Published : 17 Jun 2026, 01:54 PM
বিশ্বকাপে ১৬ গোল মানে কি? অসাধারণ অর্জন, স্মরণীয় সাফল্য, শ্রেষ্ঠত্বের মাইলফলক এবং আরও অনেক কিছু। এরকমই বলবেন হয়তো সবাই। কিন্তু এই ১৬ গোলের নায়ক যিনি, তিনি এসবকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে লিওনেল মেসি বললেন, তার কাছে এটি কেবলই সংখ্যা।
১৩ গোল নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিলেন মেসি। প্রথম ম্যাচের পরই গোল সংখ্যা হয়ে গেছে ১৬টি!
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি তার একাদশ হ্যাটট্রিক হলেও বিশ্বকাপে এই স্বাদ পেলেন প্রথমবার।
প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড তিনি স্পর্শ করেছেন এই ম্যাচে। আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যাচ খেলার ডাবল সেঞ্চুরিও করেছেন। এই ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে স্পর্শ করলেন মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড।
তার এত এত অর্জন আর গোলের রেকর্ড নিয়ে আন্দোলিত গোটা ফুটবলবিশ্ব। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের রোমাঞ্চ তাকে খুব বেশি স্পর্শ করতে পারছে না।
“ক্লোসার পাশে এই জায়গায় থাকতে পারা সম্মানের, রোনালদোও আছেন কাছেই। তবে এসবের কোনো মূল্য নেই। এমবাপেও আছে কাছেই, দুটি গোল করেছে আজকে। তবে দিনশেষে, এসব কেবলই সংখ্যা, এর বেশি কিছু নয়।”
“তাদের সঙ্গে লড়তে পারা বড় সম্মানের, তবে এটি (রেকর্ড) এমন কিছু নয়। রোনালদোকে দেখে বেড়ে উঠেছি আমি এবং আমার চোখে তিনি গ্রেটদের একজন। কিন্তু সে শীর্ষে নয়। কাজেই, এটা কেবলই পরিসংখ্যান।”
১৫ গোল নিয়ে রেকর্ডের দুইয়ে আছে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো। মেসির তিন গোলের আগে একই দিনে সেনেগালের বিপক্ষে দুই গোলের পর কিলিয়ান এমবাপের গোল এখন ১৪টি।
২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হেরে যখন বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা, সেই ম্যাচের ধারাভাষ্যকার বলেছিলেন, “নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপে মেসির শেষ ম্যাচ এটি। পরের বিশ্বকাপে তার বয়স হয়ে ৩৫, তখন তিনি আর থাকবেন না।”
অথচ সেই ৩৫ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ জিতেছেন মেসি। ২০১৮ সালের ওই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দুটি কোপা আমেরিকাও জিতে নিয়েছেন। ইউরোপের ফুটবল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও আলোড়ন তুলেছেন। মেজর লিগ সকারে এনেছেন নতুন প্রাণের জোয়ার। এখন এই ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে বিশ্বকাপ শুরু করলেন হ্যাটট্রিক দিয়ে।
এই পুরো ভ্রমণে পেছন ফিরে তাকিয়ে তৃপ্তিই পান মেসি। ক্যারিয়ার ও জীবনের এই পর্যায়টা তিনি উপভোগ করছেন দারুণভাবে।
“আমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে, এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে যেতে পেরে আমি খুব খুশি। এখন আমি কেবল উপভোগ করছি এবং যা পাচ্ছি, সেসবকে বলা যায় সোনায় সোহাগা। এই চমৎকার দলটির প্রতি আমি খুবই খুশি ও কৃতজ্ঞ। খুবই উপভোগ করছি সবকিছু।”
শিরোপা ধরে রাখার অভিযান জয় দিয়ে শুরু করতে পেরেও স্বস্তি পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
“বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন হয়, এবং আমরা দেখছি যে, কেউই সহজে হাল ছেড়ে দিচ্ছে না। এটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বকাপ, যেখানে দলগুলো দারুণভাবে প্রস্তুত।”