সূচক টানা তিন দিন বাড়লেও গতি ফেরেনি লেনদেনে

কেবল ২০টি কোম্পানির ১০ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এক লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, এমন কোম্পানির সংখ্যা ৯৭টি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Oct 2023, 10:26 AM
Updated : 12 Oct 2023, 10:26 AM

অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের একটি লেখাকে ঘিরে পুঁজিবাজারে ছড়িয়ে পড়া ‘আতঙ্ক’ কাটতে শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই কর্মদিবসে দরপতনের পর টানা তিন দিন বাড়ল সূচক।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ১৩ পয়েন্টসহ তিন দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ৩৯ পয়েন্ট।

তবে সূচক বাড়লেও ঘুরে ফিরে কিছু কোম্পানির শেয়ার হাতবদলের প্রবণতা থেকে বের হতে পারেনি পুঁজিবাজার।

এদিন ১১২টি কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৩১টির দর। ১৬৫টি কোম্পানি আগের দিনের দরে ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হয়েছে।

মোট ৩০৮টি কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হলেও বলার মতো লেনদেন হয়েছে একশরও কম কোম্পানিতে।

কেবল ২০টি কোম্পানির ১০ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এক লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, এমন কোম্পানির সংখ্যা ৯৭টি। তবে এসব কোম্পানির আরও লাখ লাখ শেয়ার বিক্রির জন্য বসানো থাকলেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৮৫টি কোম্পানির একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি এদিন।

সূচক বাড়লেও লেনদেন কিছুটা কমে গেছে। দিনভর হাতবদল হয়েছে ৮১৮ কোটি ২৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা, আগের দিন যা ছিল ৪৩০ কোটি টাকার কিছুটা বেশি।

একদিন পর সাধারণ বীমা খাত লেনদেনে শীর্ষ স্থান ফিরে পেয়েছে। এই খাতের একটি ছাড়া সব শেয়ারের দরও বেড়েছে। আগের দিন শীর্ষে লেনদেনের থাকা খাদ্য খাত নেমে এসেছে দ্বিতীয় অবস্থানে। 

আতঙ্ক কী নিয়ে ছিল

চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ২৪ পয়েন্টর পর সোমবার সূচক আরও ৭ পয়েন্ট কমে যাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছাড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সহসভাপতি আহমেদ রশিদ লালী এই দরপতনের বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কয়েকটি কারণে আমাদের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি বিষয় আছে। এর মধ্যে একটি পত্রিকায় লেখা হয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পদক্ষেপ আসছে। এই দুইয়ে মিলে জনমনে যে অস্থিরতা, তা বাজারেও আতঙ্ক তৈরি করেছে।

“দ্বিতীয়ত আমাদের অর্থনীতির যেসব সূচক আছে, যেমন রিজার্ভ, রেমিট্যান্স, সেগুলোর নিম্নমুখী। এর কারণেও আতঙ্ক বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা ভাবছেন, ‘একটু দেখি, কী হয়’।” 

বীমার ইউটার্ন

গত কয়েক মাস ধরেই পুঁজিবাজারে ঘুরে ফিরে বীমা খাতের প্রাধান্য চলে আসছে। এই খাতের দুই ধরনের কোম্পানির মধ্যে সাধারণ বীমা নিয়ে আলোচনাই বেশি। কোনো দিন এই খাতের শেয়ারগুলোর দল বেঁধে দর হারায়, কোনোদিন একসঙ্গে বাড়ে দাম।

আগের দিন সাধারণ বীমার ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছিল ৩৫টি। আজ বেড়েছে ৪০টির, দুটি কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে আগের দিনের দরে।

খাতওয়ারি লেনদেনেও শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধা্র করেছে সাধারণ বীমা। এদিন মোট লেনদেনের এক চতুর্থাংশ হয়েছে এই খাতে, আগের দিন যা নেমে যায় ১৬ শতাংশে।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে তিনটি ছিল সাধারণ বীমার। তবে কমপক্ষে ৯ শতাংশ দর বেড়েছে এমন তিনটি কোম্পানির দুটিই এই খাতের।

সব মিলিয়ে সাধারণ বীমার দুটি কোম্পানির শেয়ার ৯ শতাংশের বেশি, একটি ৮ শতাংশের বেশি, ১০টি কোম্পানির ৪ শতাংশের বেশি, আটটির ৩ শতাংশের বেশি, নয়টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।

জীবন বীমা খাতের ১৫টি কোম্পানির মধ্যে সাতটির দর বেড়েছে, একটির লেনদেন হয়নি আর বাকি ৭টি কোম্পানি আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে।

এর মধ্যে একটির দর ৫ শতাংশের বেশি, একটির ৩ শতাংশের বেশি এবং তিনটির দর বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।

দুই ধরনের বীমা কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ১০২ কোটি টাকার বেশি যা ছিল মোট লেনদেনের ২৭ শতাংশের বশি।

লেনদেনের খাদ্য খাতের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ২০ শতাংশ, দাম বেড়েছে ৯টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ৭টির।

দর বৃদ্ধির দিক দিয়ে খাতওয়ারি হিসাবে সাধারণ বীমার পর সবচেয়ে ভালো করেছে বিবিধ খাত। এই খাতের ১৪টি কোম্পানির মধ্যে লেনদেন হয়েছে ১১টির। দর বেড়েছে ৮টির, কমেছে একটির, দুটির লেনদেন হয়েছে আগের দিনের দরে। 

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ও ন্যাশনাল ফিডমিলসের শেয়ারদর ৯ শতাংশের বেশি, ন্যাশনাল টি কোম্পানি নর্দার্ন ইনস্যুরেন্সের দর ৮ শতাংশের বেশি, ওয়াইম্যাক্সের দর ৬ শতাংশের বেশি, সোনালী আঁশ, প্রগতি লাইফ, মিডিল্যান্ড ব্যাংক ও আরামিট ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। 

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৪.৯৬ শতাংশ দর হারিয়েছে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ। এছাড়া বিডিকম ৩ শতাংশের বেশি, মেঘনা সিমেন্ট, এপেক্স ট্যানারি, সিপার্ল, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ ২ শতাংশের বেশি, ফুওয়াং ফুডস, আইএসএন, বিডিঅটোকার ও দেশবন্ধু পলিমার এক শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।