১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যের ৩ বিমানবন্দরে সাইবার হামলায় ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরি

যুক্তরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী বিভিন্ন কোম্পানির সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের জন্য এখন চাপ বাড়ছে। আর এ সময়ই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটল।

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2026, 06:51 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার, লন্ডন স্ট্যানস্টেড ও ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিমানবন্দর তিনটির প্রায় ৮৭ লাখ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে সাইবার অপরাধীরা।

আক্রান্ত বিমানবন্দর তিনটির পরিচালনা কোম্পানি ‘ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপ’ বা এমএজি বলেছে, গাড়ি পার্কিং, লাউঞ্জ, ফাস্ট-ট্র্যাক বুকিং ও বিমানবন্দরগুলোর ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ নেওয়ার সময় দেওয়া গ্রাহক ডেটায় প্রবেশ করেছে হ্যাকাররা।

এ সাইবার হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা গ্রাহকদের ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, গাড়ির নম্বর এবং পোস্টাল কোড হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটশি সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

তবে এ ঘটনায় ফ্লাইট চলাচলের কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি উল্লেখ করে এসএজি বলেছে, “যাত্রী নিরাপত্তা বা প্লেন চলাচলের সার্বিক সুরক্ষায় কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি।”

পাশাপাশি আক্রান্ত সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব বা লেনদেন সংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য সংরক্ষিত না থাকায় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নেই বলেও জানায় এমএজি।

গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় লন্ডন স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, “আমাদের নাম ভাঙিয়ে আসা যে কোনো অপ্রত্যাশিত ইমেইল, ফোন কল বা টেক্সট মেসেজের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

“অর্থ বা ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আমরা কখনোই আগাম না জানিয়ে যোগাযোগ করব না। এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাময়িক উদ্বেগের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

গ্রীষ্মকালীন ছুটির ব্যস্ত মৌসুমেই সাইবার হামলার মুখে পড়ল যুক্তরাজ্যের এই তিন বিমানবন্দর। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই এ সপ্তাহে হাজার হাজার পরিবার ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, গেল বছর তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহার করে মোট ৫ কোটি ৪০ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছিলেন।

এমএজি’র একজন মুখপাত্র বলেছেন, ঘটনার পরপরই তারা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন। গ্রাহক ও পুরো সিস্টেমের সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শকদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

“আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। আবারও নিশ্চিত করছি, যাত্রী ও প্লেনের সুরক্ষায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। বিমানবন্দরগুলোর ফ্লাইট চলাচল ও কার পার্কিং সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু রয়েছে।

“গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষাকে ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্ট গ্রুপ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় যে কোনো উদ্বেগ বা অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।”

আইন বিষয়ক পরামর্শক কোম্পানি ‘গর্ডনস’-এর পার্টনার লরেন উইলস-ডিকসন বলছেন, এ সাইবার হামলার ব্যাপ্তি বেশ লক্ষণীয়।

“বিমানবন্দরগুলো লাউঞ্জ সুবিধা, কার পার্কিং ও ফাস্ট-ট্র্যাক বুকিংয়ের মতো একাধিক পরিষেবা বিক্রি করে থাকে। এ ছাড়া ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহারের জন্যও গ্রাহকদের তথ্য দিতে হয়।

“ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক তথ্য জমা থাকে। এ প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকিও বাড়ছে।”

যুক্তরাজ্যে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সেবাদাতা ও পরিচালনাকারী বিভিন্ন কোম্পানির সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের জন্য এখন চাপ বাড়ছে। আর এখনই এ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটল।

এর আগে, গেল বছর যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর লন্ডন হিথ্রোসহ ইউরোপের প্রধান তিনটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটেছিল। চেক-ইন ও বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারের নির্মাতা কোম্পানিটি সাইবার হামলার শিকার হওয়ার পরই সেই সংকট তৈরি হয়।

এ মাসের শুরুতে ব্রিটেনের এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনার পেছনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করা হয়েছিল। তবে ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ওই সাইবার হামলা ছিল ছোট মাপের জেনারেটর কেন্দ্র, যা সার্বিক জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি তৈরি করেনি।

গেল বছর যুক্তরাজ্যের নামীদামী বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক কোম্পানিতে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঢল নেমেছিল। যার মধ্যে ছিল বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ‘জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার’-এর কাজ টানা কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার ঘটনা।

পাশাপাশি জনপ্রিয় রিটেইল চেইন ‘মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার’, ‘হ্যারডস’ ও ‘কো-অপ’ খাবার সরবরাহেও হামলা চালিয়েছিল হ্যাকাররা।