আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ বা ‘ইন্টারস্টেলার ক্লাউড’ গ্যাস ও ধূলিকণার এমন বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যা কোনো ছায়াপথের ভেতরে বিভিন্ন তারার মাঝামাঝি থাকে।
Published : 26 Sep 2024, 02:52 PM
এক সময় নিশাচর মেঘকে বিবেচনা করা হতো মোটামুটি আধুনিক ধরনের ঘটনা হিসেবে।
সম্প্রতি একদল গবেষক হিসাব কষে দেখেছেন, পৃথিবী ও গোটা সৌরজগতের ওপর দিয়ে সম্ভবত দুটি ঘন আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ প্রবাহিত হয়েছে, যেখানে নিশাচর মেঘের কারণে ‘আইস এইজ’-এর ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটতে পারে।
অনুমান বলছে, ঘটনাটি ৭০ লাখ বছর আগে ঘটেছিল, যার ফলে সৌরজগৎকে আবৃত করে রাখা ‘হেলিওস্ফিয়ার’ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ ঘটেছিল আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমের।
আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ বা ‘ইন্টারস্টেলার ক্লাউড’ গ্যাস ও ধূলিকণার এমন বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যা কোনো ছায়াপথের ভেতরে বিভিন্ন তারার মাঝামাঝি থাকে। এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের সঙ্গে অল্প হিলিয়াম ও ভারী উপাদান থেকে গঠিত হয়।
এগুলো তারার জীবনচক্রের বড় এক অংশ, যা নতুন তারা গঠনের উপকরণ সরবরাহ করে ও তারা মারা যাওয়ার পরে বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হয়।
এইসব মেঘের আকার, ঘনত্ব ও অবস্থানেও বড় ভিন্নতা দেখা যায়। এমনকি ছায়াপথের বিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে এদের।
ছায়াপথ ঘিরে পৃথিবীর যাত্রা খুবই ধীরগতির, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় আট লাখ ২৮ হাজার কিলোমিটার গতিতে একটি পূর্ণ কক্ষপথ পরিক্রমণ করতে সময় লাগে প্রায় ২৫ কোটি বছর।
বর্তমানে সৌরজগৎ ‘ওরিয়ন’ কক্ষপথে অবস্থিত, যা আমাদের ছায়াপথে থাকা বিভিন্ন সর্পিল কক্ষপথের একটি।
মেঘের এই যাত্রার সময় পৃথিবীও বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে, যেখানে গ্রহটি বিভিন্ন তারা ও আন্তঃনাক্ষত্রীয় মাধ্যমের সম্মুখীন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘বস্টন ইউনভার্সিটি’র জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের জেস এ. মিলার নেতৃত্বাধীন একদল জ্যোতির্বিদ সময়ের মধ্য দিয়ে সূর্যের পথ ‘ট্রেস করার’ চেষ্টা করেছেন। এতে তারা এমন দুটি ঘটনা শনাক্ত করতে পেরেছেন, যেখানে পৃথিবী ও সৌরজগতের মধ্য দিয়ে দুটি ঘন আন্তঃনাক্ষত্রীয় মেঘ পার হয়েছে।
এর মধ্যে একটি ঘটেছিল ২০ লাখ বছর আগে ও অন্যটি ঘটেছিল ৭০ লাখ বছর আগে। সেইসব মেঘের বৈশিষ্ট্য নিয়ে অনুসন্ধান করার পর গবেষণা দলটি জোর দিয়ে বলছে, মেঘগুলো এত ঘন ছিল যে এরা সৌর বায়ুকে পৃথিবীর কক্ষপথের ভেতর গুটিয়ে রাখতে পারত।
সৌর বায়ু চার্জযুক্ত কণার এমন এক ধ্রুবক প্রবাহ, যার সিংহভাগজুড়েই ইলেক্ট্রন ও প্রোটন থাকে। আর এটি সূর্যের বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তর অর্থাৎ ‘করোনা’ থেকে নির্গত হয়।
এইসব কণা সৌরজগতের মধ্য দিয়ে চারশ থেকে আটশ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড গতিতে প্রবাহিত হয়। আর আমাদের সৌরজগতের শেষ প্রান্তকে এমন এক জায়গা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যেখানে সৌর বায়ুর সঙ্গে আন্তঃনাক্ষত্রীয় মাধ্যমের মেলবন্ধন ঘটে।