Published : 07 Sep 2026, 10:34 AM
অ্যাপল নিজেদের বিভিন্ন ডিভাইসকে দীর্ঘ সময় ধরে সফটওয়্যার ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে থাকলেও কোনো পণ্যই চিরস্থায়ী নয়।
কোন কোন পণ্য বিক্রি বা আপডেট বন্ধ হয়ে গেছে তা জানা থাকলে সঠিক সময়ে ডিভাইস আপডেটের পরিকল্পনা সহজ হয় এবং পুরানো পণ্য কিনে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, অ্যাপল কর্তৃপক্ষ কোনো মডেলকে বাদ দেওয়ার মানে হচ্ছে তাদের অনলাইন স্টোর থেকে পণ্যটি সরিয়ে নেওয়া বা সেটাতে নতুন বড় ধরনের অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস আপডেট বন্ধ করে দেওয়া।
প্রথমটি নতুন মডেল বাজারে আসার পর পুরানো বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে ঘটে, যা পরবর্তীতে থার্ড-পার্টি রিটেইলার বা অ্যাপলের নিজস্ব শপে পাওয়া যায়। আর দ্বিতীয়টি ঘটলে সেই মডেলটি কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত ও বর্তমানে ব্যবহার করে থাকলে দ্রুত আপগ্রেডের কথা ভাবা দরকার।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এয়ারট্যাগের সামান্য আপডেটেট সংস্করণ বাজারে এনে পুরানো সংস্করণটির উৎপাদন বন্ধ করেছে অ্যাপল
অ্যাপল তাদের ওয়াচ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ডিসপ্লে লাইনআপ নিয়মিত আপডেট করার সঙ্গে সঙ্গে পুরানো বিভিন্ন মডেলকে পেছনে ফেলে নতুন বিকল্পের দিকে গ্রাহকদের নিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি বাদ পড়া ডিভাইসগুলো কী কী? আসুন দেখে নেই–
১. আইফোন ১৬ই
একসময় আইফোন এসই সিরিজই ছিল অ্যাপলের প্রধান ‘বাজেট ফোন’ অফার। নতুন মডেল আসার আগে এসব ফোন বেশ কয়েক বছর বাজারে টিকে ছিল। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আইফোন ১৬ই এসই সিরিজটির স্থলাভিষিক্ত হয়ে অ্যাপলের সবচেয়ে কম দামি ফোন আত্মপ্রকাশ করেছে।
অন্যান্য পুরানো ফোনের তুলনায় ভিন্নভাবে আইফোন ১৬ই বাজারে আসার কেবল এক বছরের মাথায় সরাসরি উত্তরসূরি পেয়ে যায়। ২০২৬ সালের মার্চে আইফোন ১৭ই বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাপল তাদের লাইনআপ থেকে ১৬ই মডেলটিকে বাদ দিয়েছে।
নতুন আইফোন ১৭ই আগের মতোই ৫৯৯ ডলারের বেইস দামে পাওয়া গেলেও এতে দ্বিগুণ স্টোরেজ (১২৮ জিবির পরিবর্তে ২৫৬ জিবি) ও সঠিক ম্যাগসেফ চার্জিং সুবিধা রয়েছে, যা ১৬ই মডেলে নেই।
তবে কারো কাছে আইফোন ১৬ই থেকে থাকলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। অ্যাপল আইওএস ২৭-এ ২০১৯ সালের আইফোন ১১ পর্যন্ত সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। ফলে ১৬ই মডেলেও কয়েক বছর নির্বিঘ্নে সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যাবে।
২. প্রথম প্রজন্মের এয়ারট্যাগ
২০২১ সালে বাজারে আসার পর থেকেই এয়ারট্যাগগুলো বেশ ভালোভাবে কাজ করছে এবং সেগুলোর বড় কোনো আপডেটেরও তেমন প্রয়োজন ছিল না। এরপরও অ্যাপল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এয়ারট্যাগের সামান্য আপডেটেট সংস্করণ বাজারে এনে পুরানো সংস্করণটির উৎপাদন বা বিক্রি বন্ধ করেছে।
