Published : 26 Mar 2026, 11:58 AM
মানুষ ঠিক কবে প্রথম হাতিয়ার তৈরি করেছিল? শিল্পকলার চর্চাই বা শুরু হয়েছিল কবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা সহজ নয়।
গ্রিসের চার লাখ ৩০ হাজার বছরের পুরানো কাঠের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার ৬৮ হাজার বছরের প্রাচীন গুহাচিত্র–প্রতিটি নতুন আবিষ্কারই মানুষের আদি ইতিহাসকে নতুন করে চেনার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তবে সময়ের কষাঘাতে সবকিছুই নষ্ট হয়ে যায়। আর প্রযুক্তিরও সীমাবদ্ধতা থাকে। সে কারণে মানুষের বিবর্তনের একটি পূর্ণাঙ্গ সময়রেখা তৈরি করা আজও বিজ্ঞানীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট এক প্রতিবেদনে লিখেছে, মানুষের বিবর্তন নিয়ে কোনো শিরোনাম লেখার সময় ‘সবচেয়ে পুরানো’, ‘প্রাচীনতম’ বা ‘প্রথম’–এসব শব্দই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি যে কেবল পাঠক টানার জন্য, তা নয়। অনেকে ক্ষেত্রে সতিই তাই ঘটে।
কোনো গবেষক যদি এমন প্রমাণ পান যে কোনো প্রজাতি বা তাদের কোনো কাজ প্রচলিত ধারণার চেয়েও পুরানো, তাহলে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আর কোনো কিছু ঠিক কোন ক্রমে বা ধারাবাহিকতায় ঘটেছে, তা বুঝতে পারাটা ‘কেন ঘটেছে’ তা জানার জন্যও জরুরি।
আগে ধারণা ছিল, সব শিলালিপি বা গুহাচিত্র তৈরি হয়েছে গত ৪০ হাজার বছরের মধ্যে। এর অর্থ দাঁড়ায়, এগুলো অবশ্যই হোমো সেপিয়েন্স বা মানুষ প্রজাতি তৈরি করেছে। কারণ নিয়ান্ডার্থালদের মতো অন্যান্য গোষ্ঠী ততদিনে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কথা।
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রাগৈতিহাসিক শিল্পকর্ম তার চেয়েও পুরানো। ফলে নতুন সম্ভাবনা বলছে, নিয়ান্ডার্থালরাও হয়ত শিল্পী ছিল!
প্রথম
দক্ষিণ গ্রিসের এক প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজে গবেষকরা কাঠের তৈরি দুটি বস্তু খুঁজে পান, যা দেখতে অনেকটা যন্ত্রের মতো। একটিকে দেখে মনে হয় মাটি খোঁড়ার লাঠি। অন্যটি ঠিক কী কাজে ব্যবহৃত হত তা বোঝা কঠিন। এগুলোর বয়স প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার বছর, যা এ পর্যন্ত পাওয়া বিশ্বের প্রাচীনতম কাঠের তৈরি হাতিয়ার।
তবে এগুলো আগের রেকর্ডধারী বস্তুগুলোর চেয়ে খুব বেশি পুরানো নয়। যেমন যুক্তরাজ্যে পাওয়া ‘ক্ল্যাকটন স্পিয়ার’ প্রায় চার লাখ বছরের পুরানো বলে ধারণা করা হয়। এটি কয়েক দশক আগে আবিষ্কৃত হওয়ায় এর সঠিক সময়কাল নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আবার জার্মানির শনিংগেনে পাওয়া এক সেট কাঠের বল্লমকে একই সময়ের ভাবা হত। তবে নতুন গবেষণায় সেগুলোর বয়স কমিয়ে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের এক গবেষণা অনুসারে, সেগুলোর বয়স কেবল দুই লাখ বছর হতে পারে।
