Published : 03 Aug 2026, 03:43 PM
একটি ম্যাকবুক ঠিক কত বছর টিকবে– এক কথায় এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। সাধারণ মানের ম্যাকবুক নিও যত দ্রুত কার্যসক্ষমতার বিচারে পিছিয়ে পড়বে, সর্বোচ্চ কনফিগারেশনের একটি ম্যাকবুক প্রো স্বাভাবিকভাবেই তার চেয়ে অনেক বেশি দিন স্বাচ্ছন্দ্যে চলবে।
কেবল হার্ডওয়্যারই নয়, ল্যাপটপটি কী কাজে ও ঠিক কতটা ব্যবহার করছেন এর ওপরও এর স্থায়ীত্ব অনেকাংশে নির্ভর করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নতুন কেনা ম্যাকবুকটি ঠিক কত দিন সচল থাকবে তার নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা না গেলেও তা নির্ধারণের একাধিক উপায় রয়েছে। হার্ডওয়্যার পুরানো, অ্যাপলের সফটওয়্যার সাপোর্ট বন্ধ বা ছোটখাটো নানা যান্ত্রিক ত্রুটি কারণ যা-ই হোক না কেন অ্যাপল ল্যাপটপের দীর্ঘ ইতিহাস থেকে এর স্থায়ীত্ব সম্পর্কে ধারণা মিলতে পারে।
চড়া দামের কারণে নতুন ম্যাকবুক কেনার আগে বা ব্যবহৃত ডিভাইসটির আয়ু আর কতটা বাকি রয়েছে তা বোঝার জন্য এই হিসেব গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাকওএস সাপোর্ট
একটি ম্যাকবুক কখন বদলে ফেলা উচিত তা বোঝার সহজ উপায় হল এর অপারেটিং সিস্টেম আপডেট পাওয়ার যোগ্যতা শেষ হয়েছে কি না তা দেখা।
প্রতি বছর অ্যাপল যখন নতুন ম্যাকওএস সংস্করণ উন্মোচন করে তখন বেশ কিছু পুরানো ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার নতুন আপডেট বা আধুনিক বিভিন্ন সুরক্ষা ফিচার চালানোর মতো সক্ষম থাকে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাতিল হয়ে যাওয়া এসব ম্যাকবুক এত বেশি পুরানো যে, কোনো কোম্পানির পক্ষেই নতুন অপারেটিং সিস্টেম শত শত পুরানো ডিভাইসে পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব নয়।
অতীতের ধারা পর্যবেক্ষণ করলে বর্তমানের ম্যাকবুকগুলোর স্থায়ীত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যেমন, ২০২৬ সালের শরতে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘ম্যাকওএস ২৭ গোল্ডেন গেইট’ সংস্করণটি অ্যাপলের নিজস্ব ‘অ্যাপল সিলিকন’ চিপচালিত সব ম্যাক ডিভাইসে সমর্থিত।
এর মধ্যে সবচেয়ে পুরানো মডেল ২০২০ সালে বাজারে আসা ‘এম১ ম্যাকবুক এয়ার’ ও ‘এম১ ম্যাকবুক প্রো’।
নতুন ম্যাকওএস সংস্করণের পাশাপাশি অ্যাপলের সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, তারা আগের দুটি সংস্করণকেও সিকিউরিটি প্যাচ বা নিরাপত্তা আপডেট দিয়ে সচল রাখে। বর্তমানে অ্যাপল সমর্থিত সবচেয়ে পুরোনো সংস্করণ ‘ম্যাকওএস ১৪ সোনোমা’, যা ২০১৮ সালের মডেলের বিভিন্ন ম্যাকবুকেও ব্যবহার করা যায়।
এ হিসেব থেকে ইঙ্গিত মেলে, একটি ম্যাকবুক অ্যাপলের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ৮ বছর সরাসরি সফটওয়্যার সাপোর্ট পায়, যার মধ্যে প্রথম ৬ বছর পাওয়া যায় মূল ম্যাকওএস আপডেট ও আগের ২ বছর মেলে সিকিউরিটি আপডেট।
সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ল্যাপটপটি ব্যবহারের উপযোগী থাকে ঠিকই তবে আনসাপোর্টেড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত নতুন ল্যাপটপ কেনার তাগিদ তৈরি করে।
ব্যবহারকারী কোন ধরনের প্রোগ্রাম বা অ্যাপ ব্যবহার করছেন এর ওপর ভিত্তি করে থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহারে জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন, ফটোশপ সফটওয়্যারটি চালাতে ‘ম্যাকওএস ১৪’ থাকা বাধ্যতামূলক, যা বর্তমানে অ্যাপল সমর্থিত সবচেয়ে পুরানো অপারেটিং সিস্টেম সংস্করণ।
হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা ও পারফরম্যান্স
বাস্তবতার নিরিখে একটি ম্যাকবুক ঠিক তত দিনই সচল থাকবে যত দিন এর ভেতরের হার্ডওয়্যার ব্যবহারকারীর প্রয়োজন মেটাতে পারবে। বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে ব্যবহারকারী ল্যাপটপটি কী কাজে ব্যবহার করছেন তার ওপর।
কেবল হালকা ব্রাউজিং, ডকুমেন্ট এডিটিং বা ভিডিও কলের মতো সাধারণ কাজে একটি বেসিক ‘ম্যাকবুক নিও’ও ম্যাকওএস সাপোর্ট থাকা পর্যন্ত অনায়াসে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। কারো কাজ যদি হয় সারাদিন ভারী ভিডিও এডিটিং ও রেন্ডারিং করা তবে কয়েক বছর পরপর ডিভাইস আপগ্রেড করায় বেশি সুবিধা পাবেন।
বর্তমানের ম্যাকবুকগুলোতে ব্যবহারকারীদের নিজেদের উদ্যোগে হার্ডওয়্যার আপগ্রেডের কোনো সুযোগ নেই। ফলে কেনার সময় প্রয়োজন অনুসারে সঠিক কনফিগারেশন বেছে নেওয়া জরুরি, বিশেষ করে প্রসেসর, স্টোরেজ ও র্যামের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন, কারণ এগুলোতেই ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েন।
দুর্বল প্রসেসর হলে ভিডিও রেন্ডারিংয়ের মতো ভারী কাজে ল্যাপটপ ধীরগতির হয়ে পড়ে ও মাল্টিটাস্কিং করতেও সমস্যা হয়। অন্যদিকে কম র্যাম ব্যবহারকারীর ডিভাইসের কাজের সক্ষমতা সীমিত করে দেয়। ভবিষ্যৎ উপযোগী রাখতে বেইস মডেলের চেয়ে বাড়তি র্যাম নিয়ে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
পর্যাপ্ত স্টোরেজ না থাকলে কাজ করা বিরক্তিজনক হলেও ক্লাউড স্টোরেজ বা এক্সটার্নাল ড্রাইভ দিয়ে তা সামাল দেওয়া যায়। তবে ব্যাটারির ক্ষেত্রে ডিভাইসের বয়স দ্রুত চোখে পড়ে।
আধুনিক সব ম্যাকবুক ব্যাটারি সাধারণত এক হাজার চার্জ সাইকেল পর্যন্ত ভালো সার্ভিস দেওয়ার উপযোগী করে তৈরি। চার্জার ছাড়া কাজের অভ্যাস থাকলে এ সীমা পার হওয়ার পর ব্যাটারি ব্যাকআপে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করবেন।
অ্যাপলের দৃষ্টিতে ‘পুরানো’ ডিভাইস
ম্যাকবুকের আয়ু নির্ধারণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, অ্যাপল কখন একটি ডিভাইসের সাপোর্ট বন্ধ করে দেয়। ম্যাকওএস সামঞ্জস্যতার চেয়ে এটা কিছুটা আলাদা। ওয়ারেন্টি-পরবর্তী সেবার জন্য অ্যাপল দুটি ক্যাটেগরি নির্ধারণ করে রেখেছে। যেমন, ‘ভিন্টেজ’ ও ‘অবসোলিট’।
বিক্রি বন্ধের পর পাঁচ থেকে সাত বছর পেরিয়ে যাওয়া বিভিন্ন ডিভাইসকে ‘ভিন্টেজ’ বলে। পার্টস বা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য থাকা সাপেক্ষে অ্যাপল স্টোর ও অনুমোদিত বিভিন্ন সার্ভিস সেন্টার এসব ডিভাইস সারায়। বর্তমানে ২০২০ সালের ইনটেল প্রসেসরের ম্যাকবুক এয়ার এ তালিকার সবচেয়ে নতুন ডিভাইস।
বিক্রি বন্ধ হওয়ার পর সাত বছর পার হয়ে যাওয়া ডিভাইসগুলোকে ‘অবসোলিট’ বা সম্পূর্ণ পুরানো হিসেবে বিবেচিত হয়। ব্যাটারি পরিবর্তন ছাড়া এসব পণ্যে অ্যাপল আর কোনো অফিশিয়াল হার্ডওয়্যার সাপোর্ট দেয় না। এগুলো সারানোর জন্য থার্ড-পার্টি সার্ভিস সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হয়, যেখানে আসল যন্ত্রাংশ না-ও মিলতে পারে। ২০১৭ সালের ম্যাকবুক প্রো মডেলগুলো বর্তমানে এ তালিকায় রয়েছে।
ল্যাপটপটি ‘ভিন্টেজ’ তালিকায় গেলেই সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। তবে ‘অবসোলিট’ হয়ে গেলে আপগ্রেডের পরিকল্পনা করা উচিত। কারণ এ সময়ে এসে নতুন ম্যাকওএস আপডেট আর মেলে না। হার্ডওয়্যার নষ্ট হলে সারানোর সুযোগও সীমিত।