পেছনের দিকে থাকা অল-ক্যাপস টেক্সট দেখে চেনা যায় এমন নতুন বিভিন্ন এয়ারট্যাগে রয়েছে উন্নত ‘ইউ২’ চিপ, যার মাধ্যমে রেঞ্জ দ্বিগুণ হয়েছে, যেখানে পুরানোটির ১০০ ফুটের বিপরীতে নতুনটি সর্বোচ্চ ২০০ ফুট পর্যন্ত কাজ করে।
এ ছাড়া, এতে সামঞ্জস্যপূর্ণ অ্যাপল ওয়াচ দিয়ে ট্র্যাক করা যায় ও এর স্পিকার আগের চেয়ে বেশি জোরালো, যা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বা ট্রাংক-স্যুটকেসের ভেতরে থাকা অবস্থায় খুঁজে পাওয়া সহজ।
কারিগরি দিক থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের বিভিন্ন এয়ারট্যাগ মূল মডেলের প্রায় একইরকম। উভয় সংস্করণই আকৃতিতে সমান ও একই ধরনের ২০৩২ ব্যাটারি ব্যবহার করে।
কেউ প্রথম প্রজন্মের এয়ারট্যাগগুলোর কোনো অফার পেলে এবং বাড়তি রেঞ্জের ছোটখাটো এসব সুবিধার প্রয়োজন না হলে সেগুলো কেনা এখনও লাভজনক হতে পারে।
পুরানো এয়ারট্যাগ ফেলে দিয়ে নতুন মডেলে যাওয়ারও কোনো জোরালো প্রয়োজন নেই। তবে নতুন বিভিন্ন ফিচার যদি কারো পছন্দ হয় তবে ছাড়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। কারণ এয়ারট্যাগগুলোর দাম প্রায়ই কমে, বিশেষ করে একসঙ্গে চারটি কেনার বান্ডল প্যাকে।
৩. অ্যাপল টিভি এইচডি ও প্রথম প্রজন্মের অ্যাপল টিভি ফোরকে
স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মতো অ্যাপল টিভি খুব ঘন ঘন পরিবর্তরের কথা মানুষ চিন্তা করে না। তবে ২০২৬ সালে এসে সম্ভবত তা বদলানোর সময় হয়েছে। এ বছরের শেষভাগে বাজারে আসতে যাওয়া ‘টিভিওএস ২৭’ আপডেটটি ২০১৫ সালের অ্যাপল টিভি এইচডি ও ২০১৭ সালের প্রথম প্রজন্মের অ্যাপল টিভি ফোরকে-এর জন্য সাপোর্ট বন্ধ করবে অ্যাপল।
অ্যাপল টিভি এইচডি (চতুর্থ প্রজন্মের অ্যাপল টিভি) ছিল ফোরকে আউটপুট সুবিধা না থাকা সর্বশেষ মডেল। বর্তমান বাজারে ফোরকে টিভির দাম কমে যাওয়ায় ১০৮০পি রেজুলিউশনের এসব অ্যাপল টিভি ব্যবহারকারীরা বহু আগেই হয়ত ডিভাইস আপডেট করে নিয়েছেন।
পাশাপাশি, প্রথম প্রজন্মের অ্যাপল টিভি ফোরকে’ও পুরোনো ডিভাইস, যা এর পুরানো চিপের সীমাবদ্ধতার কারণে হাইব্রিড লগ-গামা ও এইচডিআরটেন প্লাস সমর্থন করে না।
কারো কাছে এসব মডেল থাকলে নতুন অ্যাপল টিভি কেনার আগে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ বর্তমান তৃতীয় প্রজন্মের অ্যাপল টিভি ফোরকে’র নতুন এক সংস্করণ ২০২৬ সালের শেষদিকে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
৪. আইফোন ১৭ প্রো ও ১৭ প্রো ম্যাক্স
অ্যাপল আগের বছরের বেইস মডেলের আইফোনটিকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিক্রি চালিয়ে গেলেও বিভিন্ন প্রো মডেলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না।
সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স বাজারে আসার সময় অ্যাপলের অফিশিয়াল স্টোর থেকে ১৭ প্রো সিরিজের বিভিন্ন মডেল চিরতরে বিদায় নেবে। এ সময় এসব ফোন কিনতে হলে থার্ড-পার্টি বিক্রেতা বা অ্যাপল স্টোরের ওপর নির্ভর করতে হবে।
