Published : 18 Aug 2026, 10:11 AM
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সফটওয়্যারে বড় পরিবর্তনের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ওয়ানপ্লাস।
এমন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ২০২৬ সালে এসে নতুন ওয়ানপ্লাস হ্যান্ডসেট কেনা আদৌ যৌক্তিক নাকি ঝুঁকিপূর্ণ? এ প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া জরুরি।
যারা ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন তাদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে ডিভাইসের পারফর্মেন্স, সঠিক দাম ও সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা।
মাঝখানে কোম্পানিটি কয়েকটি মডেল নিয়ে খানিকটা ধাক্কা খেলেও সাম্প্রতিক কয়েক প্রজন্মের হ্যান্ডসেট দিয়ে তারা আবারও নিজেদের ‘ফ্ল্যাগশিপ কিলার’ পরিচিতি ধরে রাখতে পেরেছে।
ওয়ানপ্লাস ১৫ রিভিউয়ের সময়ও ক্যামেরার কিছু বিষয় ছাড়া ব্যবহারকারীদের অভিযোগের জায়গা ছিল না বললেই চলে। ৯০০ ডলার দামের এ ফোনের সমান পারফর্মেন্স, দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ ও চমৎকার সফটওয়্যার অভিজ্ঞতার বিকল্প অন্য কোনো ব্র্যান্ডে খুঁজে পাওয়া কঠিন।
তবে মাসের পর মাস গুঞ্জন চলার পর অবশেষে এ বছরের জুলাইয়ে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ওয়ানপ্লাস।
ওয়ানপ্লাসের ব্র্যান্ড পরিচয়ের মূলে ছিল তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘অক্সিজেনওএস’। ভক্তরা যদি কাঙ্ক্ষিত সেই সফটওয়্যার অভিজ্ঞতাই না পান, তবে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত জেনেও এমন ব্র্যান্ডের ডিভাইসে বিনিয়োগ করা নিশ্চিতভাবেই কঠিন।
‘অক্সিজেনওএস’-এর বিদায়
শক্তিশালী ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের পাশাপাশি ওয়ানপ্লাসের সবচেয়ে বড় শক্তি ও জনপ্রিয়তার মূল জায়গাটি হচ্ছে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যময় সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা।
বাজারে নিজেদের প্রথম হ্যান্ডসেট ‘ওয়ানপ্লাস ওয়ান’-এর সূচনাতেই অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয় ‘সায়ানোজেনমোড’ ব্যবহার করে নজর কেড়েছিল কোম্পানিটি। পরবর্তীতে তারা বাজারে নিয়ে আসে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘অক্সিজেনওএস’।
ক্লিন ও ব্লোটওয়্যার ছাড়া ইন্টারফেইসের পাশাপাশি কাস্টমাইজেশনের নানান সুবিধা থাকায় ইউজারদের কাছে সিস্টেমটি দ্রুতই প্রশংসিত হয়। ওয়ানপ্লাসের যে কোনো রিভিউতেই অক্সিজেনওএস-এর ফিচার নিয়ে পর্যালোচকদের প্রশংসা চোখে পড়া ছিল খুবই সাধারণ।
তবে দীর্ঘদিনের সেই পরিচিত অভিজ্ঞতা এবার বদলাতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এরইমধ্যে বিক্রি হওয়া ফোনগুলোতে সার্ভিস সাপোর্ট বন্ধ না করলেও নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের সুবিধা পেতে গ্রাহকদের এখন শিফট করতে হবে ‘কালারওএস’-এ।
এ অপারেটিং সিস্টেমটি মূল কোম্পানি অপো’র স্মার্টফোনগুলোতে ব্যবহৃত হয়। স্বভাবতই এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওয়ানপ্লাসের অনুরাগী ও গ্রাহকরা।
সম্প্রতি যারা অপোর কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করেছেন তারা ওয়ানপ্লাসের সঙ্গে পাশাপাশি রেখে তুলনা করলে বুঝতে পারবেন যে দুটি ইন্টারফেইস এখন দেখতে প্রায় একই রকম।
বাস্তবতা হচ্ছে, ২০২১ সাল থেকেই ওয়ানপ্লাস ও অপো একই কোডবেইস ব্যবহার করে তাদের সফটওয়্যার তৈরি করে আসছে। ফলে অক্সিজেনওএস থেকে কালারওএসে রূপান্তরে ব্যবহারকারীরা ফিচারের দিক থেকে খুব বেশি কিছু মিস করবেন না।
অক্সিজেনওএসের তুলনায় অপোর কালারওএসে কিছু বাড়তি ও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ‘ব্লোটওয়্যার’ বেশি থাকে। পাশাপাশি ওয়ানপ্লাসের নিজস্ব কিছু সিগনেচার টাচ বা ‘ইস্টার এগ’ যদি নতুন সিস্টেমে বাদ পড়ে যায় তবে তা অনুরাগীদের জন্য নিঃসন্দেহে হতাশাজনক হবে।
উচ্চ ঝুঁকি, সেরা অভিজ্ঞতা
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ওয়ানপ্লাসের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার খবর যখন বাতাসে ভাসছিল তখন ২০২৬ সালের শুরুতেই ওয়ানপ্লাস ১৫ মডেলের দিকে নজর যায় প্রযুক্তিপ্রেমীদের।
সব আশঙ্কা পেছনে ফেলে ডিভাইসটি কেনার সিদ্ধান্তটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আকর্ষণীয় ফিচারের কারণে লোভ সামলানো অনেকের জন্যই কঠিন। স্যামসাং বা অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ বিভিন্ন ফোনের তুলনায় এর দাম ছিল কম।
সামান্য দুর্বল ক্যামেরা ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার বদলে মিলেছে ঝলমলে ওএলইডি ডিসপ্লে, স্ম্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসর, চোখধাঁধানো ১২০ ওয়াটের দ্রুততম চার্জিং এবং যে কোনো অ্যান্ড্রয়েড স্কিনের চেয়ে ক্ষিপ্র সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা।
এ ছাড়া অ্যাপলের মতো ব্যবহারকারীদের নিজেদের ইকোসিস্টেমে বন্দি করে ফেলে না ওয়ানপ্লাস। কোনো গ্রাহক যদি ওয়ানপ্লাসের কোনো ইয়ারবাডস বা স্মার্টওয়াচ কেনেন, তবে অন্য ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ডসেটের সঙ্গে যোগ করলেও কোনো মূল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয় না।
দিনশেষে হিসাবটা সহজ, কালারওএসে অভ্যস্ত হতে আপত্তি না থাকলে গ্রাহকরা ওয়ানপ্লাস বেছে নিতেই পারেন। ওয়ানপ্লাস ১৫ ও ১৫আর উভয় মডেলই চারটি প্রধান অ্যান্ড্রয়েড ওএস আপডেট ও ছয় বছরের নিরাপত্তা প্যাচ পাওয়ার কথা রয়েছে।
পাশাপাশি, যে কোনো বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য ওয়ানপ্লাসের সাপোর্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে এবং সব ওয়ারেন্টি সুবিধা বহাল রাখার আশ্বাস দিয়েছে কোম্পানিটি।