১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই ‘সব মানুষকে মেরে ফেলতে পারে’: সাবেক গুগল গবেষক

অ্যানথ্রপিক প্রধান দারিও আমোদেই উন্নত এআই তৈরির গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই আহ্বানে বিরল সমর্থন দিয়েছেন স্পেসএক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান।

এআই ‘সব মানুষকে মেরে ফেলতে পারে’: সাবেক গুগল গবেষক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ উন্নয়ন সম্ভব। এজন্য এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। ছবি: বিলাল চুঘতাই

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Sep 2026, 05:38 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিন ‘সব মানুষকে মেরে ফেলতে পারে’, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গুগল ডিপমাইন্ডের সাবেক এক গবেষক। এ ঝুঁকি এড়ানোর সময়ও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে মনে করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতর থেকেই একের পর এক সতর্কবাণী আসছে। 

এরই মধ্যে গুগল ডিপমাইন্ডের সাবেক গবেষণা প্রকৌশলী বিলাল চুঘতাইও একই ধরনের সতর্কতা জানালেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন সম্প্রতি পদত্যাগের পর বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ সত্যিই বিশ্বাস করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই ‘আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে’।

এরপর অ্যানথ্রপিকের বিজ্ঞানী ইভান হুবিঙ্গার কক্সনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সব মানুষের মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে তিনি মনে করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে চুঘতাই লিখেছেন, ‘আমি সম্প্রতি গুগল ডিপমাইন্ড থেকে পদত্যাগ করেছি। সেখানে আমি আর্টিশিফিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বা এজিআইয়ের নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্ট গবেষণা নিয়ে কাজ করেছি। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আমাদের সবাইকে মেরে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে এবং এই পরিণতি এড়ানোর সময় হয়ত আমাদের ফুরিয়ে আসছে।’

চুঘতাই গুগল ডিপমাইন্ডে থাকার সময় গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছেন। তার প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কোম্পানিটি ছাড়েন।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগের মধ্যে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই উন্নত এআই তৈরির গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই আহ্বানের বিরল সমর্থন পেয়েছেন স্পেসএক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। এ নিয়ে প্রযুক্তি খাতে এআই নিয়ে অতিরিক্ত ভয় বা ‘ডুমারিজম’ নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তবে, চুঘতাই মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ উন্নয়ন সম্ভব। এজন্য এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘এই উন্মত্ত প্রতিযোগিতা এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে যাতে না চলে, তা এড়াতে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এআই উন্নয়নের গতি এমন পর্যায়ে রাখতে হবে, যা সমাজ সামলাতে পারে। একই সঙ্গে উদীয়মান ঝুঁকিগুলোও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে চরম ক্ষতি হওয়ার আগেই সেগুলো মোকাবিলা করা যায়।’

তবে এআই নিয়ে এমন সতর্কবার্তার সঙ্গে একমত নন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এআই শিল্পের নিয়ন্ত্রণের আহ্বানকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন যত দ্রুত এগোচ্ছে, এর সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রশ্নটিও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তি খাতের ভেতরের গবেষকদের এমন সতর্কবার্তাই সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করছে।