আইফোন ১৭ প্রো ও ১৭ প্রো ম্যাক্স আগামী কয়েক বছর ধরে ভালো পারফরম্যান্স দেবে। ফলে অ্যাপল স্টোর থেকে এগুলো সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন বদলানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
আইফোন ১৬ই-এর মতো এসব ফোনও আগামী বেশ কয়েক বছর নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট পাবে ও এগুলো সম্পূর্ণভাবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সমর্থিত। তবে এ বছর বিশ্বজুড়ে র্যাম ও চিপের দাম বাড়ার কারণে আসন্ন আইফোন ১৮ সিরিজের দাম বাড়ার ও সেগুলোর দোকানের শেলফে উঠতে দেরির আশঙ্কা রয়েছে।
৫. এম৪ ম্যাকবুক এয়ার
আইফোনের মতো অ্যাপল পুরানো বিভিন্ন ম্যাকবুক মডেলকে নিজেদের অনলাইন স্টোরে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলিয়ে রাখে না। ২০২৬ সালে এম৫ ম্যাকবুক এয়ার বাজারে আসার পর থেকে অ্যাপলের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি নতুন এম৪ মডেল কেনার সুযোগ আর নেই।
তবে ম্যাকবুকের শক্তিশালী এক সেকেন্ডহ্যান্ড বাজার রয়েছে, যার মাধ্যমে তুলনামূলক কম দামে এখনও কার্যকর পুরানো মডেল সংগ্রহ করা সম্ভব। এম৫ ম্যাকবুক এয়ার মডেলে বেইস স্টোরেজ দ্বিগুণ হয়েছে, অর্থাৎ এম৪ এর ২৫৬ জিবির পরিবর্তে এবার রয়েছে ৫১২ জিবি।
ম্যাক প্রো’র মেমোরি ও সিপিইউ সরাসরি মাদারবোর্ডের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পরবর্তীতে চাইলেও তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়
জুনে অ্যাপলের হার্ডওয়্যারের দাম বাড়ার কারণে ১৩ ইঞ্চি ও ১৫ ইঞ্চি উভয় মডেলের দামই ২০০ ডলার করে বেড়েছে। কারো যদি ল্যাপটপ আপগ্রেডের প্রয়োজন হয় ও এম৫-এর অতিরিক্ত সক্ষমতার খুব একটা প্রয়োজন না থাকে তবে ব্যবহৃত এম৪ ম্যাকবুক এয়ার সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।
এ ছাড়া, ম্যাকওএস ২৭ গোল্ডেন গেট ২০২০ সালের এম১ চিপ পর্যন্ত সব অ্যাপল সিলিকন ম্যাকবুক সমর্থন করায় এম৪ মডেলটি কয়েক বছর নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে।
৬. এম৪ ম্যাকবুক প্রো সিরিজ
ম্যাকবুক এয়ারের মতো অ্যাপলের ম্যাকবুক প্রো সিরিজও ২০২৬ সালে সরাসরি সর্বশেষ প্রজন্মের প্রসেসরে উন্নীত হয়েছে। বর্তমান ম্যাকবুক প্রো’তে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বেইস এম৫ চিপ দেওয়া হচ্ছে। যাদের বেশি শক্তির প্রয়োজন তাদের জন্য এম৫ প্রো ও এম৫ প্রো ম্যাক্স ভালো পারফরম্যান্স নিশ্চিত করছে।
অ্যাপল অফিশিয়ালি সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে গেল বছরের এম৪ প্রো ও ম্যাক চিপওয়ালা ম্যাকবুক প্রো বিক্রি বন্ধ করেছে। ফলে এগুলো পেতে ব্যবহৃত পণ্যের বাজারের ওপর ভরসা রাখতে হবে।
প্রো ক্যাটেগরির এসব ল্যাপটপ চরম পর্যায়ের পারফরম্যান্স দেবে এবং এর সঙ্গে দামও সেই অনুসারে চড়া, যেখানে বেইস এম৫ মডেলের দাম শুরু হয় ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে।
