Published : 14 Mar 2026, 01:12 PM
গুগল ম্যাপস এখন কেবল রাস্তা দেখানোর অ্যাপ নয়, বরং ব্যক্তিগত এআই সহকারীও হয়ে উঠছে। এখন থেকে ম্যাপের সঙ্গে কথা বলেই ব্যবহারকারীরা খুঁজে নিতে পারবেন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা জায়গা বা জটিল সমস্যার সমাধান।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি প্রতিবেদনে লিখেছে, নিজেদের ম্যাপস অ্যাপে এআই প্রযুক্তি জেমিনাই যোগ করছে গুগল। নিজেদের বিভিন্ন এআই টুলকে সব ধরনের সেবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার এক ব্লগ পোস্টে গুগল ম্যাপসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিরিয়াম ড্যানিয়েল বলেছেন, ম্যাপসে ‘আস্ক ম্যাপস’ নামের নতুন ফিচার যোগ হচ্ছে। এ চ্যাটবটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সাধারণ দিকনির্দেশনার বাইরেও নানা জটিল প্রশ্ন করতে পারবেন।
যেমন, ‘আমার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কফির জন্য লম্বা লাইনে না দাঁড়িয়ে কোথায় ফোন চার্জ দেওয়া যাবে?’ বা ‘আশপাশে কি এমন কোনো পাবলিক টেনিস কোর্ট আছে, যেখানে পর্যাপ্ত আলো আছে ও আমি আজ রাতে খেলতে পারব?’
গুগল বলেছে, এআইয়ের উত্তরগুলো ব্যবহারকারীর আগের সার্চ ও সেইভ করা ট্রিপ বা ভ্রমণের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পার্সোনালাইজড বা ব্যক্তিগতকৃত হবে, যা তাদের বিভিন্ন ‘পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সহজ করে তুলবে’।
ব্লগ পোস্টে কোম্পানিটি আরও বলেছে, “একটি ম্যাপ আসলে কী কী করতে পারে সেটা গুগল ম্যাপস আগাগোড়া বদলে দিচ্ছে। বিশ্বের সবশেষ তথ্যে ঠাসা ম্যাপের সঙ্গে আমাদের সেরা এআই মডেল জেমিনাইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে ম্যাপ দেখাকে সহজ আলাপে রূপান্তর করছি আমরা।
“গত এক দশকের মধ্যে ন্যাভিগেশনে আমাদের সবচেয়ে বড় আপগ্রেডের মাধ্যমে ড্রাইভিংকে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজবোধ্য করে তুলছি।”
গুগল নিজেদের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী এআই থেকে জেমিনাইকে আলাদা করতে ও ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় নিজেদের অ্যাপে ধরে রাখতে ম্যাপ সার্ভিসে আরও বেশি এআই যোগ করছে।
মাসে ২০০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে ‘গুগল ম্যাপস’ বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর ন্যাভিগেশন অ্যাপ, যা গত বছরই ২০ বছরে পা দিয়েছে।
গুগল বলেছে, বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতে অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের আইওএস প্ল্যাটফর্মে ‘আস্ক ম্যাপস’ ফিচারটি চালু করেছে তারা। ডেস্কটপ সংস্করণেও ফিচারটি দ্রুত আসবে।
এ ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় গুগল কর্মীরা বলেছিলেন, আপাতত এ ফিচারে কোনো বিজ্ঞাপন রাখা হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপন আসার সম্ভাবনা একদম উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গুগলের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু ডুচি বলেছেন, “বর্তমানে আমাদের মূল লক্ষ্য, ফিচারটি ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের দারুণ এক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।”
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিজ্ঞাপন ও ম্যাপে বিশেষ অবস্থান বিক্রির মাধ্যমে আয় করে গুগল ম্যাপস। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিকে তাদের ম্যাপ এপিআই ও লোকেশন ডেটা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েও তারা চার্জ নেয়।
‘মরগান স্ট্যানলি’র বিশ্লেষক ব্রায়ান নোয়াক বলেছেন, গুগল তাদের ম্যাপস বিভাগ থেকে ঠিক কত অ্থ আয় করে তা আলাদাভাবে প্রকাশ করে না। অ্যাপটি থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত আয় করা সম্ভব হয়নি।
তবে বর্তমানে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে গুগল, যার মধ্যে পরিবেশবান্ধব শক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন কোম্পানির কাছে নতুন ধরনের ম্যাপ ডেটা লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।