Published : 08 Sep 2026, 04:45 PM
অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পণ্য বাজারে আসার ঠিক আগমুহূর্তে চীনের প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেট বাজারে প্রতিযোগিতা আরও একধাপ বাড়িয়েছে শীর্ষস্থানীয় ফোন নির্মাতা কোম্পানি হুয়াওয়ে ও শাওমি।
সোমবার এ দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোল্ডএবল স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। হুয়াওয়ের নতুন ‘মেট এক্সটি২’ সিরিজের ডিভাইস দুবার ভাঁজ খুলে সরাসরি ট্যাবলেটের আকৃতির স্ক্রিনে রূপান্তর করা সম্ভব।
রয়টার্স লিখেছে, নতুন এ হ্যান্ডসেটটিতে যোগ হয়েছে ‘কিরিন ৯০৫০ প্রো’ প্রসেসর, নতুন ডিজাইনের হিঞ্জ, উন্নত ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স ও বিশেষ এক প্রাইভেসি স্ক্রিন।
এ প্রাইভেসি স্ক্রিনের মাধ্যমে আশপাশে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি চাইলেও ব্যবহারকারীর ডিসপ্লে দেখতে পারবেন না।
নতুন এসব ডিভাইসের দাম শুরু হয়েছে ২ হাজার ৯৮০ ডলার থেকে এবং এর সর্বোচ্চ সংস্করণটির দাম ৩ হাজার ৭২৫ ডলার। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ফোনের বিক্রি শুরু হবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে হুয়াওয়ের নির্বাহী পরিচালক রিচার্ড ইউ বলেছেন, “মেমোরির দাম হঠাৎ করে তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ মুহূর্তে সঠিক দাম নির্ধারণ করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা হ্যান্ডসেটটিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি, যার ফলে আমাদের ওপর খরচের চাপ ছিল বেশি।”
কোম্পানিটি বলেছে, তাদের নতুন এ চিপ ডিজাইন কম বিদ্যুৎ খরচ করে আরও অধিক কম্পিউটিং সক্ষমতা দেবে। ‘লজিকফোল্ডিং’ নামে এ চিপ আর্কিটেকচারটি মে মাসে উন্মোচিত ‘টাও স্কেলিং ল’ নীতিরই একটি অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উন্নত প্রযুক্তির নাগাল পাওয়ার ওপর আরোপিত বিভিন্ন কঠোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে হুয়াওয়ে।
অ্যাপলের দিকে শাওমির চ্যালেঞ্জ
একই দিনে আলাদা আরেকটি লঞ্চ ইভেন্টে নিজেদের এ পর্যন্ত সবচেয়ে প্রিমিয়াম ফোন ‘শাওমি ১৮ ফোল্ড’ উন্মোচন করেছে আরেক চীনা কোম্পানি শাওমি।
নতুন ডিভাইসটিতে ব্যবহৃত হয়েছে শাওমির নিজস্ব ‘মিডিয়াম-ফোল্ড সলিউশন’। ফলে ফোনটি বন্ধ থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট সাইজের মতো ছোট থাকে ও খোলার পর একসঙ্গে তিনটি অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা দেয়।
শাওমির প্রধান নির্বাহী লেই জিউন বলেছেন, অ্যাপল পণ্যের তুলনায় ডিভাইসটির বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুবিধা রয়েছে। ৫ দশমিক ২ মিলিমিটার পুরুত্বের ফোনটি অ্যাপলের আইফোন প্রো ম্যাক্স-এর চেয়েও হালকা, মাত্র ২১৯ গ্রাম ওজন।
বিশেষ এ প্রাইভেসি স্ক্রিনের মাধ্যমে আশপাশে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি চাইলেও ফোন ডিসপ্লের কনটেন্ট দেখতে পারবেন না
হ্যান্ডসেটটিতে শাওমির নিজস্ব ‘এক্সরিং ওথ্রি’ এআই প্রসেসর ব্যবহৃত হয়েছে। লেই জিউন দাবি করেছেন, কার্যসক্ষমতা ও রেসপন্সিভনেসের দিক থেকে ফোনটি অ্যাপলের ‘এ১৯ প্রো’ প্রসেসরের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে।
এ ছাড়া, এতে চীনা মেমোরি চিপ নির্মাতা কোম্পানি সিএক্সএমটি’র সরবরাহকৃত ডির্যাম মেমোরি চিপ ব্যবহৃত হয়েছে।
শাওমি ১৮ ফোল্ড-এর দাম ১ হাজার ৫৪০ ডলার থেকে শুরু করে ২ হাজার ১০০ ডলার।
এ বিষয়ে লেই জিউন বলেছেন, “বর্তমানে মেমোরির দাম অনেক। আমরা বলছি না যে এটা সাশ্রয়ী, তবে এর জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়, তা যথার্থ।”
শীর্ষ ফোল্ডএবল বিক্রেতা হিসেবে স্যামসাংয়ের অবস্থান
বুধবার অ্যাপলের নতুন আইফোন সিরিজ উন্মোচনের ঠিক আগে এসব পণ্য বাজারে এল। এ ছাড়া অ্যাপলও এবার ফোল্ডএবল ফোন আনতে পারে বলে বাজারে জোরালো জল্পনা রয়েছে।
বর্তমান বাজারে হুয়াওয়েই একমাত্র বড় ব্র্যান্ড যারা ট্রাই-ফোল্ড ফোন বিক্রি করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বিবেচনা করে ওয়াশিংটন এ চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টের পণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম ফোল্ডএবল স্মার্টফোন বিক্রেতা দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স গেল ডিসেম্বরে একটি ট্রাই-ফোল্ড ডিভাইস বাজারে আনলেও তিন মাস পরই এর বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।
এরপর জুলাইয়ে তারা পাসপোর্ট সাইজের ফোল্ডএবল ফোন যোগ করে নিজেদের ফোল্ডএবল পণ্যের লাইনআপ বাড়িয়েছে।
পরামর্শক কোম্পানি আইডিসি’র তথ্য অনুসারে, এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ বাজারদর নিয়ে চীনের স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষস্থান দখল করে আছে হুয়াওয়ে।
১৮.১ শতাংশ বাজার নিয়ে এর পরেই রয়েছে অ্যাপল ও ১২ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে শাওমি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা কোম্পানি ‘স্মার্ট অ্যানালিটিক্স গ্লোবাল’ বলছে, ফোল্ডএবল ফোনের বাজারে হুয়াওয়ে আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এককভাবে চীনের বাজারে তাদের ফোল্ডএবল ফোনের চালানের হার ৬৮ শতাংশ।