কারো কাছে ম্যাকবুক এয়ার কাজের জন্য যথেষ্ট না হলে ও নতুন এম৫ ম্যাকবুক প্রো অতিরিক্ত ব্যয়বহুল মনে হলে গত বছরের এম৪ ম্যাকবুক প্রো বেছে নেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
৭. এম৩ আইপ্যাড এয়ার
আইপ্যাড এয়ারের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের পঞ্চম প্রজন্মের পর থেকে আর কোনো জেনারেশন ব্যবহার হয় না। এর পরিবর্তে অ্যাপল ২০২৪ সালের মডেলে এম২ চিপ ব্যবহার করে ও এরপর থেকে প্রতি বছরই নিয়মিতভাবে তা আপডেট করে আসছে।
২০২৫ সালে মার্চে এম৩ আইপ্যাড এয়ার বাজারে আসার পর ২০২৬ সালের মার্চে অ্যাপল এম৪ মডেলটি বাজারে আনার সময় পুরানো এম৩ মডেলটির উৎপাদন বা বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যারা সাধারণ বা হালকা কাজ করেন তাদের জন্য সর্বশেষ চিপটি খুব একটা জরুরি নয়। কারণ নেটফ্লিক্স দেখা বা নোট নেওয়ার কাজটি পুরানো মডেলে ভালোভাবেই করা যায়।
ব্যবহারকারীর কাছে ৭৪৯ ডলারের এম৩ আইপ্যাড এয়ার ব্যয়বহুল মনে হলে একটি ব্যবহৃত এম৩ আইপ্যাড এয়ার কেনা ভালো বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি বেইস আইপ্যাডের কথাও ভুলে যাওয়া চলবে না।
৪৪৯ ডলারে একাদশ প্রজন্মের আইপ্যাড বা আইপ্যাড এ১৬ এ লাইনআপে প্রবেশ করার জন্য সাশ্রয়ী মাধ্যম। সারাদিন পেশাদার কাজের জন্য আইপ্যাডটি খুব উপযুক্ত না হলেও সাধারণ ব্যবহারের জন্য এতে পর্যাপ্ত শক্তি রয়েছে।
৮. প্রথম প্রজন্মের অ্যাপল স্টুডিও ডিসপ্লে ও প্রো ডিসপ্লে এক্সডিআর
সংযোগওয়ালা বিভিন্ন ডিভাইসের মতো ডিসপ্লে বা মনিটরগুলোর খুব ঘন ঘন আপডেটের প্রয়োজন না হলেও অ্যাপল ২০২৬ সালে তাদের ২০২২ সালের স্টুডিও ডিসপ্লে সংস্করণটি কিছুটা আপডেট করেছে।
১ হাজার ৬০০ ডলার খরচ করে কেউ নতুন মনিটর কিনতে চাইলে নতুন সংস্করণে আরও আধুনিক থান্ডারবোল্ট কানেকশন ও উন্নত ক্যামেরার মতো কিছু আধুনিক সুবিধা পাওয়া যাবে।
পুরানো বিভিন্ন স্টুডিও ডিসপ্লে মডেলও ভালোভাবে কাজ চালিয়ে যাবে এবং অ্যাপলের ব্যয়বহুল পথে কেউ হাঁটতে না চাইলে তাদের জন্য বাজারে আরও মনিটর বিকল্প রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালের প্রো ডিসপ্লে এক্সডিআর-এর বেইস দাম ছিল অ্যাপলের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ, যা স্ট্যান্ডার্ড গ্লাসের জন্য ৪ হাজার ৯৯৯ ডলার এবং আপগ্রেডেড গ্লাস চাইলে আরও ১ হাজার ডলার বেশি।
২০২৬ সালে অ্যাপল এটাকে বদলে কিছুটা সহনীয় দামের ৩ হাজার ২৯৯ ডলারের স্টুডিও ডিসপ্লে এক্সডিআর বাজারে এনেছে। যার অন্যতম সেরা আপডেট হল ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, যা মূল মডেলের ৬০ হার্টজ প্যানেলের তুলনায় প্রয়োজনীয় সংযোজন ছিল।
৯. অ্যাপল ওয়াচ, ২০২২ বা তার আগের বিভিন্ন মডেল
ওয়াচওএস ২৭-এর আগমন পুরানো অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। আর এমন বিষয় অ্যাপলের অন্যান্য গ্যাজেটের দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন নীতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
