ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়ার তহবিলের ‘সামান্যই’ ক্রিপ্টো মুদ্রায়

যুদ্ধের তহবিল জোগাড় করতে ইউক্রেইনের দেখানো পথেই হাঁটছেন রাশিয়াপন্থীরা। তবে, বড় আকারে নয়, লেনদেন করতে হচ্ছে সীমিত পরিসরে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Oct 2022, 09:36 AM
Updated : 3 Oct 2022, 09:36 AM

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আধাসামরিক বাহিনীর জন্য তহবিল জোগাড়ে ক্রিপ্টো মুদ্রার ওপরও নির্ভর করছেন রাশিয়াপন্থীরা। তবে, এর পরিমান নগন্য।

ক্রিপ্টোমুদ্রার বাজারবিশ্লেষক প্ল্যাটফর্ম টিআরএম ল্যাবসের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রিপ্টোমুদ্রার মাধ্যমে চার লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে রাশিয়াপন্থীরা।

সোমবারে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিলিশিয়া বাহিনীর রসদ এবং ইউক্রেইন সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলে সামরিক প্রশিক্ষণের খরচ মেটাতে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ আসছে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম ব্যবহারে।

রাশিয়াপন্থী তহবিল সংগ্রাহকদের মধ্যে ‘টাস্ক ফোর্স রুসিচ’ আছে বলে জানিয়েছে টিআরএম ল্যাবস। দলটিকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষে ইউক্রেইন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ‘আধাসামরিক নব্য-নাৎসি’ বাহিনী হিসেবে আগেই চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।

দলটির ওপর আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকার কথা উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি। নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে রেডিও এবং ‘থার্মাল ইমেজিং’ সরঞ্জাম কিনতে তহবিল সংগ্রহ করছে তারা।

আর ড্রোন কেনার জন্য ক্রিপ্টো মুদ্রার মাধ্যমে ২১ হাজার ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে ‘দ্য নভোরোসিয়া এইড কোঅর্ডিনেটর সেন্টার’; এর সিংহভাগ এসেছে বিটকয়েন হিসেবে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রাইমিয়া অভিযান সমর্থনের লক্ষ্যে সংস্থাটির জন্ম।

ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেইনের সামরিক হামলা শুরু করার পর থেকে পশ্চিমা শক্তি ও মিত্রদের একাধিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে রাশিয়া। রাশিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবকাঠামো থেকে একঘরে করার ওই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়ে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই আশঙ্কা ছিল, ক্রিপ্টো মুদ্রার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে রাশিয়া।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, তারল্য সঙ্কটে ভুগছে বৈশ্বিক ক্রিপ্টো মুদ্রা খাত। ফলে, চাইলেও প্রয়োজন মতো লেনদেন করতে পারছে না রাশিয়া।

তবে, আকারে ছোট লেনদেন অব্যাহত রেখেছে রাশিয়ার সঙ্গে জড়িত আধাসামরিক বাহিনীগুলো; কেবল অতিপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনছে তারা।

অর্থ পাচার বিরোধী নীতিমালা অগ্রাহ্য করে ক্রিপ্টো মুদ্রা লেনদেন চালু রেখেছে– আধাসামরিক বাহিনীগুলো সম্ভবত এমন ক্রিপ্টো এক্সেচেঞ্জ ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন টিআরএম ল্যাবসের ‘ল অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ প্রধান আরি রেডবোর্ড।

সিএনবিসিকে রেডবোর্ড বলেছেন, “তারা সম্ভবত নীতিমালা অগ্রাহ্য করছে এমন এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করে তহবিল নগদে পরিণত করছে। এটা আপনিও করতে পারবেন। তবে বড় আকারে এটা করা সম্ভব নয়।”

এ কৌশলে শতকোটি ডলারের মতো বড় তহবিলের লেনদেন সম্ভব হবে না বলে যোগ করেন তিনি।

গবেষণার জন্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ওয়ালেটের ঠিকানা এবং রাশিয়ার সঙ্গে জড়িত দলগুলোর অনলাইন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অন্যান্য ওয়েবসাইটের যোগাযোগ মিলিয়ে দেখেছে টিআরএম।

তবে, তহবিল সংগ্রহকারী দলগুলো সরাসরি রাশিয়া সরকারের সঙ্গে জড়িত বা ক্রেমলিনের সমর্থনপুষ্ট কী না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি টিআরএম ল্যাবস।

রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের শুরু থেকেই ক্রিপ্টো ‍মুদ্রার মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছে ইউক্রেইন; সমর্থকদের কাছ থেকে ভালো সাড়াও পেয়েছে দেশটি। রাশিয়াও সম্ভবত একই পথে হাঁটার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছে সিএনবিসি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক