ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছিল গুগল; ধোপে টেকেনি সে আপিল। জরিমানা সামান্য কমিয়ে চারশ ১৩ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
Published : 14 Sep 2022, 07:16 PM
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে বাজারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মামলায় শেষ রক্ষা হলো না গুগলের। আপিলের পরেও চারশ কোটি ডলারের জরিমানা বহাল রেখেছে ইউরোপের আদালত।
ইউরোপীয় কমিশন আগেই রায় দিয়েছিল, বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে অনৈতিকভাবে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে প্রতিযোগীদের পথ আটকেছে গুগল। ওই রায়ে গুগলকে চারশ ৩৪ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছিল গুগল; ধোপে টেকেনি সে আপিল। জরিমানা সামান্য কমিয়ে চারশ ১৩ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
রয়টার্স বলছে, অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় রেকর্ড জরিমানা এটি। এক দশকের বেশি সময়ের পুরনো তিনটি অভিযোগের তদন্তে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনকে সব মিলিয়ে আটশ ২৫ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপীয় কমিশন।
প্রথম মামলার রায়ে দুইশ ৪২ কোটি ডলার জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেও হেরেছিল গুগল।
বুধবারের রায়ে আদালত বলেছে, “গুগল বাজারে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিনের আধিপত্য নিশ্চিত করতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল নির্মাতা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের ওপর বেআইনি বিধিনিষেধ দিয়েছিল বলে কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আদালত তা নিশ্চিত করেছে।”
এমন পরিস্থিতিতে অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় বিবেচনায় নিয়েই জরিমানার আকার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। তবে, জরিমানা নির্ধারণে কমিশন যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েছিল, তার সঙ্গে আদালতের বিবেচনায় নেওয়া বিষয়গুলোর কিছু পার্থক্যও ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিচারক।
এখনও ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে গুগলের। কোম্পানির এক মুখপাত্র রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “আমরা আশাহত যে আদালত আগের রায় পুরোপুরি বাতিল করে দেয়নি। সবার জন্যই আরও বেশি সুযোগ তৈরি করেছে অ্যান্ড্রয়েড, এবং ইউরোপ এবং বিশ্ব জুড়ে হাজারো সফল ব্যবসাকে সমর্থন দিচ্ছে।”
ইউরোপের আদালতের এই রায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যান্টিট্রাস্ট প্রধান মার্গ্রেথ ভেস্টেগারের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মন্তব্য করেছে রয়টার্স। চলতি বছরে ইনটেল ও কোয়ালকমের মতো অন্য প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে করা মামলাতে জয় পাননি তিনি।
‘বিগ টেক’ নামে পরিচিত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা পরিচালনা করে আলোচনায় আছেন ভেস্টেগার। তাকে অনুসরণ করে প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাগাম টেনে ধরার তৎপরতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের বাজারনিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
বর্তমানে গুগলের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবসা নিয়ে তদন্ত করছেন ভেস্টেগার। মেটার সঙ্গে গুগলের ‘জেডাই ব্লু’ বিজ্ঞাপনী চুক্তি, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর নীতিমালা, মেটার মার্কেটপ্লেস এবং ব্যবহারকারীদের ডেটার ব্যবহার এবং অ্যামাজনের অনলাইন ব্যবসা কৌশলও তদন্ত করে দেখছেন তিনি।