১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি ডিভাইসে টিকটক ব্যবহারের অনুমতি ট্রাম্প প্রশাসনের

এর মাধ্যমে দেশটির অধিকাংশ সরকারি ডিভাইসে টিকটক ব্যবহারে ২০২২ সালে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে গেল।

সরকারি ডিভাইসে টিকটক ব্যবহারের অনুমতি ট্রাম্প প্রশাসনের
এ পদক্ষেপের মাধ্যমে টিকটক নিষিদ্ধ করার যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মার্কিন প্রশাসন হেঁটেছিল তার অবসান ঘটল। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 11:28 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন থেকে নির্দ্বিধায় সরকারি ডিভাইসে টিকটক ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাপটি ব্যবহারে তিন বছরের পুরানো নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

অ্যাপটির আমেরিকান মালিকানা ও অ্যালগরিদমে পরিবর্তনের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন থেকে সরকারি কর্মীরা আবারও ডিভাইসে টিকটক ব্যবহার করতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

মার্কিন ‘অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট’ বা ওএমবি’র এক নতুন মেমোতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশটির অধিকাংশ সরকারি ডিভাইসে টিকটক ব্যবহারে ২০২২ সালে আরোপিত আইনি নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে গেল।

ওএমবি’র মেমোতে মার্কিন বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিচার বিভাগ বলেছে, বাইটড্যান্সের অধীনে পরিচালিত আগের টিকটকের সঙ্গে বর্তমান সংস্করণের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

বর্তমানে টিকটকের মার্কিন মালিকানা রয়েছে ও তা সম্পূর্ণ ভিন্ন রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম ব্যবহার করছে। ফলে, ২০২২ সালের নিষেধাজ্ঞাটি আর এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। স্মারকে বলা হয়েছে, “সরকারি ডিভাইসে টিকটক ব্যবহার করা যেতে পারে।”

এ পদক্ষেপের মাধ্যমে টিকটক নিষিদ্ধ করার যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মার্কিন প্রশাসন হেঁটেছিল তার অবসান ঘটল।

চীনের সঙ্গে বাইটড্যান্সের সম্পর্কের জের ধরে জাতীয় নিরাপত্তাকে কারণ দেখিয়ে ২০২২ সালে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের অধিকাংশ ডিভাইসে অ্যাপটি নিষিদ্ধ হয়।

তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রেই টিকটককে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এ ঝুঁকির প্রকৃত ধরণ নিয়ে নীতি নির্ধারকদের মধ্যে বিতর্কও ছিল।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা টিকটকের নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও আইনপ্রণেতারা ব্যবহারকারীদের গোপন তথ্য বা ডেটা সংগ্রহের ধরণ ও চীনা সরকারের প্রভাবে এর অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রিত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পাশ করা এক আইনের আওতায় টিকটকের চীনা মালিক কোম্পানি বাইটড্যান্সকে কোনো মার্কিন কোম্পানির কাছে অ্যাপটি বিক্রি অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রে পুরোপুরি নিষিদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার।

সেই জটিলতার জের ধরে গেল বছর কিছুদিনের জন্য দেশটিতে অ্যাপটির পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়। ডনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যাপটি পুনরায় সক্রিয় হয় ও এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ সংস্করণটিকে মূল কোম্পানি থেকে আলাদা করার চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়।

মার্কিন সংস্করণের টিকটক এখন নিয়ন্ত্রণ করছে ‘টিকটক ইউএসডিএস জয়েন্ট ভেঞ্চার’ নামের এক কোম্পানি, যার অর্থায়নে রয়েছে ওরাকল, সিলভার লেইকসহ মার্কিন শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের একটি দল।

তবে টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের কাছে এখনও এই নতুন সত্তার ১৯.৯ শতাংশ শেয়ার রযেছে।

বিচার বিভাগের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে টিকটকে কনটেন্ট পোস্ট করা শুরু করেছে।

এর ধারাবাহিকতায় গেল মাসেই দেশটির পরিবহন বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ নতুন টিকটক অ্যাকাউন্ট চালু করেছে। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘হোয়াইট হাউস’ এ বছরই তাদের অফিসিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্ট চালু করেছে।