একই সময়ে ইউরোপে হাড়ের তৈরি হাতিয়ারও দেখা যায়। যুক্তরাজ্যের বক্সগ্রোভে গবেষকরা হাতির মতো এক প্রাণীর, সম্ভবত ‘স্টেপ ম্যামথ’-এর হাড়ের টুকরা খুঁজে পেয়েছেন, যা পাথরের হাতিয়ার বানানোর কাজে হাতুড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হত।
এ হাড়ের হাতিয়ারটি চার লাখ ৮০ হাজার বছরের পুরানো, যা ইউরোপে হাতির হাড় ব্যবহারের প্রাচীনতম উদাহরণ। তবে বিশ্বের অন্য জায়গায় হাড়ের ব্যবহার আরও অনেক আগে শুরু হয়েছিল। যেমন, পূর্ব আফ্রিকায় প্রায় ১৫ লাখ বছর আগেই আদি মানবেরা পরিকল্পিতভাবে হাড় দিয়ে হাতিয়ার তৈরি করত। এ চর্চাটি তারও আগে শুরু হয়ে থাকতে পারে।
মধ্য চীনের সিগোউতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা সম্প্রতি দুই হাজার ৬০১টি পাথরের তৈরি নিদর্শনের একটি ভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলো ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৭২ হাজার বছর আগের পুরানো।
এসব নিদর্শনের মধ্যে ছিল ‘হাফটেড টুলস’, অর্থাৎ এমন সব পাথরের হাতিয়ার যা অন্য কিছুর সঙ্গে, যেমন কাঠের লাঠি বা হাতলে যুক্ত করা থাকত। গবেষকদের মতে, এটাই সম্ভবত পূর্ব এশিয়ায় এ ধরনের ‘কম্পোজিট টুলস’ বা যৌগিক হাতিয়ার ব্যবহারের প্রাচীনতম নমুনা।
সবশেষে গত জানুয়ারিতে জানা গেল, দক্ষিণ আফ্রিকায় মানুষ ৬০ হাজার বছর আগেই বিষাক্ত তীর দিয়ে শিকার করত। প্রত্নতাত্ত্বিকরা কোয়ার্টজাইট পাথরের তৈরি পাঁচটি তীরের মাথা খুঁজে পেয়েছেন, যাতে আঠালো এক বিষাক্ত তরলের প্রলেপ লাগানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিষ কোনো গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
তবে প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনে সাধারণ নজরে যা দেখা যায়, তার চেয়েও গভীর কিছু বিষয় লুকিয়ে থাকে।

আরও অতীতে, ইতিহাসের গভীরে
যেসব কাঠের হাতিয়ারকে এখন ‘প্রাচীনতম’ বলা হচ্ছে, সেগুলোই যে আসলে পৃথিবীর প্রথম কাঠের হাতিয়ার–তা কিন্তু নয়। এখানে মূল সমস্যা হলো স্থায়িত্ব। কাঠ পচে যায়। ফলে প্রাগৈতিহাসিক যুগের কাঠের তৈরি সরঞ্জামের খুব সামান্যই এ সময়ের মানুষের হাতে এসে পৌঁছায়।
কাঠের হাতিয়ার আবিষ্কারের নেতৃত্ব দেওয়া গবেষক ক্যাটরিনা হার্ভাটি বলেছেন, “মানুষ চার লাখ বছরেরও অনেক আগে কাঠের হাতিয়ার ব্যবহার করত। সমস্যা হচ্ছে, আমরা সেগুলো এখনও খুঁজে পাইনি।”
আসলে, পাথর কাটার চেয়ে কাঠ দিয়ে কাজ করা সহজ। শিম্পাঞ্জিরাও কাঠের সাধারণ হাতিয়ার তৈরি করে। ফলে এমন হতে পারে, কাঠের তৈরি সরঞ্জামই ছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন প্রযুক্তি।
আগামী সপ্তাহে যদি কোনো গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, যে ১০ লাখ বছর আগের কাঠের হাতিয়ার পাওয়া গেছে, তবে তা হবে বড় আবিষ্কার। কিন্তু বিষয়টি মোটেও অবাক হওয়ার মতো কিছু হবে না। সবচেয়ে বড় কৌতুহলের বিষয় হবে, ওই কাঠের হাতিয়ার এতদিন টিকে থাকল কীভাবে!
