমুনা।

এ পরীক্ষার দুটি দিক যাচাই করেছেন গবেষকরা। প্রথমটি হচ্ছে ‘সেনসিটিভিটি’, যা দিয়ে বোঝা যায় পরীক্ষাটি কত সঠিকভাবে রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারে এবং অন্যটি ‘স্পেসিফিসিটি’, যা দিয়ে বোঝা যায় পরীক্ষাটি সুস্থ ব্যক্তিদের কতটা নির্ভুলভাবে আলাদা করতে পারে।

গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, প্যাড থেকে নেওয়া নমুনার সেনসিটিভিটি ছিল ৯৪.৭ শতাংশ, যা চিকিৎসকের নেওয়া নমুনার ৯২.১ শতাংশের তুলনায় বেশি, অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পিরিয়ডের রক্তই বরং বেশি কার্যকর।

স্পেসিফিসিটি বা সুস্থ ব্যক্তিদের শনাক্তের ক্ষেত্রে প্যাড পদ্ধতিটি সামান্য পিছিয়ে থাকলেও পরীক্ষায় ফলাফল যদি নেগেটিভ আসে তবে সেই ব্যক্তি যে সত্যিই সুস্থ– এর নিশ্চয়তা উভয় পদ্ধতিতেই সমান এসেছে। এ ছাড়া, পরবর্তী উন্নত পরীক্ষার জন্যও উভয় পদ্ধতিতে প্রায় একই রকম ফলাফল পেয়েছেন গবেষকরা।

তারা বলেছেন, “এ বড় পরিসরের সামাজিক গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করেছে, জরায়ুমুখের ক্যান্সার পরীক্ষার বিকল্প বা আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে স্যানিটারি প্যাড থেকে নেওয়া পিরিয়ডের রক্ত ব্যবহার করা কার্যকর ও ব্যথাহীন হতে পারে।”

‘ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে’-এর স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপক সোফি ব্রুকস বলেছেন, ক্যান্সার স্ক্রিনিং বা পরীক্ষাকে আরও সহজলভ্য করার জন্য এমন নতুন গবেষণা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।

“এইচপিভি শনাক্ত করতে পিরিয়ডের রক্ত পরীক্ষার বিষয়টি চমৎকার ও আরামদায়ক, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য নতুন পথ খুলে দিতে পারে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে হবে এমনটি সবার জন্য কতটা কার্যকর ও বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে তা কীভাবে খাপ খাবে।