Published : 26 Jun 2023, 03:39 PM
বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশকে ‘উপহার’ দিয়ে ঈদের ছুটিতে গেল পুঁজিবাজার। শেষ দিনের লেনদেনে বাড়ল বীমা ও বস্ত্রের শেয়ারদর।
সোমবার এ দুই খাতের চাঙ্গাভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৮ পয়েন্ট। এ নিয়ে টানা চতুর্থ কর্মদিবস এবং মুদ্রানীতি ঘোষণার পর আট দিনের মধ্যে সাত দিনই বাড়ল সূচক।
মুদ্রানীতি ঘোষণার আগের সপ্তাহে যে ৭২ পয়েন্ট পতন হয়েছিল, পরের কয় দিনে পুনরুদ্ধার হল তার ৬৩ পয়েন্ট।
এই লেনদেনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের ছুটিতে গেল পুঁজিবাজার। ঈদের পর আগামী রোববার হবে পরবর্তী লেনদেন।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসের সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনও। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৬৩৯ কোটি টাকার শেয়ার, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭৭০ কোটি ৪৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
লেনদেনের শীর্ষে যথারীতি বীমা খাত। আর এই খাতের দুই ধরনের কোম্পানির মধ্যে আগ্রহ বেশি জীবন বীমার। তবে দিনের একটি সময় এই খাতকে টেক্কা দিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছিল বস্ত্র খাত।
শেষ পর্যন্ত জীবন বীমায় ৯০ কোটি ৭০ লাখ এবং সাধারণ বীমায় ২৪ কোটি ২০ লাখ মিলিয়ে এই খাতে হাতবদল হয়েছে ১১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
বস্ত্র খাতে হাতবদল হয়েছে ৯০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
৫০ কোটি টাকার বেশি হাতবদল হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিকে। ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে প্রকৌশল, তথ্য প্রযুক্তি এবং বিবিধ খাতে।
সব মিলিয়ে বেড়েছে ১২৮টি কোম্পানির শেয়ারদর, কমেছে ৪৬টির আর ২০০টি কোম্পানির শেয়ার আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে।
সব মিলিয়ে ৩৯৩টি কোম্পানির মধ্যে হাতবদল হয়েছে ৩৭৪টির শেয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে একদিনে এত বেশি শেয়ারের লেনদেন দেখা যায়নি।
দুই খাতের সম্মিলিত উত্থান বহুদিন পর
ঈদুল ফিতরের পর থেকে পুঁজিবাজারের গতি প্রকৃতি বীমা খাতের উত্থান পতনের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছিল। যখন এই খাত টানা বাড়ছিল, তখন অন্য খাতে আগ্রহ ছিল কম। পরে যখন সংশোধন শুরু হয়, তখন লোকসানি ও স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে আধিপত্য দেখা দেয়। তবে বীমা খাড়া অন্য কোনো খাতে একসঙ্গে অনেকগুলো শেয়ারের দরে লাফ দেখা যায়নি।
এই চিত্র পাল্টে এতদিন ফ্লোরে থাকা অনেকগুলো কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হলো দর বেড়ে।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ কোম্পানির চারটি ছিল বস্ত্র খাতের। এই চারটি কোম্পানিই মাসের পর মাস ফ্লোর প্রাইসে ক্রেতা খুঁজে পায়নি।
তবে এ খাতের শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারগুলোর চাহিদা তৈরি হয়নি এখনও।
এ খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৮টির, কমেছে চারটির। বাকি ৩৬টি কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হয়েছে।
প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে ইভিন্স টেক্সটাইলস ও ঢাকা ডায়িংয়ের। সাড়ে ছয় শতাংশের বেশি বেড়েছে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ও জাহিন স্পিনিং মিলসের।
আরও একটি করে কোম্পানির দর যথাক্রমে ৫ ও ৪ শতাংশের বেশি, দুটি করে কোম্পানির দর যথাক্রমে তিন ও দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে।
অন্যদিকে জীবন বীমার ১৫টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির, দুটির দর ছিল অপরিবর্তিত।
এর মধ্যে একটি কোম্পানির দর ৬ শতাংশের বেশি, একটির ৫ শতাংশের বেশি, পাঁচটির ৪ শতাংশের বেশি, দুটির দর বেড়েছে তিন শতাংশের বেশি।
সাধারণ বীমার ৪২টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৩১টির দর, কমেছে দুটির, আটটির দর ছিল অপরিবর্তিত। বাকি একটির লেনদেন হয়নি।
দর বৃদ্ধির হার খুব বেশি না হলেও আগের কয়েক দিন বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের পর দল বেঁধে এই উত্থান এই খাতের বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দেবে।
এদিন লেনদেনে শীর্ষে ছিল বীমা খাত। কাছাকাছি ছিল ওষুধ ও রসায়ন। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, তথ্য প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং বস্ত্র খাত ছিল এর পরের অবস্থানে।
দুই ধরনের বীমা কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৪৪ লাখ, যা আগের দিন ছিল ১২৩ কোটি টাকারও বেশি।
ওষুধ ও রসায়নে ৭১ কোটি ৭০ লাখ, খাদ্যে ৫৫ কোটি ২০ লাখ, তথ্য প্রযুক্তিতে ৪৪ কোটি ৮ লাখ, প্রকৌশলে ৪৩ কোটি এবং বস্ত্রে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
এছাড়া কাগজ খাতে ছয়টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে একটির দর, ওষুধ ও রসায়নে চারটি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ৯টির দর।
খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে সাতটি কোম্পানির দর পতনের বিপরীতে বেড়েছে আটটির, বিদ্যুৎ জ্বালানিতে একটির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে সাতটির দর।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে যারা
সবচেয়ে বেশি ৯.৯৫ শতাংশ দর বেড়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের। শীর্ষে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ইভিন্স টেক্সটাইলস, ঢাকা ডায়িং, ইমাম বাটন, খুলনা পেপার মিলস, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস, জাহিন স্পিনিং মিলস, রূপালী লাইফ, প্রগ্রেসিভ লাইফ ও নিটোল ইন্স্যুরেন্স।
পতনের শীর্ষে ফের জেডে ফেরা কোম্পানি
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, আর্থিক হিসাব দেয় না, এমন বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ছিল অস্বাভাবিক হারে।
এমন কিছু কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে পাঠিয়ে রোববার বিজ্ঞপ্তি দেয় ডিএসই। এরপ থেকে টানা দুই দিন সার্কিট ব্রেকার পর্যন্ত কমে লেনদেন শেষ করল সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ও নর্দার্ন জুট।
জেডে ফেরা আরএসআরএম স্টিলের দর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি।
দরপতনের শীর্ষে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ফাইন ফুডস, মুন্নু অ্যাগ্রো, দুলামিয়া কটন, সেন্ট্রাল ফার্মা, বঙ্গজ, সমতা লেদার ও মেট্রো স্পিনিং মিলস।
এসব কোম্পানির দর ৪.৫৪ শতাংশ থেকে ১.৭৯ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।