Published : 11 Dec 2025, 01:08 PM
চ্যাটজিপিটি নানা কাজে উপকারী হলেও আর্থিক বিষয়ে এর ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন দুটি গবেষণা দেখাচ্ছে, এআই চ্যাটবটগুলো আর্থিক প্রশ্নে নিয়মিত ভুল করছে আর এই ভুলগুলো এতটাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপিত হচ্ছে যে, সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে তা ধরাই কঠিন।
জার্নাল অফ ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানিংয়ে প্রকাশিত এক জরিপে চ্যাটজিপিটি ৩.৫, বিং এর জিপিটি ৪ এবং গুগলের বার্ড যা এখন জেমিনাই নামে পরিচিত, বিভিন্ন আর্থিক হিসাব, সুদের হার, পেনশন সুবিধা ও বন্ধক সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনটি মডেলই নানা রকম ভুল উত্তর দিয়েছে।
চ্যাটবটগুলো সুদের হার, বন্ধক, সোশাল সিকিউরিটি সুবিধার মতো বিষয়ে প্রশ্ন পেলে নিয়মিতভাবে গণিতে ভুল করেছে এবং এমন পরামর্শ দিয়েছে যা অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর বা সম্পূর্ণ ভুল। কখনো তারা দেওয়া প্রম্পটের নির্দিষ্ট অংশ উপেক্ষা করেছে আবার কখনো এলোমেলোভাবে কিছু অনুমান করেছে এবং সেই অনুমানের উৎস ব্যাখ্যা করেনি।
এর চেয়েও খারাপ বিষয় হলো চ্যাটবটগুলো ভুল হলেও খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিয়েছে। যাদের আর্থিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের জ্ঞান নেই তাদের জন্য এসব উত্তরের ভুল খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। ফলে সহজেই ধরে নিতে পারে যে চ্যাটবট যা বলছে সেটাই সঠিক।
অবশ্য, যদি নিজেই হিসাবগুলো করতে পারেন বা একজন প্রকৃত আর্থিক পরিকল্পনাবিদকে টাকা দিয়ে হিসাব করিয়ে নিতে পারেন তাহলে চ্যাটবটের দরকারই পড়ে না।
আত্মবিশ্বাসী চ্যাটবটে মানুষ ভরসা করেন
বিনিয়োগ, সম্পত্তি ক্রয় বা পেনশন ব্যবস্থাপনার মতো আর্থিক সিদ্ধান্ত ভুল হলে জীবনে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই কোনো আর্থিক পরামর্শদাতা মানুষ হোক বা রোবট তাকে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ পরামর্শ দিতে হয় এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের সুবিধা-অসুবিধা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়।
তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব চ্যাটবট ভারসাম্যপূর্ণ পরামর্শ দেয় তাদের তুলনায় যে চ্যাটবট অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ঢংয়ে আর্থিক পরামর্শ দেয়, তাকে মানুষ বেশি বিশ্বাস করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ওই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী চ্যাটবটই বেশি ভুল পরামর্শ দিয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অংশগ্রহণকারীরা উপলব্ধিই করতে পারেনি যে তারা ভুল পরামর্শ পেয়েছেন বরং ধরে নিয়েছেন যে চ্যাটবট যা বলছে সেটাই ঠিক।
আরেকটি বিষয়, যারা নিজেদের আর্থিক অবস্থাকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি তারা চ্যাটবটের কাছ থেকে আরও খারাপ পরামর্শ পেয়েছেন। চ্যাটবটকে সঠিক পরামর্শ দিতে হলে অংশগ্রহণকারীকে নিজের বিনিয়োগ পছন্দ, আর্থিক লক্ষ্য ইত্যাদি পরিষ্কারভাবে বলতে হয়েছে এবং কিছু আর্থিক পরিভাষা বুঝতে হয়েছে।
বাস্তবে যারা টাকা-কড়ি নিয়ে সাহায্য চাইতে চ্যাটবটের কাছে আসেন তাদের বেশিরভাগই এসব পরিভাষায় দক্ষ নন, ফলে ভুল পরামর্শ পাওয়ার শঙ্কাই বেশি।
চ্যাটবটের সীমাবদ্ধতা বোঝা
চ্যাটজিপিটিকে এড়িয়ে যাওয়ার অনেক কারণ আছে। এটি কখনো কখনো তথ্যের মিথ্যা উৎস তৈরি করে, বেশ কিছু অস্বস্তিকর উত্তর দিতে পারে এবং সব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের মতোই সোর্স ম্যাটেরিয়ালে থাকা পক্ষপাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তবুও, এটি এখনো প্রতি সপ্তাহে ৭০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর জন্য উপকারী টুল। মূল কথা হল, এর সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝে ব্যবহার করা উচিৎ। বিশেষ করে বড় আর্থিক সিদ্ধান্তে নির্ভর না করা, বাস্তব জীবনে যার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
চ্যাটবট তার প্রকাশভঙ্গীতে সবজান্তা ঢং ব্যবহার করলেও এটি ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজন বোঝে না এবং অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে গণনাও করতে পারে না।
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার লিখেছে, বাস্তবে একজন পেশাদার আর্থিক উপদেষ্টা ব্যয়বহুল হতে পারে কিন্তু বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য তাদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। তারা পরিস্থিতি বোঝার জন্য সময় নেবেন এবং প্রতিটি বিকল্পের সুবিধা-অসুবিধা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবেন। পরামর্শের জন্য অগ্রিম কিছু খরচ পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যা আর্থিক অবস্থার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করবে।