এই আলোচনার সারমর্ম দাঁড়ায়, সবচেয়ে পুরানো কাঠের হাতিয়ারটির বয়সের ওপর ভিত্তি করে মানুষের বিবর্তনের পুরো ইতিহাস লেখা ঠিক হবে না। মানুষ আসলে ঠিক কবে থেকে এগুলো ব্যবহার শুরু করেছিল সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হলে আরও অনেক জায়গায় এবং বিভিন্ন সময়ের নিদর্শনের ওপর নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে।
এখন ওই বিষাক্ত তীরের বিষয়টি ধরা যাক, যেগুলো এখন পর্যন্ত পাওয়া বিষ লাগানো তীরের মাথার প্রাচীনতম উদাহরণ বলা হচ্ছে। তবে একই নকশার তীরের মাথা এর চেয়েও কয়েক হাজার বছর আগের নিদর্শনে মিলেছে। কাঠের মতো বিষও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পচে বা মিশে যেতে পারে, যা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
তবে একটি বিষয় মোটামুটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলা যায়। বিষাক্ত তীর হল এক ধরনের যৌগিক প্রযুক্তি, যেখানে দুই বা ততোধিক জিনিসকে একত্রে যুক্ত করা হয়েছে। মানুষের বিবর্তনের একেবারে শেষ ধাপেই কেবল এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভব হয়েছে। ‘আর্ডিপিথেকাস’ বা ‘অস্ট্রালোপিথেকাস’-এর মতো আদি মানবেরা এ ধরনের যৌগিক প্রযুক্তি তৈরি করতে পারত–তেমন কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে তারা হয়ত কাঠ বা হাড় দিয়ে সাধারণ বা সরল হাতিয়ার তৈরি করতে পারত।
কাজেই বিষাক্ত তীরের উৎপত্তিকাল বুঝতে মানুষের কেবল ‘৬০ হাজার বছরের’ সীমার মধ্যে আটকে থাকা ঠিক হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে ভুলের সম্ভাবনাও হয়ত খুব বেশি নয়।
এরপর আসে প্রাচীনতম শিল্পের প্রশ্নটি, যা এক কথায় এক বিভীষিকাময় গোলকধাঁধা।
প্রাগৈতিহাসিক গ্রাফিতি
সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাচীন শিল্পকর্ম হচ্ছে গুহাচিত্র। এর পাশাপাশি ভাস্কর্য, খোদাই করা নকশা এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে। তবে বড় সমস্যা হল, এগুলোর সঠিক সময়কাল বা বয়স নির্ধারণ করা কঠিন।
মাটির নিচে চাপা পড়া কোনো ভাস্কর্য খুঁজে পেলে অনেক সময় সেই মাটির স্তর পরীক্ষা করে বয়স বের করা যায়। তবে গুহাচিত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল।
এসব ছবি কাঠকয়লা দিয়ে আঁকা হলে ‘কার্বন ডেটিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব। তবে তা কেবল গত ৫০ হাজার বছরের ছবি হলে তবেই কাজ করবে। এর চেয়ে পুরানো হলে কার্বন ডেটিং পদ্ধতি আর কাজে আসে না। ফলে বেশিরভাগ গুহাচিত্রের বয়স কখনোই মাপা হয়নি ও বর্তমান প্রযুক্তিতে অনেক সময় তা সম্ভবও নয়।
কয়েক সপ্তাহ আগে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের এক গুহার দেয়ালে আঁকা হাতের ছাপ ৬৭ হাজার ৮০০ বছরের পুরানো। বর্তমানে তা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের প্রাচীনতম শিলাশিল্প হিসেবে স্বীকৃত।
এ আবিষ্কার উত্তর স্পেনের এক গুহায় পাওয়া একই ধরনের হাতের ছাপের রেকর্ড ভেঙেছে, যা নিয়ান্ডার্থালদের আঁকা বলে ধারণা করা হত।
এসব শিল্পকর্মের বয়স নির্ধারণ হয়েছে সেগুলোর ওপর জমে থাকা পাথরের পাতলা আস্তরণ পরীক্ষা করে। গুহার দেয়ালে পানি গড়িয়ে পড়ার ফলে খনিজ জমে এসব স্তর তৈরি হয়, যাকে বলে ‘ফ্লোস্টোন’।
এসব আস্তরণের বয়স মাপা গেলেও তা কেবল ‘সর্বনিম্ন বয়স’ সম্পর্কে ধারণা দেয়। এর নিচে থাকা মূল শিল্পকর্মটি হয়ত আরও অনেক অনেক বছর আগের।
এখন মানুষের কাছে প্রচুর তথ্য আছে, যার অনেকগুলোই ১০ বা ২০ বছর আগেও জানা ছিল না। ফলে কীভাবে মানুষের বিবর্তন ও সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি নির্ভরযোগ্য সময়রেখা তৈরি হতে পারে এবং কোন কোন বিষয় চিরকাল অনিশ্চয়তার মধ্যেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে, তা বোঝা সম্ভব।
