১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদকে ঘিরে ঘোরার প্রস্তুতিতে আর্টেমিস টু নভোচারীরা

আর্টেমিস টু মিশন শুরু হওয়ার ৪ দিন ৬ ঘণ্টা ২ মিনিট পর চাঁদ থেকে ৩৯ হাজার মাইল দূরত্বে থাকাকালীন এ পরিবর্তনটি ঘটেছে।

চাঁদকে ঘিরে ঘোরার প্রস্তুতিতে আর্টেমিস টু নভোচারীরা
কাজের ফাঁকে মহাকাশের দৃশ্য উপভোগের জন্য নভোচারীরা পর্যাপ্ত সময় পেয়েছেন। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Apr 2026, 05:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:21 PM

মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস গড়তে চাঁদের প্রভাব বলয়ে প্রবেশ করেছে নাসার আর্টেমিস টু নভোচারীরা। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম চারজন নভোচারী মানুষের তৈরি কোনো যানে চড়ে পৃথিবী থেকে এতটা দূরে গেলেন।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ করার কথা রয়েছে নভোচারীদের, যা মানুষকে পৃথিবী থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে নিয়ে যাবে এবং অ্যাপোলো ১৩-এর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভাঙবে।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, চাঁদের প্রভাব বলয়ে প্রবেশের মাধ্যমে মহাকাশযানটির ওপর এখন পৃথিবীর টানের চেয়ে চাঁদের মহাকর্ষ বলের প্রভাবই বেশি।

আর্টেমিস টু মিশন শুরু হওয়ার ৪ দিন ৬ ঘণ্টা ২ মিনিট পর চাঁদ থেকে ৩৯ হাজার মাইল দূরত্বে থাকাকালীন এমন পরিবর্তনটি ঘটেছে।

এ অভিযানের পরবর্তী ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি শুরু হবে মঙ্গলবার। তখন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো দিক দিয়ে ঘুরে আসবে, যা মানুষকে মহাকাশের এমন গভীরে নিয়ে যাবে, যেখানে এর আগে কেউ কখনও পৌঁছাতে পারেনি।

চন্দ্রপৃষ্ঠের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এ সপ্তাহটি কাটিয়েছেন আর্টেমিস টু’র ক্রু সদস্যরা। ছবি: নাসা

চন্দ্রপৃষ্ঠের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এ সপ্তাহটি কাটিয়েছেন আর্টেমিস টু’র ক্রু সদস্যরা

তাদের কক্ষপথের সর্বোচ্চ বিন্দুতে নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরে অবস্থান করবেন, যা অ্যাপোলো ১৩-এর ক্রুদের আগের রেকর্ডটি প্রায় ৪ হাজার মাইলেরও বেশি ব্যবধানে ভেঙে দেবে।

অভিযানে নভোচারীরা যা যা করছেন

চন্দ্রপৃষ্ঠের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এ সপ্তাহটি কাটিয়েছেন আর্টেমিস টু’র ক্রু সদস্যরা।

যার মধ্যে ছিল মহাকাশযানটি হাতে চালানোর মহড়া, ছয় ঘণ্টার পর্যবেক্ষণ সময়ের বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন লক্ষ্য পর্যালোচনা এবং তাদের স্পেস স্যুটগুলো পরীক্ষা করা।

এসব বিশেষ স্যুট কোনো জরুরি অবস্থায় জীবন রক্ষার জন্য ও পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় ব্যবহার করবেন নভোচারীরা।

তবে কাজের ফাঁকে মহাকাশের দৃশ্য উপভোগের জন্য নভোচারীরা পর্যাপ্ত সময় পেয়েছেন। আর সেসব দৃশ্য ছিল সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার শেয়ার করা সর্বশেষ ছবিগুলোতে দেখা গেছে, ওরিয়ন মহাকাশযানের জানালা দিয়ে নভোচারীরা একদৃষ্টিতে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছেন।

ওরিয়ন মহাকাশযানটি সোমবার, ৬ এপ্রিল মাঝরাতের কিছু সময় পরেই চাঁদের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছে যাবে, যা বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোরবেলা।

ওই দিনই পরের দিকে ক্রু সদস্যরা পৃথিবী থেকে মানুষের ভ্রমণ করা সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে পৌঁছাবেন। এর মাধ্যমে তারা ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩-এর নভোচারীদের গড়া পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্বের রেকর্ডটি ছাড়িয়ে যাবেন।

চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে কেবল ৪ হাজার ৬৬ মাইল দূরে থাকবে ওরিয়ন। ছবি: নাসা

চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে কেবল ৪ হাজার ৬৬ মাইল দূরে থাকবে ওরিয়ন

চাঁদ পর্যবেক্ষণের সময়কাল শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে, যা বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৫মিনিটে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর নভাচারীরা চাঁদের উল্টো পিঠে যাবেন ও কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে।

ওরিয়ন মহাকাশযানটি সন্ধ্যা ৭টা ০২ মিনিটে চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাবে, যা বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২মিনিট। এ সময় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে কেবল ৪ হাজার ৬৬ মাইল দূরে থাকবে ওরিয়ন।

নাসা বলেছে, “এই দূরত্ব থেকে ক্রু সদস্যরা চাঁদের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলসহ পুরো চাঁদটিকে একসঙ্গে দেখতে পাবেন।”

পরবর্তীতে নভোচারীরা সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগও পাবেন। এ সময় ওরিয়ন, চাঁদ ও সূর্য এমনভাবে এক রেখায় আসবে, যে নভোচারীরা প্রায় এক ঘণ্টার জন্য চাঁদকে সূর্যের সামনে দিয়ে চলে যেতে দেখবেন।

নাসা যুক্তরাষ্ট্র সময় সোমবার দুপুর ১টা থেকে এ বিশেষ অভিযান সরাসরি প্রচার শুরু করবে, যা বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১১টা।