পরিচালনা পর্ষদকে বিদায় করে দিয়েছেন মাস্ক, কোম্পানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ার মালিক এখন সৌদি রাজপুত্র।
Published : 01 Nov 2022, 11:56 AM
পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে টুইটারে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।
সোমবার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা পড়া নথির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, মাস্কই এখন এ মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্মের একমাত্র পরিচালক; তিনিই প্রধান নির্বাহী।
টুইটার কার্যালয়ে প্রবেশের দিনই মাস্ক নিজের টুইটার প্রোফাইলে পরিচয় পাল্টে দিয়েছিলেন ‘চিফ টুইট’ হিসেবে।
পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়জনের মধ্যে আছেন সদ্য চাকরি খোয়ানো প্রধান নির্বাহী পারাগ আগরাওয়াল এবং চেয়ারম্যান ব্রেট টেইলর।
টুইটার পর্ষদে ছিলেন ব্রিটিশ চেম্বার অফ কমার্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ব্যারোনেস মার্থা লেন ফক্স। বিবিসি জানিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনীতিবিদ এবং সংবাদকর্মীদের মত পেশাজীবী সেবাগ্রাহকদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে কেনার পর থেকেই নিজের মত গুছিয়ে নিতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন মাস্ক।
তার অধীনে টুইটার প্রথমেই যে পরিবর্তনগুলোর পরিকল্পনা করছে, তার মধ্যে আছে ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা ও লগ-আউট পরবর্তী পেইজে পরিবর্তন।
মাস্ক ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল আগে থেকেই। ওয়াশিংটন পোস্ট সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে চাকরি খোয়াতে পারেন কোম্পানির ২৫ শতাংশ কর্মী।
কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রথমেই প্রধান নির্বাহী পারাগ আগরাওয়াল, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নেড সিগাল এবং আইন ও নীতিমালাবিষয়ক শীর্ষ নির্বাহী বিজয়া গাড্ডেকে বরখাস্ত করেন মাস্ক।
তবে টুইটারের সঙ্গে এখনও পুরোপুরি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেননি কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং দুইবারের সাবেক প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসি।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সেচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেওয়া নথিপত্র বলছে, নিজের মালিকানায় থাকা টুইটারের ১ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার বিক্রি করেননি ডরসি। টুইটারের জন্য মাস্কের নতুন হোল্ডিং কোম্পানি ‘এক্স হোল্ডিংস ইনকর্পোরেটেড’-এ ওই শেয়ার তিনি রাখছেন।
মে মাসে টুইটারের পরিচালনা পর্ষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও শুরু থেকেই প্ল্যাটফর্মটি মাস্কের হাতে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন ডরসি।
ইলন মাস্ক টুইটারের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সমঝোতা করার পর ডরসি টুইট করেছিলেন, “ইলন হচ্ছে টুইটারের একমাত্র সমাধান, যাতে আমার আস্থা আছে। আমি তার সচেতনতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মিশনে বিশ্বাস করি।”
এদিকে টুইটার কিনতে মাস্কের তহবিলে বিনিয়োগকারী জেসন কালাকানিস টুইটারে এখন নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘চিফ মিম অফিসার’ হিসেবে্ পদবি পাল্টে টুইট করেছেন, “এই পরিবর্তনের সময়ে… টুইটারেই সময় কাটাচ্ছি।”
বিবিসি জানিয়েছে, বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ভিডিও কনটেন্টসহ নানা বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মতামত নিচ্ছেন কালাকানিস। ‘ভেরিফায়েড’ হতে সেবাগ্রাহকরা সর্বোচ্চ কত খরচ করতে চান, সে বিষয়েও জানতে চাইছেন।
প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ সম্প্রতি জানিয়েছে, ‘টুইটার ব্লু’ সেবায় ব্যবহারকারীর নামের পাশে নীল টিক চিহ্ন বা ‘ভেরিফিকেশন মার্ক’ রাখার মাসিক খরচ বাড়িয়ে ২০ ডলার করার পরিকল্পনা করছে টুইটার।
প্রশ্ন সৌদি যোগ নিয়ে
মাস্কের অধীনে টুইটারের মালিকানার একাংশ রয়েছে সৌদি রাজপুত্র আলওয়ালিদ বিন তালাল এবং তার প্রতিষ্ঠান ‘কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির (কেএইচসি)’ অধীনে।
২৮ অক্টোবর তিনি টুইট করেন, তার ব্যক্তিগত শেয়ার এবং কেএইচসিয়ের মালিকানায় থাকা শেয়ারের মাধ্যমে টুইটারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ার মালিক এখন তিনি।
Dear friend "Chief Twit" @elonmusk
— الوليد بن طلال (@Alwaleed_Talal) October 28, 2022
Together all the way ???????? @Twitter https://t.co/J9rnd013xz pic.twitter.com/bXo6RUaUwk
এ অবস্থায় ‘জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে’ মাস্কের টুইটার চুক্তি তদন্ত করে দেখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস মারফি।
তিনি টুইট করেছেন, “সৌদিদের ব্যাপারে আমাদের ভাবা উচিত। রাজনৈতিক বক্তব্যকে চাপা দেওয়া এবং মার্কিন রাজনীতিকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তাদের স্বার্থের বিষয়টি স্পষ্ট। তারাই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মাধ্যমের দ্বিতীয় বৃহত্তম মালিক।”
টুইটার কিনতে ব্যক্তিগত অর্থ সম্পদ বিনিয়োগের পাশাপাশি মাস্ক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আরও এক হাজার তিনশ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
মাস্ক টুইটার কেনার উদ্যোগ নেওয়ার আগে থেকেই টুইটারের শেয়ার মালিক ছিলেন আলওয়ালিদ বিন তালাল। তার ভাষায়, টুইটারের মালিকানা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি তার কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির ‘দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’।