জীবাশ্ম বা ফসিল রেকর্ডের ক্ষেত্রে নমুনার সংখ্যা অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বেশিরভাগ জীবাশ্মবিদ ডাইনোসরের মতো বড় ও আকর্ষণীয় প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করেন না। তারা সামুদ্রিক শামুক বা ঝিনুকের মতো ছোট জিনিস নিয়ে কাজ করেন।
এর কারণ, এসব প্রাণীর জীবাশ্ম পাওয়া যায় বেশি পরিমাণে। ফলে তাদের বিবর্তনে ঘটা বিভিন্ন পরিবর্তন খুব বিস্তারিতভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। একটি প্রজাতির জীবাশ্ম যদি বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় এবং ৬৬ কোটি বছর আগে তা হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় তবে সিদ্ধান্তে আসা সহজ হয় যে, প্রজাতিটি আসলে ওই সময়েই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
আদি মানবের এমন অনেক প্রজাতি আছে, যাদের কেবল হাতেগোনা কয়েকটি নমুনা মানুষের কাছে আছে। এর মানে, তারা ঠিক কতদিন টিকে ছিল বা তারা কতটা বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে ছিল, সে সম্পর্কে এখকনার মানুষের কাছে কার্যত কোনো তথ্য নেই।
আবার একটি প্রজাতি সরাসরি অন্য প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে, নাকি এর পেছনে আরও কোনো জটিল প্রক্রিয়া কাজ করেছে, সেসব বিষয়ও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বরং পাথরের হাতিয়ারের বিষয়ে মানুষের কাছে বেশ বিস্তারিত রেকর্ড আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব রেকর্ড আরও পেছনের ইতিহাস জানাচ্ছে।
কেনিয়ায় পাওয়া ৩৩ লাখ বছর আগের ‘লোমেকুইয়ান’ হাতিয়ারগুলোকে এখন ‘সবচেয়ে প্রাচীন’ ধরা হয়। এর চেয়েও পুরানো হাতিয়ার পাওয়া গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
তবে ৬০ থেকে ৪৫ লাখ বছর আগে ‘ওরোশিন’ এবং ৫৮ থেকে ৪৪ লাখ বছর আগে ‘আর্ডিপিথেকাস’-এর মতো আদি পূর্বপুরুষরা সম্ভবত গাছের ওপরেই বেশি সময় কাটাত। ফলে তাদের পাথরের হাতিয়ার তৈরির প্রমাণ মিলে গেলে অবাক হওয়ার মতই বিষয় হবে।
কাঠের হাতিয়ারের বিষয়টি আবার আলাদা। মানুষের কাছে এর নমুনার সংখ্যা খুবই কম, কারণ কাঠ নষ্ট হয়ে যায়। শিল্পকলার সময় জানার ক্ষেত্রে মানুষের প্রধান সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি। সংরক্ষিত প্রাচীন শিল্পের নমুনা একেবারে কম নেই। মুশকিল হল, সেগুলোর বয়স সঠিকভাবে জানার মত কোনো প্রযুক্তি এখনো মানুষের জানা নেই।
বর্তমানে মানুষ শিল্পকলার বিকাশের কোনো নিখুঁত সময়রেখা তৈরি করতে পারছে না। ফলে বিষয়টিকে কোনো বড় ইতিহাসের সঙ্গে মেলানোর যে কোনো চেষ্টাকেই অনেকে সন্দেহের চোখে দেখেন।
তবে আরও বেশি শিল্পকর্মের বয়স নির্ধারণ ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। এক অর্থে, মানুষের বিবর্তন নিয়ে সব গল্পই সাময়িক বা পরিবর্তনশীল। অবশ্য জীবাশ্ম বিজ্ঞানের সব ক্ষেত্রে এটা সব সময়ই সত্য। তবে কিছু গল্প অন্যগুলোর চেয়ে বেশি অনিশ্চিত।
যেমন, ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষে ডাইনোসরদের বিলুপ্তি নিয়ে খুব বেশি তর্কের অবকাশ নেই। তবে মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে এখনও অনেক অস্পষ্টতা আর ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। আরও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে বের করে এবং উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে হয়ত কিছু অস্পষ্টতা দূর করা সম্ভব। আর বাকিটুকুর সঙ্গে হয়ত মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে মানুষকে।