০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু নিপীড়নের ছবি অনলাইনে হু হু করে বাড়ছে: আইডব্লিউএফ

বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিপীড়নের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন আইডব্লিউএফ।

শিশু নিপীড়নের ছবি অনলাইনে হু হু করে বাড়ছে: আইডব্লিউএফ

বিশ্লেষকদের দেখা ছবিগুলোর বড় একটা অংশ ছিল মেয়ে শিশুদের। এদের বয়স সাত থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 10:22 AM

Updated : 06 Oct 2026, 10:22 AM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন বা আইডব্লিউএফ।

সংগঠনটির বিশ্লেষকদের তথ্য অনুসারে, এ বছরের প্রথমার্ধেই এ ধরনের যতগুলো অবৈধ উপাদানের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে তা গেল বছরের মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন আইডব্লিউএফ বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিপীড়নের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে। তারা বলেছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তারা ৬ হাজার ৩১০টি এআই ছবি মূল্যায়ন করেছে, যা শিশু যৌন নিপীড়নের আইনি সংজ্ঞার আওতায় পড়ে।

গত বছর মোট সংখ্যাটি ছিল ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি, যার তুলনায় এ বছরের এই পরিসংখ্যান প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। গেল কয়েক বছর ধরেই এআইয়ের তৈরি শিশু নিপীড়নের উপাদানের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

ভিডিওর ক্ষেত্রে এর বিশাল উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে।

আইডব্লিউএফ-এর সর্বশেষ এ পরিসংখ্যান কেবল স্থির ছবির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিশ্লেষকদের দেখা ছবিগুলোর বড় একটা অংশ ছিল মেয়ে শিশুদের ও এদের বয়স সাত থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।

এ পরিস্থিতি এআই প্রযুক্তির ওপর নতুন বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে বলে মনে করে আইডব্লিউএফ।

যুক্তরাজ্যের এআই মন্ত্রী কনিষ্কা নারায়ণ বলেছেন, নতুন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ‘কোনো কিছুই সম্ভাবনার বাইরে নয়’। তবে যে কোনো আইনি প্রস্তাবের মূল পরীক্ষা হবে এই প্রশ্ন, “এটা কি ব্রিটিশ জনগণকে নিরাপদ করবে?”

আইডব্লিউএফ-এর পলিসি প্রধান হান্না সুইর্স্কি পার্লামেন্ট মেম্বারদের এমন দাবির প্রতি জোরালো সমর্থনে বলেছেন, “প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর এমন টুল তৈরি করার দায়িত্ব রয়েছে, যা এই উপায়ে অপব্যবহার করা যায় না”।

সমস্যাটি প্রযুক্তির মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে ও কোম্পানিগুলো যদি ডিজাইন থেকেই নিরাপদ এমন টুল তৈরি না করে, তবে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

যুক্তরাজ্যে এআইয়ের সাহায্যে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান সম্পূর্ণ অবৈধ ও এ ধরনের উপাদান তৈরিতে কোনো এআই মডেল পরিবর্তন করা বা এই ধরনের মডেল অন্যদের মধ্যে বিতরণ করাও সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান তৈরির জন্য কোনো মডেল তৈরি করলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এ বিষয়ে একজন সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাজ্যের আইন স্পষ্ট, শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান বেআইনি, তা এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি হোক বা না হোক। আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে এমন এআই মডেলগুলোকে নিষিদ্ধ করছি, যা এই ধরনের অপব্যবহারের উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।”

এআই প্রযুক্তির কারণে অনলাইন অপরাধীরা এখন শিশুদের স্পষ্ট ছবি তৈরির সুযোগ পাচ্ছে। এসব ছবি অনলাইনে দেখানো থেকে ব্লক করার সেবা ‘রিপোর্ট রিমুভ’ শিশুরা ভুয়া বা কারসাজি করে স্পষ্ট করে তুলেছে বলে বিশ্বাস করে এমন ছবি সম্পর্কিত ৪২০টি রিপোর্ট পেয়েছে। সংখ্যাটি এরইমধ্যে গেল বছরের মোট ৩৯৭টি রিপোর্টের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

অনৈতিক উপাদান তৈরির জন্য এআই টুলের এ ব্যবহার ঠেখাতে ‘ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি’ ও ‘ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন’ মা-বাবা ও অভিভাবকদের নিজেদের শিশুদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এ নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট রাখা বা কেবল ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের গ্রুপের মাধ্যমে শিশুদের ছবি শেয়ার করার কথা বলেছে।