১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফোল্ডএবল আইফোন ও এআই নিয়ে পরীক্ষার মুখে নতুন অ্যাপল প্রধান

নতুন সিরি গ্রহণ করতে ও অ্যাপল যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সে বিষয়ে গ্রাহক ও থার্ড-পার্টি ডেভেলপারদের রাজি করানোই হবে টার্নাসের বড় চ্যালেঞ্জ।

ফোল্ডএবল আইফোন ও এআই নিয়ে পরীক্ষার মুখে নতুন অ্যাপল প্রধান
এআই ব্যবহারের জন্য অ্যাপলের ডিভাইসগুলোই সেরা মাধ্যম– গ্রাহকদের মনে এ ভরসা তৈরিতে এখন বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছেন টার্নাস। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 10:12 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

জন টার্নাসের নেতৃত্বাধীন প্রথম বড় এ আয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাজারে আধিপত্য বিস্তার ও প্রথম ফোল্ডএবল আইফোনের মাধ্যমে নতুন মাইলফলকের লক্ষ্যে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে অ্যাপল।

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের পরিচালনায় বুধবার কোম্পানিটির আধুনিক সব পণ্য উন্মোচিত হবে। ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশা, এ ইভেন্টে অ্যাপল প্রমাণ করবে, তারা এখনও যুগান্তকারী হার্ডওয়্যার ও এআই প্রতিযোগিতায় টেক্কা দেওয়ার মতো উন্নতমানের ভার্চুয়াল সহকারী ‘সিরি’ উপহার দেবে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্যালিফোর্নিয়ার কুপার্টিনোতে অবস্থিত কোম্পানির সদর দপ্তরে অ্যাপল সম্ভবত পাসপোর্টের মতো ভাঁজ করা যায় এমন নতুন আইফোন ঘোষণা দেবে।

তাদের ভাষ্য, ডিভাইসটির দাম আড়াই হাজার ডলারের বেশি হবে এবং এর ক্যামেরা ও প্রসেসর হয়ত বাজারের সেরা না হলেও ফোল্ডএবল ফোনের বাজারে তা দ্রুত শীর্ষস্থান দখল করতে পারে।

গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সিরি’র আমূল সংস্কারের ঘোষণা কোম্পানিটি আগেই দিয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ এ সংস্কার সফল হলে তা দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলের জেমিনাই সহকারীর সমান হতে অ্যাপলকে সুযোগ করে দিতে পারে, যা টার্নাসের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে প্রমাণিত হবে।

অ্যাপলের শত কোটি ছাড়ানো ডিভাইস ব্যবহারকারী ও গ্রাহক ভিত্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা জেনারেটিভ এআইয়ের বাজারে তাদের কিছুটা দেরিতে প্রবেশ করার বিষয়টি একরকম এড়িয়ে গেছেন।

এআই ব্যবহারের জন্য অ্যাপলের ডিভাইসগুলোই সেরা মাধ্যম– গ্রাহকদের মনে এ ধারণা তৈরির ক্ষেত্রে এখন বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছেন টার্নাস।

কারণ, এর ওপরই নির্ভর করছে তিনি সাবেক সিইও টিম কুকের উত্তরাধিকার ধরে রাখতে পারবেন না কি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।

নতুন প্রিমিয়াম আইফোন

অ্যাপল তাদের প্রিমিয়াম আইফোন প্রো ও প্রো ম্যাক্স ডিভাইসগুলো আপডেট করলেও আইফোন এয়ার ও বেইস বা বাজেট লাইনগুলোর আপডেট বসন্তকাল পর্যন্ত স্থগিত রাখতে পারে।

এ ইভেন্টের মূল আকর্ষণ ফোল্ডএবল ফোনের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতেই এ কৌশল নিয়েছে অ্যাপল।

আইডিসি’র জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল বলেছেন, আড়াই হাজার ডলার দামের পরও অ্যাপলের ফোল্ডএবল ফোনটি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই লুফে নেওয়া হবে। কারণ এক্সক্লুসিভিটি, বিলাসিতা ও বিরলতার এক চমৎকার আবহ তৈরি করতে অ্যাপল বরাবরই পটু।

ফোল্ডএবল ফোন সার্বিক মোবাইল বাজারের ১০ শতাংশের নিচে থাকলেও আগামী বছরের শেষ নাগাদ কেবল এ ফোনটি থেকেই অ্যাপল ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি রাজস্ব পাবে বলে আশা করছেন পোপাল।

প্রায় দুই দশক ধরে প্রচলিত সাধারণ ক্যান্ডিবার আকৃতির ফোনের পর ফোল্ডএবল ফোনের প্রধান আকর্ষণ এর ভিন্নধর্মী নতুনত্ব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্যামসাং, গুগল ও চীনের হুয়াওয়ে ২০১৯ সাল থেকে ফোল্ডএবল ফোন বিক্রি করে এলেও হাজার বার ব্যবহারের পরও টেকসই ও স্ক্রিনের মাঝের ভাঁজ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার মতো প্রকৌশলগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সমাধান করে দেরিতে বাজারে প্রবেশ করায় অ্যাপল বাড়তি সুবিধা পাবে।

‘মুর ইনসাইটস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’র বিশ্লেষক অংশেল স্যাগ নিজে অনেক ফোল্ডএবল ডিভাইস পরীক্ষা করেছেন। তিনি বলেছেন, “প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে কোনটি সফল হয়েছে আর কোনটি হয়নি তা অ্যাপল খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।”

নতুন সিরির বড় পরীক্ষা ও টার্নাসের চ্যালেঞ্জ

এআইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই প্রতি কয়েক সপ্তাহ পরপর বড় ধরনের আপডেট নিয়ে এলেও অ্যাপল তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে কাজ করেছে।

ফলে নতুন সিরি গ্রহণ করতে ও অ্যাপল যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সে বিষয়ে গ্রাহক ও থার্ড-পার্টি ডেভেলপারদের রাজি করানোই হবে টার্নাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

‘ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজি’র ক্যারোলাইনা মিলানেসি বলেছেন, “সিরি যদি আগের মতো অকার্যকর থাকত তবে বুধবারের অনুষ্ঠানটি তার জন্য বেশি কঠিন হত। এখন তারা স্বাচ্ছন্দ্যেই বলতে পারছে, সিরি কার্যকর ও মূল্যবান তবে এটাকে আরও উন্নত করতে ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাঁচ বছর হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান হিসেবে তুলনামূলক নিভৃতে কাজ করা টার্নাস অন-ডিভাইস এআই প্রসারের ভিত্তি হিসেবে শক্তিশালী ডিভাইস তৈরির ওপরই বেশি জোর দেবেন।

তবে ‘ডিপওয়াটার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট’-এর জিন মুনস্টার বলেছেন, তাকে বড় ধরনের আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। চীনের বাজারে অনুমোদন পেতে অ্যাপলের সিরি আপডেট ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় নিতে পারে এবং ইউরোপে রেগুলেটরি বা আইনি বিরোধের কারণে তা শুরুতেই পাওয়া যাবে না।

“যুক্তরাষ্ট্রে সময়মত তা চালু করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা ইউরোপেও এ ধরনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে আস্থা তৈরি করবে।”