Published : 17 May 2026, 04:13 PM
দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের সম্ভাব্য শ্রমিক ধর্মঘট এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর কারখানা কেবল একদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে যে পরিমাণ লোকসানের আশঙ্কা থাকে তা দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
রোববার এক ঘোষণায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় নিয়োগকর্তা কোম্পানি স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের সম্ভাব্য শ্রমিক ধর্মঘট এড়াতে ও ধর্মঘট হলে তার ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে জরুরি সালিশসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার সরকারি মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতিতে নতুন করে বেতন সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মেমরি চিপ নির্মাতা কোম্পানি এবং দক্ষিণ কোরীয় শ্রমিক ইউনিয়ন।
এ উদ্যোগের ফলে টেক জায়ান্টটিতে সম্ভাব্য ধর্মঘটের কারণে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে। স্যামসাং একাই দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
রোববার মন্ত্রীদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক বলেছেন, “স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ কারখানায় কেবল একদিনের উৎপাদন বন্ধ থাকলেই প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ওয়ান বা ৬৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলার সমপরিমাণ লোকসান হতে পারে।
“আরও উদ্বেগের বিষয়, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদন সরবরাহে সাময়িক বিরতি দেখা দিলেও তার জেরে পরবর্তী কয়েক মাস উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ে।”
তিনি আরও বলেছেন, ধর্মঘটের কারণে কারখানার কাঁচামাল যদি ফেলে দিতে হয় তবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন ওয়ান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, যদি এমন হয় যে, কোনো শ্রম বিরোধ দেশের অর্থনীতি বা জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্ষতি করতে পারে তবে দেশটির শ্রমমন্ত্রী ‘জরুরি সালিশি আদেশ’ জারি করতে পারেন।
এ আদেশ জারি হলে পরবর্তী ৩০ দিনের জন্য যে কোনো ধরনের কর্মবিরতি বা আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায় এবং এ সময়ে ‘ন্যাশনাল লেবার রিলেশনস কমিশন’ মধ্যস্থতা ও সালিশির কাজ পরিচালনা করে।
সাধারণত এ ধরনের আদেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় খুব কমই জারি হয়, বিশেষ করে শ্রমিকবান্ধব সরকারের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে ব্যতিক্রমী ও কঠোর সিদ্ধান্ত।
শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আন্তরিকতার সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী কিম বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রপ্তানির ২২.৮ শতাংশ ও দেশের শেয়ার বাজারের ২৬ শতাংশ অংশই স্যামসাংয়ের দখলে।
কোম্পানিটিতে সরাসরি ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ কাজ করেন এবং প্রায় ১ হাজার ৭০০টি সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্যামসাং।