১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চিপ আমদানিতে ১০০% শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

এর আগেও চিপ ও সেমিকন্ডাক্টরের ওপর শুল্ক খুব দ্রুতই, এমনকি আগামী সপ্তাহ থেকেই চালু হতে পারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বর্তমানে প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে চিপ।

চিপ আমদানিতে ১০০% শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
নতুন খাতে শুল্ক আরোপের ঘোষণার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে ট্রাম্প সরকার। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Aug 2025, 07:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:32 PM

সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে যেসব কোম্পানি ‘যুক্তরাষ্ট্রেই চিপ উৎপাদন করছে’ তাদের ওপর এই শুল্ক বসানো হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

নতুন খাতে শুল্ক আরোপের ঘোষণার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে ট্রাম্প সরকার, যাতে ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে পণ্য আনার বদলে যুক্তরাষ্ট্রেই তা উৎপাদন করেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

তবে এ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য যেমন– কোনো কোম্পানিকে শুল্ক ছাড়ের যোগ্য হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রে কি পরিমাণ চিপ উৎপাদন করতে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বুধবার বিকেলে ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “চিপ ও সেমিকন্ডাক্টরের ওপর খুব বড় শুল্ক বসাতে যাচ্ছি আমরা।

“তবে অ্যাপলের মতো বিভিন্ন কোম্পানির জন্য সুখবর হচ্ছে, আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য তৈরি করেন বা স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই কারখানা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তাহলে আপনার ওপর কোনও শুল্ক আরোপ করা হবে না।

“মানে হচ্ছে, চিপ ও সেমিকন্ডাক্টরের ওপর প্রায় ১০০ শতাংশ শুল্ক বসাবো আমরা। তবে আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য তৈরি করেন, তাহলে আপনাকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না।”

এর আগেও চিপ ও সেমিকন্ডাক্টরের ওপর শুল্ক খুব দ্রুতই, এমনকি আগামী সপ্তাহ থেকেই চালু হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কারণ, এগুলো এখন প্রায় প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।

অ্যাপল অবশ্য আগেই বলেছিল, আমেরিকায় ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। এখন কোম্পানিটি আরও ১০ হাজার কোটি ডলার দেওয়ার কথা বলেছে। 

অ্যাপলের এমন পদক্ষেপের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেছেন, এটাই তিনি চাইছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিভিন্ন কোম্পানি দেশেই বিনিয়োগ করে।

এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কিছু পণ্য তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদক কোম্পানি টিএসএমসি, মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া ও গ্লোবালফাউন্ড্রিজসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় চিপ নির্মাতা কোম্পানি।

‘সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’ বা সিআইএ এর তথ্য অনুসারে, কেবল বড় কোম্পানিই নয়, বরং ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আরও অনেক কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে চিপ শিল্পে মোটিএকশ ৩০টির বেশি প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে, যার মূল্য ৬০ হাজার কোটি ডলার। 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৬ হাজার পাঁচশ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ উৎপাদনকারী কোম্পানি টিএসএমসি।

অন্যদিকে, এপ্রিলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি এনভিডিয়া বলেছে, আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো তৈরিতে ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে তারা।

জুনে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্যে নিজেদের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তারা এক হাজার ছয়শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।