Published : 07 Apr 2026, 04:55 PM
মহাকাশ গবেষণার গুরুত্বের সঙ্গে নাসার আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীদের প্রতিদিন সকালে তাদের পছন্দের গান শুনিয়ে ঘুম ভাঙানো হচ্ছে। নভোচারীদের উজ্জীবিত রাখতে নাসার মিশন কন্ট্রোল থেকে পাঠানো হচ্ছে চমৎকার সব গানের প্লেলিস্ট।
মহাকাশবিষয়ক সংবাদের সাইট স্পেসডটকম প্রতিবেদনে লিখেছে, এখন পর্যন্ত নাসার মিশন কন্ট্রোল থেকে মহাকাশে চ্যাপেল রোনের গান ও প্যাশন পিটের একটি কভার গানসহ আরও বেশ কিছু গান পাঠানো হয়েছে।
এরইমধ্যে পৃথিবী থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব পেরিয়ে চাঁদের রহস্যময় দূরর্বর্তী অংশ ঘুরে এসে পৃথিবীর পথ ধরেছেন নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু মিশরেন চার নভোচারী।
এই যাত্রাপথে পৃথিবী থেকে মানুষের মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তারা। চাঁদের অন্ধকার অংশ প্রদক্ষিণের সময় সেই দৃশ্য দেখেছেন, যা আগে কখনো কোনো মানুষ দেখেনি।
নাসা বলেছে, চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসতে মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলের সময় লেগেছে সাত ঘণ্টার মত। এ সময় চাঁদের দূরবর্তী অংশের ছবিও ধারণ করেছেন তারা।
মহাকাশের গভীরে ওরিয়ন ক্যাপসুল পরীক্ষা করা বা চন্দ্রপৃষ্ঠে জমাট লাভা প্রবাহের ছবি তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন লক্ষ্যের পাশাপাশি নাসার আর্টেমিস টু চন্দ্রাভিযানে কিছুটা বিনোদনের ছোঁয়াও রেখেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।
এ মিশনে ‘রাইজ’ নামের জনপ্রিয় এক চাঁদের খেলনা রয়েছে, যা ‘জিরো গ্রাভিটি ইন্ডিকেটর’ বা ওজনহীনতা পরিমাপক হিসেবে কাজ করছে। এ খেলনাটির ভেতরে একটি মাইক্রোচিপ আছে, যাতে এমন সব মহাকাশ প্রেমীর নাম রয়েছে যারা এই চন্দ্রাভিযানে নিজেদের নাম যোগ করেছিলেন।
এ ছাড়া আগের সব মানববাহী মিশনের ঐতিহ্য মেনে এখানেও রয়েছে ‘ওয়েকআপ সংস’ বা নভোচারীদের ঘুম ভাঙানোর গান।
প্রতিদিন যখন আর্টেমিস টু-এর নভোচারীদের ঘুম থেকে ওঠার সময় হয় তখন মিশন কন্ট্রোল থেকে ওরিয়ন ক্যাপসুলে ছোট এক গানের অংশ বাজানো হয়, যাতে তারা ইতিবাচকভাবে দিনটি শুরু করতে পারেন।
এখন পর্যন্ত বাজনো গানের তালিকায় রয়েছে ইয়াং অ্যান্ড সিক-এর গাওয়া প্যাশন পিট-এর ‘স্লিপিহেড’ গানের একটি কভার, ফ্রেডি জোনস ব্যান্ডের ‘ইন এ ডেইড্রিম’ এবং চ্যাপেল রোনের ‘পিংক পনি ক্লাব’।
শেষ গানটি নিয়ে নভোচারীরা কিছুটা রসিকতাও করেছেন। কারণ মিশন কন্ট্রোল গানটির মূল অংশ আসার আগেই তা বন্ধ করে দিয়েছিল। আর্টেমিস টু-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মজা করে বলেছেন, “আমরা সবাই অধীর আগ্রহে গানটির কোরাস শোনার অপেক্ষায় ছিলাম।”
নভোচারীদের গান শুনিয়ে জাগানোর এ ঐতিহ্য অ্যাপোলো মিশন থেকেই চলে আসছে। অ্যাপোলো ১০-এর নভোচারীদের ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার ‘ইটস নাইস টু গো ট্রাভেলিং’ গানটি শোনানো হয়েছিল এবং অ্যাপোলো ১৫ মিশনে বাজানো হয়েছিল স্ট্যানলি কুবরিক পরিচালিত ‘২০০১: এ স্পেস ওডিসি’ সিনেমার থিম সং।
‘স্পেস শাটল প্রোগ্রাম’-এও এমন অসংখ্য ওয়েকআপ কলের নজির রয়েছে। ২০১১ সালের ‘এসটিএস-১৩৪’ মিশনের পাইলট গ্রেগ জনসনের ছেলে তার বাবার জন্য ‘ড্রপস অফ জুপিটার’ গানটি নির্বাচন করেছিলেন।
গানটি শুনে জনসন বলেছিলেন, “আমি এই গানটি খুব ভালোবাসি, আর মহাকাশে থাকতেও আমার দারুণ লাগছে।” এরপর নিজের ছেলের জন্মদিনে উপস্থিত থাকতে না পারার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
শাটল প্রোগ্রামের একদম শেষদিকের সেই একই মিশনে মিশন স্পেশালিস্ট রবের্তো ভিত্তোরির জন্য লিগাবুয়ের গাওয়া ‘টু মিও পেনসিয়েরও’ গানটিও বাজানো হয়েছিল।
স্পেস শাটল প্রোগ্রামের সর্বশেষ মিশন ‘এসটিএস-১৩৫’-এ পাইলট ডগ হার্লি কোল্ডপ্লে’র ‘ভিবা দা ভিদা’ গানটি বেছে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অন্য একদিনের জন্য তিনি ‘ডোন্ট প্যানিক’ গানটিও নির্বাচন করেন।
এ ছাড়া ‘আর.ই.এম’ ব্যান্ডের মাইকেল স্টিপ ব্যক্তিগতভাবে ‘ম্যান অন দ্য মুন’ গানটির এক ‘এ কাপেলা’ সংস্করণ বা বাদ্যযন্ত্র ছাড়া কেবল কণ্ঠের গান নভোচারীদের জন্য পাঠিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন…
ইতিহাস গড়ল আর্টেমিস টু: পৃথিবী থেকে এত দূরে আর কখনো যায়নি মানুষ
রেকর্ড ভাঙা মিশনে চাঁদের রহস্যময় অংশ প্রদক্ষিণ শেষে পৃথিবীর পথে আ