বর্তমান ওয়াচওএস ২৬ আগের সংস্করণের (ওয়াচওএস ১১) সমান সব মডেলে কাজ করলেও অ্যাপল এবার সিরিজ ৬ থেকে সিরিজ ৮, প্রথম প্রজন্মের অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ও দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যাপল ওয়াচ এসই-এর জন্য নতুন ওএস আপডেট দেওয়া বন্ধ করেছে অ্যাপল।
ফলে কেবল ২০২৩ সাল ও তার পরের বিভিন্ন মডেলের অ্যাপল ওয়াচেই ওয়াচওএস ২৭ চালানো সম্ভব হবে।
সফটওয়্যার সমর্থনের ক্ষেত্রে কেবল চার বছর খুব দীর্ঘ সময় নয়। ফলে তালিকার অন্যান্য পণ্যের তুলনায় এটা ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ হতাশাজনক।
এর একমাত্র স্বস্তিদায়ক দিক হচ্ছে, অ্যাপল প্রথমে সিরিজ ৯-কে সামঞ্জস্যপূর্ণ তালিকার বাইরে রাখলেও দ্রুত ভুল শুধরে বলেছে, ২০২৩ সালের বিভিন্ন অ্যাপল ওয়াচ মডেল ওয়াচওএস ২৭ সমর্থন করবে।
পুরানো অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীরা ওয়াচওএস ২৬-এর নিরাপত্তা আপডেট পেলেও ওয়াচওএস ২৭-এর নতুন ফিচার, যেমন বেশি কনটেক্সট-অওয়ার অ্যাপ গ্রিড উপভোগ করতে পারবেন না।
১০. ম্যাক প্রো
ম্যাক প্রো সবসময়ই পাওয়ার ইউজারদের লক্ষ্য করে তৈরি করেছে অ্যাপল এবং ২০১৯ সালের মূল ম্যাক প্রো মডেলটি বাড়িতে বসেই সহজে আপগ্রেড করার উপযোগী করে ডিজাইন হয়েছিল।
সেটাতে র্যাম অদলবদল করা, প্রসেসর পরিবর্তন করা ও গ্রাফিক্স কার্ড বদলানোর সুযোগ ছিল। তবে অ্যাপল যখন ২০২৩ সালে এম২ আল্ট্রা চিপ ও অন্যান্য কিছু স্পেক আপডেটসহ ২০১৯ সালের ‘চিহ গ্রাটার’ মডেলটি নতুন করে বাজারে আনল তখন ব্যবহারকারীর মাধ্যমে ডিভাইস আপগ্রেডের সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়।
এর মেমোরি ও সিপিইউ সরাসরি মাদারবোর্ডের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পরবর্তীতে চাইলেও তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর বিভিন্ন পিসিআইই স্লটেও নিজস্ব পছন্দমতো গ্রাফিক্স কার্ড যোগ করার কোনো উপায় নেই।
২০১৯ সালের ম্যাক প্রো ছিল শেষ দিকের ইনটেল ম্যাকগুলোর একটি, যার দুটি সংস্করণ প্রমাণ করেছে, অ্যাপল সিলিকনের বিস্ময়কর সক্ষমতার জন্য ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দিতে হয়েছে।
এ ছাড়া, এর চড়া দাম (কেবল ২৫৬ জিবি স্টোরেজের জন্য ৫ হাজার ৯৯৯ ডলার) ও বড় আকার ম্যাক প্রো’কে অন্যান্য হাই-এন্ড ম্যাক মডেলের তুলনায় বিক্রির ক্ষেত্রে বেশ কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল, বিশেষ করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদা আরও কমে যায়।
এ বাস্তবতায় অ্যাপল ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাক প্রো’র উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং বর্তমানে ‘ম্যাক স্টুডিও’কে তাদের হাই-এন্ড বিকল্প হিসেবে স্থান দিয়েছে। কেউ ম্যাক মিনি’র চেয়েও বেশি শক্তিশালী কোনো ডেস্কটপ ম্যাক কিনতে চান তবে ম্যাক স্টুডিও হতে পারে ভালো পছন্দ।