Published : 26 Jul 2025, 05:02 PM
ইলন মাস্কের বিভিন্ন কোম্পানি যে ধরনের আর্থিক সহায়তা বা সুবিধা সরকার থেকে পাচ্ছে সেগুলো বন্ধ করে কোম্পানিগুলোর ক্ষতি বা ধ্বংস করতে চান না বলে স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এক সময় সুসম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে মাস্ক ও ট্রাম্পের মধ্যকার সম্পর্কে ছেদ পড়েছে। ফলে কেউ কেউ অভিযোগ করেছিলেন, মাস্কের মহাকাশ বিষয়ক কোম্পানি স্পেসএক্স ও মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা টেসলা যেসব প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কাজ করছে তা হয়ত ট্রাম্প বন্ধ করে দিতে পারেন।
তবে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার মাস্কের বিভিন্ন কোম্পানির ওপর ভর্তুকি বাতিলের এই দাবি অস্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “সবাই বলছে, আমি হয়ত কিছু বা বড় ধরনের ভর্তুকি বন্ধ করে দিয়ে ইলন মাস্কের বিভিন্ন কোম্পানিকে ধ্বংস করে ফেলব।
“বিষয়টি সত্যি নয়! আমি চাই ইলন ও আমাদের দেশের অন্যান্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উন্নতি করুক, এমনকি আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে এখন আরও বেশি সমৃদ্ধ হোক মার্কিন বিভিন্ন কোম্পানি!
“কারণ, দেশের কোম্পানি যত ভালো করবে যুক্তরাষ্ট্রও তত উন্নত হবে, যা আমাদের সবার উপকারে আসবে।”
মাস্ক-ট্রাম্পের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছিল ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’-এর বিরোধিতা করে মাস্কের দেওয়া মন্তব্য দিয়ে। পরে ট্রাম্পের যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফরি অ্যাপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আক্রমণ করতে শুরু করেন টেসলার সিইও। ফলে তাদের মধ্যকার এ বাকযুদ্ধ আরও বেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে সিএনবিসি।
জুনে ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধের জেরে মাস্কের কিছু সরকারি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই সময় থেকে এ জুটির মধ্যকার সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই ইলন মাস্ককে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এদিকে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় ২৫ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন মাস্ক।
বুধবার টেসলার দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ের রিপোর্টে কোম্পানিটির সিইও বলেছেন, কিছুটা কঠিন সময় পার করছে টেসলা, যা ‘কয়েক প্রান্তিক’ পর্যন্ত চলতে পারে। শুল্কের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরকারের ইভি ভর্তুকি শেষ হওয়ার ফলে সামনের কিছু সময় কঠিন হতে পারে।
এর আগে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লিভিট বলেছিলেন, প্রশাসন চায় না সরকারি কোনও সংস্থা মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্টআপ এক্সএআই-এর সঙ্গে কাজ করুক।
তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন ঘোষণা করেছে, এক্সএআই ও যুক্তরাষ্ট্রের আরও তিনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানির প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ২০ কোটি ডলারের চুক্তি দিয়েছে তারা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে অনেক বড় ধরনের চুক্তিতে রয়েছে মাস্কের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদার কোম্পানি স্পেসএক্সও।
ফেডারেল ব্যয় ও সরকারি চুক্তি নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘ফেডস্কাউট’-এর তথ্য বলছে, ২০০৮ সাল থেকে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কাজ করে দুই হাজার দুইশো কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ পেয়েছে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরিকারী স্পেসএক্স। যার মধ্যে রয়েছে নাসা, এয়ার ফোর্স, স্পেস ফোর্সের মতো সংস্থার চুক্তিও। তবে এতে গোপন প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত আয়ের পরিমাণ ধরা হয়নি।
মার্কিন বাণিজ্য দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদনে লিখেছে, স্পেসএক্সের সঙ্গে সরকারি চুক্তি ছেঁটে ফেলতে সম্প্রতি কোম্পানিটির বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনাও করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, বেশিরভাগ চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।