১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফোনে সারাক্ষণ ব্লুটুথ অন রাখা কি নিরাপদ?

অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে পেয়ারিংয়ের আগে ব্লুটুথের ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হলেও এর মানে এই নয় যে, হ্যাকাররা ফাঁকফোকর গলে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে না।

ফোনে সারাক্ষণ ব্লুটুথ অন রাখা কি নিরাপদ?
ব্যক্তিগত তথ্যের প্রাইভেসি রক্ষায় ও ব্লুটুথ হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে কিছু মৌলিক সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 01:07 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

ফোন হাত দিয়ে ধরে না রেখে কল থেকে শুরু করে তারবিহীর হেডফোনের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরামদায়ক করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তির জুড়ি মেলা ভার।

তবে আধুনিক প্রযুক্তির এ সুবিধার যেমন কমতি নেই তেমনই এর কিছু নেতিবাচক দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।

বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তিগত ডেটা বা তথ্য মূল্যবান উপাদান হয়ে উঠেছে তখন সচেতন থাকা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে পেয়ারিং বা যুক্ত হওয়ার আগে ব্লুটুথের ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে এর মানে এই নয় যে, হ্যাকাররা ফাঁকফোকর গলে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে না।

ফিটবিট ও এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী অন্যান্য হার্ডওয়্যারে এক বিশেষ ব্লুটুথ ত্রুটি ধরা পড়েছিল। ওপেন-সোর্স অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব ত্রুটির মাধ্যমে ক্ষতিকর চক্র ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডিকোড করা যায়, যা বড় বিপদের কেবল ছোট একটি ইঙ্গিত।

এ ছাড়া, ‘ইনসিনুয়াটর’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ‘আইরোহা’ভিত্তিক হার্ডওয়্যারে এমন এক ত্রুটির সন্ধান মিলেছে, যা ব্লুটুথ রেঞ্জের মধ্যে থাকা সাইবার আক্রমণকারীদের গোপনে আলাপ আড়ি পেতে শোনা ও ফোন নম্বর, কনট্যাক্ট ও কল হিস্ট্রির মতো ব্যক্তিগত ডেটা চুরির সুযোগ পায়।

ব্লুটুথ নিরাপত্তার কিছু সেরা উপায়

কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে পারেন। যার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে ব্যবহার শেষে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা। এর ফলে ব্যবহারকারীর ডিভাইস হ্যাকারদের নজরদারিতে থাকার সময়সীমা কমে যায় ও ‘ব্লুব্যাগিং’ বা ‘ব্লুস্নারফিং’-এর মতো কাছাকাছি সংযোগের সুযোগ নিয়ে ডিভাইস হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

পাশাপাশি, ব্লুটুথ মোড ‘ডিসকভারিবল’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে ‘হিডেন’ বা লুকানো মোডে সেট করে রাখা উচিত, যা অপরিচিত বিভিন্ন ডিভাইসকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

যারা রেন্টাল কার বা ভাড়ায় চালিত গাড়িতে ফোন কানেক্ট করেন বা বর্তমান গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের অবশ্যই গাড়ি হস্তান্তরের আগে ফোন আনপেয়ার করা ও গাড়ি থেকে সব ব্যক্তিগত ডেটা মুছে ফেলার কাজটি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো’র মতো ভেহিকুলার সিস্টেমে ব্লুটুথ ব্যবহারের জন্য ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই উভয় সংযোগেরই প্রয়োজন, যা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে।

এ তারবিহীন সুবিধা এড়িয়ে চলা এর একটি সমাধান হতে পারে ও ফোনের অ্যান্ড্রয়েড অটো সেটিংস থেকে ‘স্টার্ট অ্যান্ড্রয়েড অটো অটোমেটিক্যালি’ অপশনটি ‘নেভার’ করে দিয়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া ঠেকানো সম্ভব।

আইফোন ব্যবহারকারীদেরও ফোনের ‘লাইভ লিসেন’ ফিচারের দিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত। ফিচারটি ফোনের মাইক্রোফোন থেকে এয়ারপডস, হিয়ারিং এইড বা সমর্থিত হেডফোনে অডিও স্ট্রিম করতে সাহায্য করে।

এ সেটিংটি ব্লুটুথ ব্যবহার করে ফলে তা ব্লুব্যাগিং আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফিচারটি বন্ধ রাখতে ফোনের ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ সেটিংসে গিয়ে ‘লাইভ লিসেন’ অপশনটি অফ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ব্লুটুথ প্রযুক্তির নতুন ত্রুটি ও সুরক্ষার উপায়

দৈনন্দিন জীবনে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতাও সামনে আসছে। ব্লুটুথ নির্ভর বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা রিপোর্টগুলোর ওপর নজর রাখা জরুরি।

কারণ, বিভিন্ন নির্দিষ্ট ডিভাইসে আলাদা ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে। ওয়্যার্ড প্রতিবেদনে লিখেছে, বেলজিয়ামের ‘কেইউ লিউভেন ইউনভার্সিটি’র গবেষকরা ১৭টি ‘গুগল ফাস্ট পেয়ার’ অডিও ডিভাইসে বড় ধরনের ত্রুটির সন্ধান পেয়েছিলেন।

গবেষকদের ভাষ্য, হ্যাকাররা কেবল ডিভাইসের মডেল নম্বর জানা মাত্রই ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডেটা ট্র্যাক করতে ও তাদের গোপন আলাপে আড়ি পেতে শুনতে পেরেছিল।

এ ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা ‘হইস্পারপেয়ারডটইইউ’ টুলটি প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইসটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা যাচাই করে নিতে পারেন।

ব্যক্তিগত তথ্যের প্রাইভেসি রক্ষায় ও ব্লুটুথ হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে কিছু মৌলিক সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা।

এ ছাড়া, ‘ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট’ বা এফসিসি’র প্রস্তাবিত বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চললে ব্যক্তিগত সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটার সুরক্ষা বহুলাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে টেক প্রাইভেসি নিয়ে সচেতনতা ও এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পরিষেবার পরিধি যেভাবে দ্রুত বাড়ছে তাতে এসব সাধারণ পদক্ষেপ অনুসরণ করা মানসিক শান্তি ও উন্নত সুরক্ষার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে কাজ করবে।