১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অনূর্ধ্ব ১৬ বয়সে নিউ জিল্যান্ডেও নিষিদ্ধ হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম

দ্বীপ দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন সোমবার বলেছেন, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে পার্লামেন্টে একটি বিল আনবে তার দল।

অনূর্ধ্ব ১৬ বয়সে নিউ জিল্যান্ডেও নিষিদ্ধ হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম
বিশ্বে সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়াই এমন আইন এনে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেয়। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 04:35 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধে পার্লামেন্টে বিল আনছে নিউ জিল্যান্ড সরকার।

অস্ট্রেলিয়া লাগোয়া দ্বীপ দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন সোমবার বলেছেন, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে পার্লামেন্টে একটি বিল আনবে তার দল। নিয়ম না মানলে প্ল্যাটফর্মগুলোর বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিশ্বে সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়াই এমন আইন এনে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এ সংশ্লিষ্ট আইন পাশ করার পর যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কও অনুরূপ আইন করেছে। 

নিউ জিল্যান্ডের প্রস্তাবিত আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ে ‘যুক্তিসংগত পদক্ষেপ’ নিতে হবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।

প্রধানমন্ত্রী লুক্সন এক বিবৃতিতে বলেন, “একটি প্রজন্মের শিশুদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”

তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তি তৈরি করতে পারে এমন প্রযুক্তি এবং এমন চাপের মুখে ফেলছে, যেগুলো সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি তাদের নেই। এর প্রভাব পড়ছে তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম এবং শিক্ষায়।”

তবে বিলটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। লুক্সনের জোটের অন্যতম শরিক নিউ জিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি বলেছে, তারা বিলটিকে সমর্থন করবে না।

নিউ জিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টির নেতা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, “প্রস্তাবিত আইন এবং এ ধরনের আইন যে দিকে আমাদের দেশকে অনিবার্যভাবে নিয়ে যাবে, সেই বিপজ্জনক ঢাল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হয় অস্ট্রেলিয়া। দেশটি টিকটক, অ্যালফাবেটের ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে এই বয়সী শিশুদের দূরে রাখার আইন করেছে।

পিটার্স অস্ট্রেলিয়ার ওই আইনকে ‘ব্যাপক ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব অভিভাবকদের হওয়া উচিত।

লুক্সনও স্বীকার করেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা সহজ হবে না।

এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি এমন ভান করব না যে এটি সহজ হবে বা সবকিছু নিখুঁত হবে। আমরা প্রতিটি শিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে পারব না। কেউ কেউ সব সময় এর বাইরে যাওয়ার পথ খুঁজে নেবে। কিন্তু সত্যি বলতে, বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ যে অন্তত চেষ্টা না করার কোনো সুযোগ নেই।”