Published : 02 Aug 2026, 05:44 PM
টিনএজার ও তরুণ ব্যবহারকারীদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার অভিযোগে আবারও আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ল বিশ্বের শীর্ষ চার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির মাধ্যমে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এবার বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়েছে মেটা, টিকটক, স্ন্যাপ ও গুগল।
এসব প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের আদালতে যৌথ এক ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ ও ‘অপমৃত্যু’র মামলা দায়ের করেছে আইন বিষয়ক সংগঠন ‘সোশাল মিডিয়া ভিকটিমস ল সেন্টার’ বা এসএমভিএলসি।
নথিতে এসব প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে চরম আসক্তিকর ও বিপজ্জনক পণ্য তৈরির অভিযোগ এনে বলা হয়েছে, এসব কোম্পানির এ ধরনের সিস্টেম ও কাঠামোর কারণেই অকালে প্রাণ হারিয়েছে চার শিশু।
মামলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এসব প্রযুক্তি কোম্পানি ‘নিজেদের গবেষকদের দেওয়া একের পর এক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ক্ষতির প্রমাণ লুকিয়ে রেখে এমন এক সিস্টেম তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মুহূর্তে অপ্রাপ্তবয়স্কদের টার্গেট করা হয়েছে’।
এসএমভিএলসি দাবি করেছে, ব্যবহারকারীদের বেশি সময় আটকে রেখে এনগেজমেন্ট বাড়ানোর নাম করে এসব প্রযুক্তি কোম্পানি টিনএজারদের আচরণ ট্র্যাক করে।
পরবর্তীতে সেই অনুসারে তাদের সামনে ‘ডায়েট ও রূপচর্চার বিজ্ঞাপন, চেহারা বদলে দেওয়ার ফিল্টার, সামাজিক তুলনার সুযোগ দেওয়া ফিচার’ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর কনটেন্ট তুলে ধরত, যা শেষ পর্যন্ত টিনএজারদের ‘হতাশা, আত্মপীড়ন ও নিজের জীবনাবসানের ভাবনার’ দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুসারে, চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিনেসোটা ও টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
সম্প্রতি মার্কিন অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতের এক কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ গোপন নথি প্রকাশ্যে আসার পর শেষ পর্যন্ত ডেলাওয়ারের আদালতে এ সমন্বিত মামলাটি দায়ের করেছে এসএমভিএলসি।
মামলায় নাম থাকা কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পায়নি এনগ্যাজেট।
এক বিবৃতিতে গুগলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “তরুণদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা শুরু থেকেই আমাদের কাজের মূল উদ্দেশ্য।
“মানসিক স্বাস্থ্য ও অভিভাবকত্ববিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে আমরা এমন কিছু সেবা ও নীতিমালা তৈরি করেছি, যা কম বয়সীদের জন্য উপযোগী অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অভিভাবকদের হাতেও দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং মামলার দাবিগুলো খতিয়ে দেখছি।”
এবারই প্রথম নয়। একই ধরনের আরও বেশ কয়েকটি আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছে এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এ বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে মেটার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে যুক্তরাষ্টের চারটি অঙ্গরাজ্য।
তাদের দাবি, ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো অ্যাপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসক্তিকর হিসেবে ডিজাইন এবং এসব অ্যাপ কতটা নিরাপদ সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে মেটা।
এর ঠিক এক মাস আগে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির এক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের দায়ের করা সামাজিক মাধ্যম আসক্তিবিষয়ক আরেকটি মামলায় সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছিল মেটা, স্ন্যাপ ও টিকটক।